নবীন নিউজ, ডেস্ক ১৩ ডিসেম্বার ২০২৪ ১১:৪৪ এ.এম
ব্যবসা বড় করতে কিংবা ব্যবসা সংক্রান্ত কোনও আর্থিক ঝামেলা মেটাতে দরকার টাকা। এই অর্থ সংগ্রহের জন্য একজন ব্যবসায়ী বাজারে ঋণপত্র বা বন্ড ছেড়ে নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন। তবে লাভ হোক বা না হোক যার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন তাকে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে সুদ বা কুপন ফেরত দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, চীনের মত বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশে বন্ডের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। বন্ডের বাজারে বাংলাদেশ এখনও শিক্ষানবিশ বলা যায়। তবে বন্ডের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে সংশয়।
সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির বিপরীতে বন্ড ইস্যু করছে। এসব বন্ডের কোনো কোনোটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে লেনদেন হচ্ছে। আবার কিছু বন্ড কেনা-বেচা হচ্ছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে। আছে সরকারের ট্রেজারি বন্ড। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে যেসব বন্ড ইস্যু করা হয়, সেগুলো শেয়ারবাজারের মাধ্যমে কেনা-বেচা করা যায় না। সাধারণত বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান বা বন্ডের ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব বন্ড কেনা-বেচা করতে হয়।
বন্ড কী?
বন্ড হচ্ছে এক ধরনের ঋণপত্র বা ঋণচুক্তি। এ বন্ড বিক্রি করে সাধারণ মানুষ বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মূলধন বা অর্থ সংগ্রহ করে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান। এই অর্থের দরকার কোনো প্রতিষ্ঠানের হতে পারে আবার খোদ সরকারেরও হতে পারে। এ ঋণপত্র ছেড়ে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।
স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত অথবা তালিকা-বহির্ভূত কোন কোম্পানি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন নিয়ে বাজারে ঋণপত্র ছেড়ে তার বিপরীতে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। এক্ষেত্রে কোম্পানির আয় হোক বা না হোক বন্ড হোল্ডারদের চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে সুদ বা কুপন দিতেই হবে।
বন্ডের প্রকারভেদ
সরকার থেকে শুরু করে ব্যক্তি পর্যায়ের কোম্পানি যে কেউ বাজারে বন্ড ইস্যু করতে পারে বা ছাড়তে পারে। সাধারণভাবে আমাদের দেশে বন্ড দুইভাবে পরিচিত; ট্রেজারি বন্ড এবং করপোরেট বন্ড। করপোরেট বন্ডের মধ্যে আবার দুটি ভাগ আছে। এর একটি ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বন্ড, বর্তমানে যা দেশে সুকুক বন্ড হিসেবে পরিচিত। আর অন্যটি কনভেনশনাল বন্ড। কনভেনশনাল বন্ড আবার কয়েক ধরনের।
ট্রেজারি বন্ড সাধারণত সরকারের পক্ষ থেকে ছেড়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সরকারের হয়ে ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণত ট্রেজারি বন্ড বিভিন্ন মেয়াদি হয়ে থাকে। যেমন ২ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর ও ২০ বছর মেয়াদি।
সবচেয়ে পরিচিত কুপন নির্ভর বন্ড। কুপননির্ভর বন্ড হচ্ছে এমন বন্ড, যার বিপরীতে মুনাফা বা সুদ নির্দিষ্ট করে কুপন ইস্যু করা হয়। এ ধরনের বন্ড আবার দুই রকমের। পারপিচুয়াল বা স্থায়ী বন্ড , অন্যটি মেয়াদি বন্ড। পারপিচুয়াল বন্ডের কোনো মেয়াদ থাকে না। আর মেয়াদি বন্ড নির্ধারিত মেয়াদ শেষে বাতিল হয়ে যায়।
অন্যদিকে আলোচিত বা পরিচিত জিরো কুপন বন্ডও একটি মেয়াদি বন্ড, যা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ছাড়া হয়। পারপিচুয়াল বন্ডে কুপন বা সুদের যে হার নির্ধারিত থাকে বিনিয়োগকারীরা সে অনুযায়ী সুদ লাভ করতে পারে।
বন্ড কীভাবে কিনবেন
ট্রেজারি বন্ড:
এই বন্ড সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যু করে। ব্যাংক বা পুঁজিবাজার থেকে ট্রেজারি বন্ড কেনা যায় তবে সব ব্যাংক ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে না। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োজিত ডিলার ব্যাংকই ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে। যে ব্যাংক ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে, সেই ব্যাংকে হিসাব খুলে এ বন্ড কেনা যাবে। আর শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বন্ড কেনার ক্ষেত্রে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স বা বিও হিসাব থাকতে হবে।
সরকারের বাইরে বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যে বন্ড ইস্যু করে, তার অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বন্ড ছাড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও অনুমতির দরকার হয়। কোনো বন্ড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে লেনদেন হয়, আবার কিছু বন্ড কেনা-বেচা হয় প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে। যখন বন্ড বাজারে ছাড়া আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েই ছাড়া হয়।
সাধারণত সব বন্ড সবাই কিনতে পারে না। বন্ড ইস্যুর আগেই ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি নিজেরাই ঠিক করে নেয় কাদের কাছে তারা এ বন্ড বিক্রি করবে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে বন্ডের অনুমোদন নেয়া হয়।
বন্ড কতটা নিরাপদ?
যেকোনো ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের বন্ডে বিনিয়োগ করছেন। ব্যাংকের আমানত বা ডিপোজিট রেখে যে সুদ পাওয়া যায়, সাধারণত বন্ডের মুনাফা বা সুদ তার চেয়ে কিছুটা বেশি দেয়া হয়, আবার নিরাপত্তাও আছে। এ কারণে বন্ড এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় পণ্য হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। অনেক সময় বন্ড বা শেয়ারের ধারণাকে অনেকে মিলিয়ে ফেলেন এবং বন্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। বিষয় দুটি একদমই এক নয়।
শেয়ার হচ্ছে কোম্পানির মালিকানার অংশ এবং বন্ড হচ্ছে ঋণচুক্তি। যখন আপনি কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনবেন সেই কোম্পানি যদি লাভ করে তবেই শেয়ার হোল্ডাররা লাভ পাবেন, লস হলে পাবেন না। কিন্তু বন্ডের ক্ষেত্রে লাভ হোক বা লস বন্ড হোল্ডারকে চুক্তি অনুযায়ী সুদ দিতে হবে। এমনকি বন্ডের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে, মেয়াদ শেষ হলে যারা বন্ড কিনেছেন ঋণকৃত সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাবেন। যা শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষেত্রে কখনই সম্ভব নয়।
আবার কোম্পানির শেয়ার কিনলে লস হলে যেমন পুরো লস, লাভ হলে অনেক বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বন্ডের ক্ষেত্রে আয় নির্দিষ্ট এবং সীমিত। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে বন্ড এগিয়ে। সাধারণ শেয়ার যে কোন সময় বিক্রি করা যায় কিন্তু বন্ড যে কোন সময় বিক্রি করা যায় না। কারণ বাংলাদেশে বন্ড মার্কেট খুব বেশি পরিচিত না।
বিশ্বব্যাপী বন্ডের আকার
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৩ সালে দেয়া তথ্যমতে, বৈশ্বিক বন্ডের বাজার ১৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্বের ৫৫ শতাংশ বন্ডের বাজারই চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। সর্বোচ্চ বন্ড মার্কেট যুক্তরাষ্ট্রের। ৫১ ট্রিলিয়ন ডলারের বন্ড রয়েছে দেশটির যা পুরো বন্ডের বাজারের ৩৯ শতাংশ।
১৬ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে চীন। পরিমাণে প্রায় ২১ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ৮ শতাংশ জায়গা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের রয়েছে ১১ ট্রিলিয়ন ডলারের বন্ড। উন্নত অনেক দেশ বন্ড মার্কেটের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে।
তবে বাংলাদেশে এর উল্টো চিত্র। দুর্বল বন্ড মার্কেটের কারণে ব্যাংকগুলো আমানত ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারছে না। বন্ড ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কর্পোরেট সেক্টর বন্ড মার্কেটের পরিবর্তে পুরোপুরি ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাংক খাতের ওপর চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ট্রেজারি বন্ডগুলো বছরের পর বছর পড়ে থাকলেও নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে না। 'দ্যা ক্যাপিটাল মার্কেট ফ্যাক্টস বুক জুলাই ২০২১' এর বরাত দিয়ে করা এক খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের করপোরেট এবং ট্রেজারি বন্ড মিলিয়ে বন্ডের বাজার ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের অন্যান্য দেশের বন্ড বাজারের তুলনায় অনেক কম। যেখানে মালয়েশিয়ায় বন্ডের বাজার ৩৪৫ বিলিয়ন ডলার, ইন্দোনেশিয়ায় ২৩৩ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, উন্নত বিশ্বে বন্ড মার্কেটের শক্ত অবস্থান রয়েছে। বড় প্রকল্পে অর্থায়নের অনেক দেশের সরকারও বন্ড ছাড়ে যার কারণে ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয় না।
নবীন নিউজ/জেড
স্ত্রীর কথা শুনে চলা পুরুষের রোগের ঝুঁকি কম থাকে
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে রং বদলাতে পারে যে শিয়াল
‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ কতটা ভয়াবহ
প্রেমের টানে মানুষের রেকর্ডকে হার মানিয়েছে তিমি
বিশ্বের সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক পাখি’, হত্যা করতে পারে মানুষকেও
যেসব পেশাজীবীদের মধ্যে ডিভোর্সের হার বেশি
সোনারগাঁ লোকজ উৎসব পানামনগর, যেখানে মিলবে গ্রামীন ছোঁয়া…
প্রপোজের পর পছন্দের মানুষ রাজি হলে উত্তম, না হলেও বা ক্ষতি কী!
যে কাঠের মূল্য প্রতি কেজি ৮ লাখ টাকা!
যে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে ‘এক-এগারো’
যেসব ভুলের কারণে পাসপোর্ট অফিস থেকে ফিরে আসতে হতে পারে
স্বাদুপানির মাছের ২৪ শতাংশ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে
ডিভোর্স: কেমন আছেন ঢাকার একক মায়েরা
ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির রঙ লাল কেন?
মোনালিসার ছবি এত ভুবন বিখ্যাত হওয়ার কারণ কী?
প্রিয়জনকে ঝুড়িভরা ফুল উপহার দেওয়ার দিন আজ
১৭ বছর পর্যন্ত ক্ষোভ মনে পুষে রাখতে পারে কাক!
আজ থেকে জেন বিটা প্রজন্ম শুরু
জেন জি’র যুগ শেষ, আসছে জেন বিটা
৯ মস্তিষ্কের অধিকারী অক্টোপাসের জ্ঞানের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীরা
আগুনের দেশ আজারবাইজান
পাখির সঙ্গে সংঘর্ষে কীভাবে বিমান বিধ্বস্ত হয়?
কে এই সান্তা ক্লজ, কেন তিনি লাল পোশাক পরেন?
ব্ল্যাকহোল কি সত্যিই বাষ্পীভূত হয়?
নার্সারি ওয়েব মাকড়সা কেন স্ত্রীকে বেঁধে রাখে?
১৫০০ বছরের মৃতদের নগরী, যেখানে রয়েছে ৬০ লাখ কবর!
এই ক্যাফেতে ৫ সেকেন্ড নাচলেই কফি ফ্রি!
দেড় লাখ টাকায় সোনার চা, রূপার কাপ ফ্রি
সমুদ্রের ৭,৯০০ মিটার গভীরতায় আবিষ্কার হলো শিকারি অ্যামফিপড
বাজেটের মধ্যেই ঘুরে আসুন বিশ্বের ৫ দেশে