নবীন নিউজ, ডেস্ক ১১ জুন ২০২৪ ০৭:৩৩ পি.এম
তীব্র গরম থেকে বাচঁতে এসি ব্যবহার করে থাকেন। বার বার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে সিগারেটে সুখটান দিতে গিয়ে অনেকেই গরমে অস্থির হয়ে যান । তাই এসি চলাকালীনই ঘরে বসে ধূমপান করেন। কিন্তু এসি রুমে বসে ধূমপান করে কী বিপদ ডেকে আনছেন, জানেন?
যে ঘরে এসি চলছে, সেই ঘরে কোনও রকমভাবে ধূমপান করা উচিত নয়। সেখান থেকে দু’ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, আগুনের ফুলকি ছুটে গিয়ে যে কোনও সময়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যের জন্যেও তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি জ্বলন্ত সিগারেট থেকে প্রায় ১২ হাজার বিভিন্ন ধরনের রসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়, যার কোনোটিই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। বরং সবই ক্ষতিকর। তামাক পাতায় থাকে নিকোটিন, টার, ক্যাডমিয়াম, জৈব অ্যাসিড ও নাইট্রোজেন জাতীয় পদার্থ।
এছাড়া সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকে মরণ বিষ কার্বন মনোক্সাইড ও ক্যানসার উদ্রেককারী নানারকম কার্সিনোজেন। যেমন-বেনজোপাইরিন, ডাইমিথাইল নাইট্রোসোমাইন, ডাই ইথাইন নাইট্রোসোমাইন, এন নাইট্রোসোনর নিকোটিন, নাইট্রোসোপাইরেলেডিন, কুইনলোন প্রভৃতি।
একখন্ড পরিচ্ছন্ন কাগজে মোড়ানো সিগারেট আকর্ষণীয় হলেও আসলে তা উগ্র নিকোটিনের বিষে ভরা। নিকোটিন এত মারাত্মক যে, দুটো সিগারেটে যে পরিমাণ নিকোটিন আছে, তা ইঞ্জেকশন দ্বারা কোনো সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করালে তার মৃত্যু অনিবার্য।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে ধূমপান করলে শরীর ঠান্ডা করার নিজস্ব যে ‘কুলিং প্রসেস’, তা নষ্ট হয়। ফলে সিগারেটের ধোঁয়ার সঙ্গে নির্গত তাপ শরীরের ভিতর থেকে যায়। তা হার্ট, মস্তিষ্ক,ফুসফুস এবং কিডনিতে প্রভাব ফেলে। ফলে ‘হিট স্ট্রোক’ সংক্রান্ত জটিলতা বেড়ে যেতে পারে। যাঁরা পরোক্ষ ভাবে সিগারেটের ধোঁয়া খাচ্ছেন, তাঁদের জন্যেও এই অভ্যাস একই রকম ভাবে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, অতিরিক্ত ধূমপান করলে এমনিতেই ফুসফুস, গলা এবং মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হার্টের সমস্যা থাকলে তা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এসি চলাকালীন বদ্ধ ঘরের মধ্যে ধূমপান করলে সেই ধোঁয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ করার যন্ত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যেই আবর্তিত হতে থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সিগারেটের ধোঁয়া যেমন শরীরে প্রবেশ করে, তেমন ঘরের অশুদ্ধ বায়ুও ফুসফুসে যায়। ফলে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতির পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া বদ্ধ ঘর বা গাড়ির মধ্যে ধূমপান করলে, সেই বাতাসে মিশে যায় ধূমপানের ফলে তৈরি হওয়া নানা রাসায়নিক। যা বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণা, দূষিত পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
ঘরের দেওয়াল, কার্পেট, সোফা, মেঝে, আসবাবপত্রের উপর নিকোটিনের আস্তরণ তৈরি হয়। বাতাসে অন্যান্য দূষিত কণার সঙ্গে মিশে গিয়ে সেই নিকোটিনের আস্তরণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে শরীরের উপর। একেই বলা হচ্ছে তৃতীয় স্তরের ধূমপান। তৃতীয় স্তরের ধূমপান ক্যানসার, হৃদ্রোগের মতো অসুখের আশঙ্কা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। পরোক্ষ ধূমপানের সময়ে নিজে ধূমপান না করলেও অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া মানুষের শরীরে ঢোকে। ধূমপায়ীর যা যা ক্ষতি হয়, পরোক্ষ ধূমপানেও তার সমপরিমাণ ক্ষতি হতে পারে।
ক্ষতিকারক রাসায়নিক এবং কণার পাশাপাশি সিগারেটের ধোঁয়া থেকে আসা গন্ধগুলো আপনার আসবাব, কার্পেট, দেয়াল ইত্যাদির পৃষ্ঠের বাইরেও প্রবেশ করবে। গন্ধটি সহজেই মুছে যাবে না। ফলে মাথা-ব্যাথা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঠাণ্ডা এবং এলার্জি জনিত রোগ হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, বাড়িতে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বা ধূমপায়ী নন এমন সদস্য থাকলে, যে সব ঘরে তাদের যাতায়াত, সেখানে ধূমপান করবেন না। খোলা জায়গায় ধূমপান করুন। তাদের বিপদের আশঙ্কা আরও বেশি। হাঁপানি, কানের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
নবীন নিউজ/জেড
সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের যে অভ্যাস ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা করবে
স্বাস্থ্যের ডিজির সঙ্গে অশোভন আচরণের দায়ে ডা. ধনদেবকে অব্যাহতি
কোভিডের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বার্ড ফ্লু
সকালের কিছু ভুল অভ্যাসেই বাড়তে পারে হার্টের ঝুঁকি
মুখ ও গলায় এই ৫ লক্ষণ হলে সতর্ক থাকুন, হতে পারে কিডনি সমস্যা
শরীরের যে ১০ লক্ষণ ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়
‘অপারেশনের ভয়ে’ হাসপাতালের ১০ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে রোগীর মৃত্যু
বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হতে পারে লিভার ক্যান্সার
আজ থেকে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন বিসিএস চিকিৎসকরা
তরমুজের বিচি খেলে কী হয় জানেন?
ইফতারে স্যালাইন খাচ্ছেন, জানেন কী হয়?
দেশে প্রথমবার জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত, আক্রান্ত ৫ জন
দূষিত বায়ু বাড়াচ্ছে অটিজমের ঝুঁকি
ভোরে ঘুম থেকে উঠলে হতে পারে যেসব ক্ষতি
লিভারের ক্ষতি করে যে ৩ পানীয়
ব্রেস্ট ক্যানসার শনাক্ত করার সঠিক পদ্ধতি
সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা জানেন?
ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণ ও সাধারণ চিকিৎসা
শিশু রোগীদের ক্যানসারের ওষুধ ফ্রিতে প্রদানের ঘোষণা ডব্লিউএইচও’র
ওষুধের দাম নির্ধারণ কোম্পানির হাতে, ঠুঁটো জগন্নাথ অধিদপ্তর
নস্টালজিয়া নামের এক রোগ যেভাবে এখন একটি আবেগের নাম
ত্বকের উজ্জলতা ধরে রাখতে প্রতিদিন কত গ্লাস পানি পান করা জরুরি?
যেসব লক্ষণে হতে পারে ব্রেস্ট ক্যান্সার
পচে যাচ্ছে দীপংকরের পা, খোঁজ নিচ্ছে না কেউ!
মানসিক রোগের শারীরিক লক্ষণ
শ্বেতী রোগ কেন হয়, এটি কি নিরাময়যোগ্য অসুখ?
প্রতিদিন চিয়া সিড খাওয়া কি ভালো?
শিশুর নাক ডাকা কোনও রোগের লক্ষণ নয়তো!
অনবরত হাঁচি থেকে মুক্তি পেতে
কথায় কথায় বুকজ্বালা