নবীন নিউজ, ডেস্ক ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৪৯ এ.এম
রাজধানীর নিকটবর্তী একটি জেলা নারায়ণগঞ্জ। এর একটি উপজেলা সোনারগাঁ। দূরত্ব কম থাকার দরুন এবং দেখার মতো অনেক কিছু আছে। পর্যটন সমৃদ্ধ এই নগরীতে কী কী দেখবেন, সেসব কিছু নিয়েই আজকের গল্প!
লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর
সোনারগাঁয়ের একটি আকর্ষণীয় জায়গা হচ্ছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। পানাম নগরের সঙ্গে জাদুঘরের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। তাই সোনারগাঁ ঘুরতে গেলে সহজেই এ দুটি জায়গা ঘুরে দেখা যায়।
লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর তৈরির ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, আবহমান গ্রাম বাংলার লোক সাংস্কৃতিক ধারাকে বিকশিত করার উদ্যোগে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১২ মার্চ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরীর একটি পুরোনো বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। পরে ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে ১৫০ বিঘা আয়তনের কমপ্লেক্সে খোলা আকাশের নিচে বাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশে গ্রামীণ রূপকেন্দ্রিক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের শৈল্পিক কর্মকাণ্ডের পরিচয় তুলে ধরতে শিল্পী জয়নুল আবেদিন এই জাদুঘর উন্মুক্ত পরিবেশে গড়ে তোলার প্রয়াস নেন এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সটি প্রায় ১০০ বছর পুরোনো সর্দার বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। এই জাদুঘরে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে। প্রবেশ করার পর চোখে পড়বে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের একটি ভাস্কর্য, ঈশা খাঁর ভবন, গরুর গাড়ির ভাস্কর্য ইত্যাদি। জাদুঘরের ভেতরে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নৌকার ক্ষুদ্র সংস্করণ, কাঠের দরজা, মূল্যবান জিনিস রাখার কাঠের বাক্স, নকশিকাঁথা, নকশিকাঁথায় বাংলাদেশের মানচিত্র, কাঠের পালঙ্ক এবং আরো অনেক নিদর্শন।
প্রাকৃতিক পরিবেশবেষ্টিত জাদুঘরটি অন্য আট-দশটি জাদুঘরের মতো নয়, এ জাদুঘরের আবেদন অন্যরকম। জাদুঘরের ভেতরে শান্ত জলাধারও আছে। আছে কেনাকাটার জন্য কিছু স্থায়ী দোকানপাট। সব মিলিয়ে বারবার ঘুরতে যাওয়ার ও বাঙালি সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখার মতো অনিন্দ্য সুন্দর একটি জাদুঘর এটি। জাদুঘরের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। জাদুঘরের ভেতরে ঈশা খাঁর বাড়ি বা বড় সর্দার বাড়ি দেখতে চাইলে, সেক্ষেত্রে প্রবেশমূল্য মোট ১৫০ টাকা।
কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব
সোনারগাঁয়ে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে প্রতি বছর কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব হয়। এ মেলাটি বেশ জনপ্রিয়। প্রতি বছর জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত মাসব্যপী হয় এই মেলা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, শিল্পসাহিত্য, সংস্কৃতি এবং হস্তশিল্প, কারুশিল্প প্রদর্শনী ও বিক্রির মাধ্যমে জনসাধারণের মনে এসব সংরক্ষণের প্রতি আরো সচেতনতা ও ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা এই মেলার লক্ষ্য।
অনেকটা জায়গাজুড়ে মেলা বসেছে। বাহারি পণ্যের সমাহার। কী নেই সেখানে? মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিস, হাতে বোনা পোশাক, গহনা, বিভিন্ন ধরনের খেলনা, শীতলপাটি, নকশিপাখা, লক্ষীসরা থেকে শুরু করে সব আছে। শুধু তাই নয়, অনেক খাবারের দোকানও দেখতে পেলাম। ছোটবেলায় মেলায় ঘুরতে গেলে যেসব খাবার চোখে পড়ত, তেমন অনেক খাবারের আয়োজন রয়েছে। এমনকি শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইডও রয়েছে। দামও একদম হাতের নাগালে। এটি এমন একটি প্রাণের মেলা, যেখানে বারবার ছুটে যেতে ইচ্ছে করবে।
পানাম নগর
নারায়ণগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী পুরোনো নগর হচ্ছে পানাম নগর। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক ছুটে আসেন এই পানাম নগর দেখতে।এখানে কয়েক শতাব্দী পুরোনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূঁইয়াদের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, প্রাচীন সোনারগাঁয়ে বড় নগর, খাস নগর এবং পানাম নগর নামে তিনটি শহর ছিল। তার মধ্যে পানাম নগর ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী। ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছিল এই নগরের বিস্তৃতি। বাংলার প্রথম রাজধানী কিন্তু ছিল এই সোনারগাঁয়েই; যা ১৫ শতকে ঈশা খাঁ স্থাপন করেছিলেন। মূলত পানাম ছিল বাংলার সে সময়ের ধনী ব্যবসায়ীদের বাসস্থান। সেসব ব্যবসায়ীর ব্যবসা ছিল ঢাকা-কলকাতাজুড়ে। তারাই গড়ে তোলেন এই নগর। সুলতানি আমল থেকে এখানে বিকশিত ছিল বাংলার সংস্কৃতি; যা আজও বহমান।
পানামে এখন যে বাড়িগুলো টিকে আছে, তার স্থাপত্যশৈলী দেখে মুগ্ধ হতে হয়। অনুমান করা যায়, তখনকার সময়ে নগরটি সত্যিই ভীষণ সমৃদ্ধ এবং সাজানো গোছানো ছিল। পথের দুপাশের সারি সারি বাড়ি পরিকল্পিত একটি নগরের চিত্রই তুলে ধরে। সেখানে কিছু পুকুরও আছে। একসময় সেসব শান বাঁধানো পুকুরঘাটেও জৌলুস ছিল। এখন সবই ভগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে। তবু তা দেখেও মন জুড়িয়ে যায়। পানাম নগরের প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা।
সাবদি বন্দর
নারায়ণগঞ্জের সাবদি গ্রাম দুটি কারণে বেশি পরিচিত। প্রথমত, সাবদি বন্দর। দ্বিতীয়ত, ফুল চাষের জন্য। শীত মৌসুমে সেখানে অনেক সরিষার চাষ হয়। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারির দিকে টগর, কাঠমালতি, গাঁদা, ডালিয়া, জিপসি এমন অনেক ফুলে ছেয়ে থাকে পুরো সাবদি গ্রাম। সাবদি বন্দরে যাওয়ার জন্য বাস থেকে চাষাড়া নেমে নৌকায় নদী পার হয়ে রিকশাতেই পৌঁছে যাওয়া যায়।
সাবদির অন্যতম একটি জনপ্রিয় খাবার বৌয়া ভাত (খুদের ভাত) ও ভর্তা। প্রতি শুক্রবার সকালে সাবদি বাজারে পাওয়া যায় এই খাবারটি। তাই সেখানে যদি শুক্রবারে যাওয়া হয়, তাহলে এ খাবারটা মিস করা ঠিক হবে না। আর জায়গাটি একটু ভেতরে হওয়ায়, ঘুরতে গেলে নিরাপত্তার জন্য সন্ধ্যার আগেই সেই স্থান ত্যাগ করা উচিত।
কীভাবে যাবেন
সোনারগাঁ যেতে ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ কিংবা বোরাক বাসে চড়ে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় নামতে হবে। ভাড়া ৬৫ টাকা। সেখান থেকে অটো বা রিকশায় যেতে হবে জাদুঘর অথবা পানাম নগরে। ভাড়া জনপ্রতি ২০-৩০ টাকা। যেতে পথে প্রথমে পড়বে জাদুঘর। প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে। আর নারায়ণগঞ্জ যেতে গুলিস্তান থেকে বিআরটিসি বাসে চড়তে পারবেন। ভাড়া নেবে ৪৫ টাকা।
নবীন নিউজ/জেড
স্ত্রীর কথা শুনে চলা পুরুষের রোগের ঝুঁকি কম থাকে
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে রং বদলাতে পারে যে শিয়াল
‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ কতটা ভয়াবহ
প্রেমের টানে মানুষের রেকর্ডকে হার মানিয়েছে তিমি
বিশ্বের সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক পাখি’, হত্যা করতে পারে মানুষকেও
যেসব পেশাজীবীদের মধ্যে ডিভোর্সের হার বেশি
সোনারগাঁ লোকজ উৎসব পানামনগর, যেখানে মিলবে গ্রামীন ছোঁয়া…
প্রপোজের পর পছন্দের মানুষ রাজি হলে উত্তম, না হলেও বা ক্ষতি কী!
যে কাঠের মূল্য প্রতি কেজি ৮ লাখ টাকা!
যে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে ‘এক-এগারো’
যেসব ভুলের কারণে পাসপোর্ট অফিস থেকে ফিরে আসতে হতে পারে
স্বাদুপানির মাছের ২৪ শতাংশ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে
ডিভোর্স: কেমন আছেন ঢাকার একক মায়েরা
ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির রঙ লাল কেন?
মোনালিসার ছবি এত ভুবন বিখ্যাত হওয়ার কারণ কী?
প্রিয়জনকে ঝুড়িভরা ফুল উপহার দেওয়ার দিন আজ
১৭ বছর পর্যন্ত ক্ষোভ মনে পুষে রাখতে পারে কাক!
আজ থেকে জেন বিটা প্রজন্ম শুরু
জেন জি’র যুগ শেষ, আসছে জেন বিটা
৯ মস্তিষ্কের অধিকারী অক্টোপাসের জ্ঞানের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীরা
আগুনের দেশ আজারবাইজান
পাখির সঙ্গে সংঘর্ষে কীভাবে বিমান বিধ্বস্ত হয়?
কে এই সান্তা ক্লজ, কেন তিনি লাল পোশাক পরেন?
ব্ল্যাকহোল কি সত্যিই বাষ্পীভূত হয়?
নার্সারি ওয়েব মাকড়সা কেন স্ত্রীকে বেঁধে রাখে?
১৫০০ বছরের মৃতদের নগরী, যেখানে রয়েছে ৬০ লাখ কবর!
এই ক্যাফেতে ৫ সেকেন্ড নাচলেই কফি ফ্রি!
দেড় লাখ টাকায় সোনার চা, রূপার কাপ ফ্রি
সমুদ্রের ৭,৯০০ মিটার গভীরতায় আবিষ্কার হলো শিকারি অ্যামফিপড
বাজেটের মধ্যেই ঘুরে আসুন বিশ্বের ৫ দেশে