বুধবার ২৭ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
স্বাস্থ্য

যেভাবে দুধ চা খেলে বাড়বে না ওজন

নবীন নিউজ, ডেস্ক ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:১১ এ.এম

ঘুম থেকে উঠে এক মগ চা হাতে না বসলে অনেকেরই দিন ভালো কাটে না। চায়ের ক্ষেত্রে একেকজনের পছন্দ একেকরকম। কারও পছন্দ দুধ বা মাসালা চা, কারও আবার রঙ চা। কিন্তু সবার ই চা চাই ই চাই । 
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে গ্রিন টি, হোয়াইট টি কিংবা ওলং চা উপকারী। যারা ওজন কমাতে গিয়েও দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস বন্ধ করতে পারছেন না; তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমানো কষ্টকর।

দুধ ও চিনিতে অনেক ক্যালোরি থাকায় ওজন বেড়ে যায়। তবে জানেন কি? স্বাস্থ্যকর এক উপায়ে নিয়মিত দুধ চা খেলেও ওজন বাড়বে না বরং কমবে। জেনে নিন কীভাবে স্বাস্থ্যকর দুধ চা তৈরি করবেন-

যা যা লাগবে

১. পানি ২ কাপ
২. কোকো পাউডার ১ চা চামচ
৩. চা পাতা ১/২ চা চামচ
৪. আদা
৫. দারুচিনি
৬. গুড় আধা চা চামচ
৭. দুধ ২-৩ চা চামচ

প্রস্তুত প্রণালী

একটি ছোট প্যানে ২ কাপ পানিতে আদা ও দারুচিনি ফুটিয়ে নিন কিছুক্ষণ। ২ মিনিট পর চা পাতা ও দুধ মিশিয়ে দিন ফুটন্ত পানিতে। পানি যখন শুকিয়ে এক কাপ পরিমাণ হয়ে যাবে তখন চা ছড়িয়ে দিন। এরপর গুড় ও কোকো পাউডার দিয়ে দিন। হয়ে গেল আপনার স্বাস্থ্যকর দুধ চা।

সাধারণ দুধ চা ও এ চায়ের মধ্যকার পার্থক্য-

আপনি যখন দুধ চা বানিয়ে থাকেন; তখন নিশ্চয়ই দুধ ও চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। অথচ এ চায়ে কিন্তু দুধের পরিমাণ অনেক কম থাকছে। সেইসঙ্গে চিনির বদলে প্রাকৃতিক চিনি অর্থাৎ গুড় থাকছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

সাধারণ দুধ চায়ের থেকে এ চায়ে ক্যালোরির পরিমাণ অনেকটাই কম। এ ছাড়াও এ চায়ে থাকা ভেষজ মশলাগুলোরও অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। দিনে দু’বার এ চা পান করতে পারেন।

এ চায়ে থাকা আদা ও দারুচিনি উভয়ই বিপাকক্রিয়া উন্নত করে। চর্বি পোড়াতে সহায়তা করে। অন্যদিকে কোকো পাউডার ফাইটোনুট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ। এটিও বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। সেইসঙ্গে ক্ষুধা কমায়। গুড় দ্রুত শরীরের মেদ কমাতে সাহায্য করে।
অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ে দুধ মেশালে এর অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের পরিমাণ কমে যেতে পারে। আর পরিশোধিত চিনি ক্যালরি ছাড়া তেমন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারে দেয় না। চিনি কতটুকু দিচ্ছেন, কোন দুধ ব্যবহার করছেন এবং দিনে কতবার চা খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে ওজন বাড়ার সম্পর্ক আছে।

ওজন বাড়ার ওপর দুধ চায়ের প্রভাব ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ভিন্ন হতে পারে। বয়স, বংশগতি, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ, জীবনধারা ও সামগ্রিক খাদ্যের মতো কিছু কারণ প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন কম বয়সের ব্যক্তি, যাঁরা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের চেয়ে যাঁরা বয়স্ক বা প্রবীণ, তাঁদের অলস জীবনধারা কম শারীরিক পরিশ্রমের কারণে দুধ চা থেকে ক্যালরি পোড়াতে কম সক্ষম। তবে দুধ চা খাওয়ার নিয়ম বা কৌশল জানলে ওজন বাড়ার ভয় থেকে কিছুটা মুক্ত থাকা যায়।

দুধ চা খাওয়ার সঠিক নিয়ম
১. বাজারে অনেক ধরনের দুধ পাওয়া যায়, যেমন লো-ফ্যাট, টোনড মিল্ক, ফুলক্রিম গুঁড়া দুধ ইত্যাদি। এসব দুধের পুষ্টিগুণ এক হলেও ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ আলাদা। তাই দুধ চা খেতে হবে চর্বি ছাড়া।

২. খেইয়াল রাখতে হবে দুধ চা বানানোর সময় দুধ যেন পাতলা হয় আর পানির পরিমাণ যেন বেশি থাকে। এতে দুধ সহজেই হজম হবে, গ্যাস বা অ্যাসিডিটি হবে না। 

৩. চায়ে আছে ক্যাফেইন আর দুধে আছে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল। অতিরিক্ত চা খেলে ক্যাফেইনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীরে নানান সমস্যা হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে দুধ চা পান করুন। সারাদিনে এক থেকে দুবার।

৪. দুধ চায়ে পরিশোধিত চিনি ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক চিনি স্টিভিয়া ব্যবহার করতে পারেন, বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে। আর যাঁদের ডায়াবেটিস নেই কিংবা কোনো শারীরিক জটিলতা নেই, তাঁরা চিনির পরিবর্তে অল্প পরিমাণ লাল চিনি, গুড়, মধু ব্যবহার করতে পারেন।

৫. দুধ চায়ে আদা, দারুচিনি, এলাচি মিশিয়ে খেলে মেটাবলিজম উন্নত করে চর্বি পোড়াতে সাহায্য করবে । সেসাথে ওজনও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

৬. দুধ চায়ে চিনি ছাড়া মেশাতে পারেন কোকো পাউডার। কোকো পাউডার ফাইটোনিউট্রিয়েন্টসমৃদ্ধ, যা ক্ষুধা কমায় এবং এতে ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

৭. দুধ চায়ে থাকে থিওফাইলাইন, যার ফলে শরীরে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। এর ফলে হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা। এ জন্য দুধ চা খাওয়ার আগে পানি খেয়ে নেবেন।

৮. খালি পেটে চা খাবেন না। এতে পেপটিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। এ ছাড়া খালি পেটে চা খেলে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে কিডনির সমস্যা হতে পারে।

৯. ঘুমাতে যাওয়ার সময় চা খাবেন না। এতে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি অনিদ্রার সমস্যা হতে পারে।

১০. ভারী খাবারের পরপরই চা খাওয়া উচিত নয়। এতে শরীরে আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্কের শোষণ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এ জন্য খাবার খাওয়ার পর কমপক্ষে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অপেক্ষা করুন। বিশেষ করে যাঁদের থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁরা এটি মেনে চলুন।

১১. দুধ চা অতিরিক্ত গরম করলে ট্যানিন বের হয় বেশি, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই দীর্ঘসময় ধরে অতিরিক্ত গরম করবেন না।

১২. কনডেন্সড মিল্কে ক্যালরি অনেক বেশি। তাই কনডেন্সড মিল্ক ব্যবহার করবেন না।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের যে অভ্যাস ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা করবে

news image

স্বাস্থ্যের ডিজির সঙ্গে অশোভন আচরণের দায়ে ডা. ধনদেবকে অব্যাহতি

news image

কোভিডের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বার্ড ফ্লু

news image

সকালের কিছু ভুল অভ্যাসেই বাড়তে পারে হার্টের ঝুঁকি

news image

মুখ ও গলায় এই ৫ লক্ষণ হলে সতর্ক থাকুন, হতে পারে কিডনি সমস্যা

news image

শরীরের যে ১০ লক্ষণ ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়

news image

‘অপারেশনের ভয়ে’ হাসপাতালের ১০ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে রোগীর মৃত্যু

news image

বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হতে পারে লিভার ক্যান্সার

news image

আজ থেকে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন বিসিএস চিকিৎসকরা

news image

তরমুজের বিচি খেলে কী হয় জানেন?

news image

ইফতারে স্যালাইন খাচ্ছেন, জানেন কী হয়?

news image

দেশে প্রথমবার জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত, আক্রান্ত ৫ জন

news image

দূষিত বায়ু বাড়াচ্ছে অটিজমের ঝুঁকি

news image

ভোরে ঘুম থেকে উঠলে হতে পারে যেসব ক্ষতি

news image

লিভারের ক্ষতি করে যে ৩ পানীয়

news image

ব্রেস্ট ক্যানসার শনাক্ত করার সঠিক পদ্ধতি

news image

সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা জানেন?

news image

ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণ ও সাধারণ চিকিৎসা

news image

শিশু রোগীদের ক্যানসারের ওষুধ ফ্রিতে প্রদানের ঘোষণা ডব্লিউএইচও’র

news image

ওষুধের দাম নির্ধারণ কোম্পানির হাতে, ঠুঁটো জগন্নাথ অধিদপ্তর

news image

নস্টালজিয়া নামের এক রোগ যেভাবে এখন একটি আবেগের নাম

news image

ত্বকের উজ্জলতা ধরে রাখতে প্রতিদিন কত গ্লাস পানি পান করা জরুরি?

news image

যেসব লক্ষণে হতে পারে ব্রেস্ট ক্যান্সার

news image

পচে যাচ্ছে দীপংকরের পা, খোঁজ নিচ্ছে না কেউ!

news image

মানসিক রোগের শারীরিক লক্ষণ

news image

শ্বেতী রোগ কেন হয়, এটি কি নিরাময়যোগ্য অসুখ?

news image

প্রতিদিন চিয়া সিড খাওয়া কি ভালো?

news image

শিশুর নাক ডাকা কোনও রোগের লক্ষণ নয়তো!

news image

অনবরত হাঁচি থেকে মুক্তি পেতে

news image

কথায় কথায় বুকজ্বালা