নবীন নিউজ, ডেস্ক ০১ মে ২০২৪ ১১:১১ এ.এম
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের মধ্যে শতকরা ৯৮ শতাংশের বেশি নারী, তবে খুব অল্প সংখ্যক পুরুষও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। প্রতি বছর প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ এ রোগে মারা যান।
স্তন ক্যান্সার কি?
স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে, ওই অনিয়মিত ও অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয়। সেটি রক্তনালীর লসিকা (কোষ-রস) ও অন্যান্য মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ক্যান্সার। নারীরা সাধারনত তাদের শারীরিক যে কোনো সমস্যাকেই গোপন রাখতে প্রাধান্য দেয়। খুব গভীরে বা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন না হলে তারা ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হয় না।
ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগের কারণ কী?
বয়ঃসন্ধির পর থেকে মহিলাদের স্তনের বিকাশ ঘটে। ফ্যাট, সংযোগকারী টিস্যু এবং লোবিউলের মাধ্যমে স্তনের আকার ও ধরনে পরিবর্তন আসে এবং তা ভবিষ্যতে সন্তানের জন্য বুকের দুধ প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়। লোবিউল নামে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রন্থিগুলিতেও দুধ তৈরি হয়, যা ডাক্ট বা নালীর মাধ্যমে স্তনবৃন্ত পৌঁছায়।
জেনেটিক মিউটেশন বা DNA ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে স্তন ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। যেমন– ইস্ট্রোজেনের সংস্পর্শে আসা, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জেনেটিক ত্রুটি বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জিনে ক্যানসারের ইতিহাসের কারণে পরবর্তী প্রজন্ম এই রোগের আক্রান্ত হতে পারেন। এই রকম দুটি জিনের উদাহরণ হল BRCA1 এবং BRCA2।
এক জন সুস্থ এবং স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রমতা যে কোনও ধরনের অস্বাভাবিক ডিএনএ (DNA) বৃদ্ধিকে আক্রমণ করে। এর ফলে ওই ডিএনএ শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এই ডিএনএ-র বৃদ্ধিকে দমন করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে ক্যান্সার ধীরে ধীরে একটি জায়গা থেকে অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
অনাক্রমতার ব্যর্থতার কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও স্তনের কোষগুলি অনিয়ন্ত্রিত ভাবে নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। রোগীর শরীর এই কোষগুলিকে ধ্বংস করতে পারে না, ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তারা আরও বেশি সংখ্যায় নিজেদের বিভাজিত করে বাড়তে থাকে। অত্যধিক মাত্রায় কোষ বৃদ্ধির ফলে স্তনে টিউমার বা পিণ্ডের সৃষ্টি হয়। এই পিণ্ড তার চারপাশের স্বাভাবিক কোষগুলিকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং শক্তি থেকে বঞ্চিত করে।
ব্রেস্ট ক্যান্সার স্তনের বিভিন্ন অংশ থেকে শুরু হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, এটি দুধ সরবরাহকারী নালী পথ বা দুধ প্রস্তুতকারী লোবিউল থেকে শুরু হতে পারে। এর পর রক্তনালীর মাধ্যমে রক্ত যখন স্তন থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে ক্যান্সারের বিস্তার ঘটে। লিম্ফ সিস্টেম হল মানবদেহের ইমিউন সিস্টেমের একটি অংশ। এই সিস্টেমে থাকা লিম্ফ ভেসেল স্তন থেকে রক্ত বহন করে শরীরে অন্যান্য অংশে নিয়ে যায়। ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে রক্তের মাধ্যমে ক্যান্সার লিম্ফ নোড থেকে অন্যান্য অঙ্গেও বাসা বাঁধতে শুরু করে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের স্টেজ:
ক্যান্সারের ফলে সৃষ্ট টিউমার বা পিণ্ডের আকার দেখে নির্ধারণ করা যায় রোগ কতটা ছড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে ব্রেস্ট ক্যানসারের স্টেজ নির্ধারণ করা ভিন্ন ভিন্ন উপায় রয়েছে, যা সকল রোগীর ক্ষেত্রে এক নাও হতে পারে। তবে মূলত ব্রেস্ট ক্যানসারকে মোট ৫টি স্টেজে ভাগ করা যায়। এই ৫টি স্টেজ ছাড়াও টিউমারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এই রোগকে সাবস্টেজে ভাগ করা হয় যেমন HER2 রিসেপ্টরের অবস্থা।
স্টেজ ০:
ব্রেস্ট ক্যান্সারের এই স্টেজকে ডাক্টাল কার্সিনোমা ইন-সিটু বলা হয়। এটিকে প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে ধরা হয় এবং এই স্টেজে ক্যানসারের কোষগুলি ডাক্ট নালীগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ০ স্টেজে ক্যান্সারের কোষ অন্যান্য অংশে ছড়ায় না।
স্টেজ ১:
ক্যান্সারের এই পর্যায়ে টিউমারের দৈর্ঘ্য ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি তখনও লিম্ফ নোডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না বা লিম্ফ নোডে কিছু সংখ্যক ক্যানসারের কোষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
স্টেজ ২:
টিউমারটি চারদিকে ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আশেপাশের নোডগুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করেছে। আর একটি সম্ভাবনা হল টিউমার চারদিকে ২-৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গিয়েছে, তবে তখনও কোনও লিম্ফ নোডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়নি।
স্টেজ ৩:
টিউমারটি চারদিকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এবং লিম্ফ নোডকে আক্রান্ত করেছে বা চারিদিকে ৫ সেন্টিমিটারের বেশি ছড়িয়ে কিছু সংখ্যক লিম্ফ নোডকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
স্টেজ ৪:
ক্যান্সার শরীরে অন্যান্য অঙ্গে পুরোপুরি ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যেমন– হাড়, লিভার, মস্তিষ্ক বা ফুসফুস।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে?
• স্তনে চাকা বা পিণ্ড দেখা দিলে
• স্তনের বোঁটার কোন ধরনের পরিবর্তন, যেমন ভেতরে ঢুকে গেলে, অসমান বা বাঁকা হয়ে গেলে
• স্তনের বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক রস বের হলে
• স্তনের চামড়ার রং বা চেহারায় পরিবর্তন হলে
• বাহুমূলে পিণ্ড বা চাকা দেখা গেলে।তবে বয়স ৩০ বা ৩৫ হবার পর সব নারীর উচিত নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষা করে দেখা। এজন্য মূলত তিনটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে।
• ম্যামোগ্রাম বা বিশেষ ধরনের এক্স রে, যার সাহায্যে স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়ে।
• সুনির্দিষ্ট নিয়মে চাকা বা পিণ্ড আছে কিনা, চিকিৎসকের মাধ্যমে সে পরীক্ষা করানো।
• নিজে নিজে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী স্তন পরীক্ষা করা।
চিকিৎসকদের মতে, স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত হলে ১০০ ভাগ নিরাময়যোগ্য।বাংলাদেশ ক্যান্সার ইন্সটিটিউটসহ সরকারি বেসরকারি অনেক হাসপাতালে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে।বাংলাদেশে ক্যান্সার বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য চারটি হাসপাতাল আছে ।
নবীন নিউজ/জেড
সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের যে অভ্যাস ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা করবে
স্বাস্থ্যের ডিজির সঙ্গে অশোভন আচরণের দায়ে ডা. ধনদেবকে অব্যাহতি
কোভিডের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বার্ড ফ্লু
সকালের কিছু ভুল অভ্যাসেই বাড়তে পারে হার্টের ঝুঁকি
মুখ ও গলায় এই ৫ লক্ষণ হলে সতর্ক থাকুন, হতে পারে কিডনি সমস্যা
শরীরের যে ১০ লক্ষণ ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়
‘অপারেশনের ভয়ে’ হাসপাতালের ১০ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে রোগীর মৃত্যু
বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হতে পারে লিভার ক্যান্সার
আজ থেকে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন বিসিএস চিকিৎসকরা
তরমুজের বিচি খেলে কী হয় জানেন?
ইফতারে স্যালাইন খাচ্ছেন, জানেন কী হয়?
দেশে প্রথমবার জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত, আক্রান্ত ৫ জন
দূষিত বায়ু বাড়াচ্ছে অটিজমের ঝুঁকি
ভোরে ঘুম থেকে উঠলে হতে পারে যেসব ক্ষতি
লিভারের ক্ষতি করে যে ৩ পানীয়
ব্রেস্ট ক্যানসার শনাক্ত করার সঠিক পদ্ধতি
সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা জানেন?
ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণ ও সাধারণ চিকিৎসা
শিশু রোগীদের ক্যানসারের ওষুধ ফ্রিতে প্রদানের ঘোষণা ডব্লিউএইচও’র
ওষুধের দাম নির্ধারণ কোম্পানির হাতে, ঠুঁটো জগন্নাথ অধিদপ্তর
নস্টালজিয়া নামের এক রোগ যেভাবে এখন একটি আবেগের নাম
ত্বকের উজ্জলতা ধরে রাখতে প্রতিদিন কত গ্লাস পানি পান করা জরুরি?
যেসব লক্ষণে হতে পারে ব্রেস্ট ক্যান্সার
পচে যাচ্ছে দীপংকরের পা, খোঁজ নিচ্ছে না কেউ!
মানসিক রোগের শারীরিক লক্ষণ
শ্বেতী রোগ কেন হয়, এটি কি নিরাময়যোগ্য অসুখ?
প্রতিদিন চিয়া সিড খাওয়া কি ভালো?
শিশুর নাক ডাকা কোনও রোগের লক্ষণ নয়তো!
অনবরত হাঁচি থেকে মুক্তি পেতে
কথায় কথায় বুকজ্বালা