শক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
ফিচার

যেভাবে ধ্বংস হয়েছে হরপ্পা সভ্যতা

নবীন নিউজ, ডেস্ক ০৩ সেপ্টেম্বার ২০২৪ ১০:৩৪ এ.এম

সংগৃহীত ছবি

একটা সময় দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তৃর্ণ এলাকা ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতো।  ওই সময় অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে কর্মরত এক কর্মকর্তার হাতে ১৮২৯ সালে পোড়ামাটির কয়েকটি ফলক এসে পৌঁছায়।

এক ইঞ্চি দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ বিশিষ্ট ওই ফলকগুলোর গায়ে অপরিচিত একটি বর্ণমালা ব্যবহার করে কিছু লেখা ছিল। আর এক একটি ফলকের গায়ে খোদিত ছিল এক একটি প্রাণীর ছবি। সেগুলোর মধ্যে রূপকথার এক শিং বিশিষ্ট ইউনিকর্ন সদৃশ্য প্রাণীর ছবি সবচেয়ে বেশি খোদাই করা ছিল। এই ফলকগুলো ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানীদের একেবারে ধাঁধায় ফেলে দিয়েছিল। 

তারা ফলকগুলোর উৎস আবিষ্কার এবং এগুলো নির্মাণকারীদের সম্পর্কে জানার তৎপরতা শুরু করলো। এরপর গঠন করা হলো আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া। এই সংস্থার অনুসন্ধানে পাঞ্জাবের হরপ্পায় সুপ্রাচীন এক জনপদের সন্ধান পাওয়া যায়। জনপদটি হরপ্পা সভ্যতা হিসেবে পরিচিত।

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার কাজ প্রথম দশক পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে ভাটা পড়ে। ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর লর্ড কার্জনের উদ্যোগে সংস্থাটি আবারও কাজ শুরু করে। গবেষণায় উঠে আসে একের পর তথ্য। সুপ্রাচীন এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু নদ অববাহিকায়। নৃবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য, প্রায় সাড়ে ৮ হাজার বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ার সিন্ধু নদের অববাহিকায় কৃষি বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। ওই সময় সিন্ধু নদের পাশাপাশি স্বরসতী নামে আরেকটি নদী এই অববাহিকায় প্রবাহিত হতো। তিব্বতের পার্বত ভূমি থেকে উৎপন্ন এই দুইটি শক্তিশালী জলধারা একত্রিত হয়ে আরব সাগরে মিলিত হতো। বছরে দুইবার এই দুইটি নদীর তীর বন্যায় আক্রান্ত হতো। গ্রীষ্মে হিমালয়ের পর্বতের বরফগলা পানি আর বর্ষাকালে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারণে সিন্ধু অববাহিকা এলাকার মাটি ছিল খুব উর্বর। 

খিস্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দে যাত্রা করা এই সভ্যতার নিয়ন্ত্রণে থাকা বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান থেকে পূর্বে ভারতের উত্তর প্রদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে বর্তমান ভারতের গুজরাট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এখন পর্যন্ত এই সভ্যতায় দেড় হাজারের বেশি জনপন আবিষ্কৃত হয়েছে। যেগুলো হারিয়ে যাওয়া স্বরসতী নদীর তীরে অবস্থিত। এই জনপদগুলো ছিল যেমন আধুনিক, তেমন ছিমছাম এবং গোছানো। এই জনপদের অধিবাসীদের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের কোনো নজির নেই বললেই চলে। প্রায় দুই হাজার বছর ধরে টিকে থাকা এই জনপদগুলো ভীনদেশি হানাদারদের হামলাও সহ্য করেনি কখনো। এই সভ্যতায় পাওয়া নিদর্শনগুলোতে কোনো রাজপ্রাসাদ বা ধর্মীয় উপাসনালয় ছিল না। 

হরপ্পার মানুষদের জীবনযাত্রার মান ছিল যথেষ্ট উন্নত। আধুনিক যুগে যেভাবে তেল দিয়ে রান্না করা হয়, হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরাও সেভাবেই রান্না করতো। সিন্ধুলিপির নিদর্শন থেকে ধারণা করা হয়, হরপ্পাবাসীদের একটা অংশ জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিল। তারা কৃষিকাজ ছাড়াও নানা ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজ করতো। হরপ্পার মানুষেরা কুঠার, বর্শা, ছোরা, তীর-ধনুকের ব্যবহারও জানতো।

হরপ্পাবাসীরা অবসরে পাশা খেলতো, শিকার করতো এবং ষাঁড়ের খেলার আয়োজন করতো। নগরে খাদ্যের অভাব ছিল না। অধিকাংশ ফসলই নিজেরা উৎপাদন করতো। গবেষণায় পাওয়া তথ্য, সে সময় চিকিৎসা ব্যবস্থা তেমন আধুনিক ছিল না। হরপ্পার জনগণের গড় আয়ু ছিল মাত্র ত্রিশ বছর। কেউ মারা গেছে সরাসরি কবর দেওয়া হতো অথবা মৃতদেহ পুড়িয়ে তার ছাই কবর দেয়া হতো।

বিশেষজ্ঞদের ধারনা এই জনপদ রাজপরিবারের পরিবর্তে প্রতিনিধি পরিষদের দ্বারা পারিচালিত হতো। আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার বছর আগে এই জনপদের অধিবাসীরা তাদের প্রিয় শহর ছেড়ে চলে যায়। এরপর প্রায় চার হাজার বছর ধরে এই জনপদগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। 

অধ্যাপক গুরুদীপ সিং বলেছেন, ২২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ সিন্ধু নদ অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। কৃষি বিপর্যস্ত হয় এবং জীবনযাপন কঠিন হযে পড়ে। প্রচুর গাছ কাটা হয় এবং প্রাণীজ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নানা রকম সংকট তৈরি হয়।

পুরাতাত্ত্বিকরা বলেন, খ্রিষ্টপূর্ব ১৯০০ পরবর্তী হরপ্পার সঙ্গে মহেঞ্জোদারোর ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা পড়ে। ফলে কারিগরি শিল্পের ভাটা পড়ে। শিল্পের উৎপাদন এবং বিনিময় কেন্দ্র হিসেবে নগরগুলো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

বলা হয়, সম্ভবত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে অধিবাসীরা এই জনপদ ফেলে চলে যায়। এই মতের পক্ষে স্বরসতী নদী শুকিয়ে যাওয়া অন্যতম কারণ।

এক কথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে না পেরে সুসজ্জিত হরপ্পা সভ্যতার মানুষ ছেড়ে যায় তাদের জনপদ।

নবীন নিউজ/জেড

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

স্ত্রীর কথা শুনে চলা পুরুষের রোগের ঝুঁকি কম থাকে

news image

ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে রং বদলাতে পারে যে শিয়াল

news image

‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ কতটা ভয়াবহ

news image

প্রেমের টানে মানুষের রেকর্ডকে হার মানিয়েছে তিমি

news image

বিশ্বের সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক পাখি’, হত্যা করতে পারে মানুষকেও

news image

যেসব পেশাজীবীদের মধ্যে ডিভোর্সের হার বেশি

news image

সোনারগাঁ লোকজ উৎসব পানামনগর, যেখানে মিলবে গ্রামীন ছোঁয়া…

news image

প্রপোজের পর পছন্দের মানুষ রাজি হলে উত্তম, না হলেও বা ক্ষতি কী!

news image

যে কাঠের মূল্য প্রতি কেজি ৮ লাখ টাকা!

news image

যে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে ‘এক-এগারো’

news image

যেসব ভুলের কারণে পাসপোর্ট অফিস থেকে ফিরে আসতে হতে পারে

news image

স্বাদুপানির মাছের ২৪ শতাংশ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে

news image

ডিভোর্স: কেমন আছেন ঢাকার একক মায়েরা

news image

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির রঙ লাল কেন?

news image

মোনালিসার ছবি এত ভুবন বিখ্যাত হওয়ার কারণ কী?

news image

প্রিয়জনকে ঝুড়িভরা ফুল উপহার দেওয়ার দিন আজ

news image

১৭ বছর পর্যন্ত ক্ষোভ মনে পুষে রাখতে পারে কাক!

news image

আজ থেকে জেন বিটা প্রজন্ম শুরু

news image

জেন জি’র যুগ শেষ, আসছে জেন বিটা

news image

৯ মস্তিষ্কের অধিকারী অক্টোপাসের জ্ঞানের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীরা

news image

আগুনের দেশ আজারবাইজান

news image

পাখির সঙ্গে সংঘর্ষে কীভাবে বিমান বিধ্বস্ত হয়?

news image

কে এই সান্তা ক্লজ, কেন তিনি লাল পোশাক পরেন?

news image

ব্ল্যাকহোল কি সত্যিই বাষ্পীভূত হয়?

news image

নার্সারি ওয়েব মাকড়সা কেন স্ত্রীকে বেঁধে রাখে?

news image

১৫০০ বছরের মৃতদের নগরী, যেখানে রয়েছে ৬০ লাখ কবর!

news image

এই ক্যাফেতে ৫ সেকেন্ড নাচলেই কফি ফ্রি!

news image

দেড় লাখ টাকায় সোনার চা, রূপার কাপ ফ্রি

news image

সমুদ্রের ৭,৯০০ মিটার গভীরতায় আবিষ্কার হলো শিকারি অ্যামফিপড

news image

বাজেটের মধ্যেই ঘুরে আসুন বিশ্বের ৫ দেশে