জলদস্যুরা কেন এতো শক্তিশালী?
এ যেন ভিনি,ভিসি,ভিডি। অর্থাৎ এলাম, দেখলাম জয় করলাম। তবে এ জয় কল্যানের নয় ভয়ের। বলছিলাম সোমালিয়ান জলদস্যুদের কথা।
প্রায়ই জাহাজ ছিনতাইয়ের খবর পাওয়া যায় সোমালিয়ায়। মাত্র ১০ থেকে ২০ জলদস্যু মিলেই ছিনতাই করে নিয়ে যায় বিশাল সব পণ্যবাহী জাহাজ। সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার মূল পথ হলো মুক্তিপণ।
মঙ্গলবার বাংলাদেশি একটি জাহাজ ছিনতাই করে ২৩ জন নাবিককে জিম্মি করেছে তারা। লোহিত সাগরে হুথিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক বাহিনীগুলো বেশি ব্যস্ত থাকার সুযোগে ভারত মহাসাগরের গালফ অব এডেনে তারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সোমালি জলের ডাকাত।
কয়লাবাহী এম ভি আবদুল্লাহ আফ্রিকার মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিল। ভারত মহাসাগর দিয়ে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ সময় ১২ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এমভি আবদুল্লাহ সোমালীয় জলদস্যুদের কবলে পড়ে। বাংলাদেশি জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিতে মাত্র ১৫ মিনিট লাগে জলদস্যুদের। অস্ত্রধারী ১০০ জলদস্যু এমভি আবদুল্লাহ নামে কয়লাবাহী জাহাজটির নিয়ন্ত্রন নেয়।
এ সময় জাহাজের এক নাবিকের করা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায় ছোট ছোট মটর চালিত বোট নিয়ে জাহাজটিতে ওঠার চেষ্টা করে জলদস্যুরা। যা দ্রুত গতির পাশাপাশি বড় জাহাজের রাডারে সহজে ধরা পড়ে না এই মটরচালিত নৌকা।
ভিডিওটিতে দেখা যায় জাহাজটিতে ওঠার সময় জলদস্যুদের হাতে বন্দুক ছিল । জাহাজে ওঠার পরই সবাইকে জিম্মি করে ফেলে জলদস্যুরা। এর আগে, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর আরব সাগরেই সোমালীয় জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল একই প্রতিষ্ঠানের এমভি জাহানমণি নামে অন্য একটি জাহাজ। জাহাজের ২৫ বাংলাদেশি নাবিকের পাশাপাশি ক্যাপ্টেনের স্ত্রীসহ ২৬ জনকে ১০০ দিন জিম্মি করে রেখেছিল সোমালিয়ান জলদস্যুরা।
পরবর্তীতে নানা প্রক্রিয়ায় ২০১১ সালের ১৪ মার্চ জিম্মিদের মুক্তি দেয়া হয়। ১৫ মার্চ তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো কীভাবে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটে আসছে? এই জলদস্যুরাই বা কারা? আর সোমালিয়ার জলদস্যুরা এত শক্তিশালী হলো কীভাবে?
জলদস্যুদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দস্যুদের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- AK47, AKM, Type56, TT33, RPK, RPG-7 এবং PK, তাছাড়া RGD-5 ও F1 এর মতো শক্তিশালী হাত বোমাও তারা ব্যবহার করে থাকে।
ইতিহাস বলছে, প্রাচীনকালে সোমালিয়া ছিল একটি জরুরি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। মধ্যযুগে বেশ কয়েকটি সোমালি সাম্রাজ্য আঞ্চলিক বাণিজ্যের নেতৃত্ব দিত। ষাটের দশকে ‘আধুনিক সোমালিয়া’র কাহিনী ছিল স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের।
কিন্তু ১৯৬৯ সালে দেশটির দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট আলী শারমার তারই দেহরক্ষীদের হাতে নিহত হন এবং সোমালিয়া পার্লামেন্টের স্পিকার মুখতার মোহামেদ হুসেইন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তবে ছয় দিনের মাথায় জেনারেল সিয়াদ বারের নেতৃত্বে সংঘটিত হয় এক সামরিক অভ্যুত্থান। মূলত তখনই অবসান ঘটে সোমালিয়ার গণতান্ত্রিক যুগের। দেশটিতে সামরিক স্বৈরাচারী শাসন চলে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত।
সামরিক স্বৈরাচারী শাসনের সময়েই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, ভেঙে পড়ে সমাজব্যবস্থা। লাখ লাখ মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয় নেয় প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে। অনেকে শরণার্থী হয়ে চলে যায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। মূলত এরপর থেকেই শুরু হয় সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতার উত্থান।
একবিংশ শতকের প্রথম দিকে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা মূলত সেখানে অবৈধভাবে মাছ ধরার ফলে সৃষ্টি হয়েছিল।
ডিআইডব্লিউ এবং মার্কিন হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির মতে, বিদেশি জাহাজ থেকে সোমালি উপকূলে বিষাক্ত বর্জ্য ডাম্পিং করার ফলে স্থানীয়দের বসবাসের হুমকিস্বরূপ পরিবেশ তেরি হয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় জেলেরা স্বশস্ত্র দলে বিভক্ত হয়ে বিদেশি জাহাজ ওই অঞ্চলে প্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে বিকল্প আয় হিসেবে তারা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ মুক্তিপণের জন্য ছিনতাই করা শুরু করে।
২০০৯ সালে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, সোমালিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশের মতো উপকূলবর্তী সম্প্রদায় দেশের জলসীমার মধ্যে বিদেশি জাহাজের প্রবেশ বন্ধে জলদস্যুতাকে শক্তভাবে সমর্থন করে। এমনকি সোমালিয়ার অনেক সরকারি কর্মকর্তা জলদস্যুদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেও জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অনেক বিশ্লেষকের মতে, সোমালিয়ায় জলদস্যুতা এখন বিশাল বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য দেশে থাকা সোমালিরা এই ব্যবসায় বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগও করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, সোমালিয়ার সেনাবাহিনী, সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা এমনকি অন্যান্য দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী এই লুটের টাকার ভাগ পায় থাকে।
বিশাল মুনাফার কারণে সোমালিয়ার অনেক যুদ্ধবাজ গোত্র নেতারাই সুসংগঠিত উপায়ে ‘জলদস্যু ব্যবসা’ শুরু করেছে। দলে দলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তরুণরা জলদস্যুদের দলে নাম লেখাচ্ছে। তবে এমনসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যের মূল সদস্যরাই রয়ে গেছে পর্দার আড়ালে।
নবীন নিউজ/জেড
স্ত্রীর কথা শুনে চলা পুরুষের রোগের ঝুঁকি কম থাকে
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে রং বদলাতে পারে যে শিয়াল
‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ কতটা ভয়াবহ
প্রেমের টানে মানুষের রেকর্ডকে হার মানিয়েছে তিমি
বিশ্বের সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক পাখি’, হত্যা করতে পারে মানুষকেও
যেসব পেশাজীবীদের মধ্যে ডিভোর্সের হার বেশি
সোনারগাঁ লোকজ উৎসব পানামনগর, যেখানে মিলবে গ্রামীন ছোঁয়া…
প্রপোজের পর পছন্দের মানুষ রাজি হলে উত্তম, না হলেও বা ক্ষতি কী!
যে কাঠের মূল্য প্রতি কেজি ৮ লাখ টাকা!
যে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে ‘এক-এগারো’
যেসব ভুলের কারণে পাসপোর্ট অফিস থেকে ফিরে আসতে হতে পারে
স্বাদুপানির মাছের ২৪ শতাংশ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে
ডিভোর্স: কেমন আছেন ঢাকার একক মায়েরা
ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির রঙ লাল কেন?
মোনালিসার ছবি এত ভুবন বিখ্যাত হওয়ার কারণ কী?
প্রিয়জনকে ঝুড়িভরা ফুল উপহার দেওয়ার দিন আজ
১৭ বছর পর্যন্ত ক্ষোভ মনে পুষে রাখতে পারে কাক!
আজ থেকে জেন বিটা প্রজন্ম শুরু
জেন জি’র যুগ শেষ, আসছে জেন বিটা
৯ মস্তিষ্কের অধিকারী অক্টোপাসের জ্ঞানের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীরা
আগুনের দেশ আজারবাইজান
পাখির সঙ্গে সংঘর্ষে কীভাবে বিমান বিধ্বস্ত হয়?
কে এই সান্তা ক্লজ, কেন তিনি লাল পোশাক পরেন?
ব্ল্যাকহোল কি সত্যিই বাষ্পীভূত হয়?
নার্সারি ওয়েব মাকড়সা কেন স্ত্রীকে বেঁধে রাখে?
১৫০০ বছরের মৃতদের নগরী, যেখানে রয়েছে ৬০ লাখ কবর!
এই ক্যাফেতে ৫ সেকেন্ড নাচলেই কফি ফ্রি!
দেড় লাখ টাকায় সোনার চা, রূপার কাপ ফ্রি
সমুদ্রের ৭,৯০০ মিটার গভীরতায় আবিষ্কার হলো শিকারি অ্যামফিপড
বাজেটের মধ্যেই ঘুরে আসুন বিশ্বের ৫ দেশে