রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অ্যারন বুশনেল নামে ২৫ বছর বয়সী মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সদস্য নিজের গায়ে আগুন দিয়েছেন।ঘটনাটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে। ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান নৃশংসতা-হত্যাযজ্ঞে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরুদ্ধেই তাঁর এমন প্রতিবাদ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলেও মারা যান তিনি।
১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিনের মাটিতে পোড়ামাটি নীতি অনুসরণ করে আসছে ইসরায়েল। আর ইসরায়েলি বাহিনীর মারণাস্ত্রের মুখে প্রাণ দেওয়াটা ফিলিস্তিনিদেরও যেন অভ্যাস হয়ে গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইদানিং ত্বক পুড়িয়ে দেয়, এমন দাহ্য রাসায়নিক ‘হোয়াইট ফসফরাস’ও ব্যবহারও করেছে ইসরায়েল।
সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যারনের মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ১৪৩ দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রায় ৩০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অ্যারনের আত্মহত্যার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এই গণহত্যায় তিনি আর নিজেকে জড়াতে চান না। তাই হয়তো প্রতিবাদের চরম ভাষা হিসেবে এ পথ বেছে নিচ্ছেন।
তবে উপনিবেশকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিরা যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন, সে তুলনায় তাঁর এ কাজ কিছুই না। কোনো একজনের আত্মাহুতির ঘটনার বর্ণনা যদি এমন হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা অনেককেই দুর্বল করবে। কোনো একজনের আত্মাহুতির ঘটনার বর্ণনা যদি এমন হয়, তাহলে গণহত্যার বর্ণনা কেমন মর্মস্পর্শী হতে পারে, সেটিই বলে গেছেন অ্যারন ।
ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি গণহত্যাকে দেশের শাসকশ্রেণির ‘স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা’র এ ঘটনাকে মানতে পারেননি অ্যারন বুশনেল। এমন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিবাদে নিজ গায়ে আগুন লাগান তিনি। দাহ্য তরলে লাগানো আগুনে সারা শরীর যখন দাউ দাউ করে জ্বলছিল, তখনো চিৎকার করে তিনি বলছিলেন—‘মুক্ত ফিলিস্তিন’।
এ প্রসঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আত্মাহুতির একটি ঘটনা নিয়ে খ্যাতিমান মার্কিন ঐতিহাসিক ও সাংবাদিক ডেভিড হলবার্সটামের বর্ণনা তুলে ধরা যায়। ১৯৬৩ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামের সায়গনে সন্ন্যাসী থিক কুয়াংয়ের আত্মাহুতির ওই ঘটনা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘লোকটার শরীর থেকে আগুনের শিখা বেরিয়ে আসছে। ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে, কুঁচকে যাচ্ছে শরীরটা। কালো হয়ে পুড়ে যাচ্ছে তাঁর মাথা। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে পোড়া মাংসের গন্ধ। মানবশরীর অবিশ্বাস্য দ্রুততার সঙ্গে পুড়ে যায়। আমি এতটা মর্মাহত, কাঁদার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছি। কিছু লিখতে বা জানতে, এমনকি কিছু ভাবতেও খেই হারিয়ে ফেলছি।’
অ্যারনের আত্মহত্যার পর পুলিশ বলেছে, ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে গায়ে আগুন লাগানোর পর মারা গেছেন এক ব্যক্তি। এমন একটি ঘটনায় সম্ভবত এটি এ যাবৎকালের সবচেয়ে দুর্বল ও প্রসঙ্গবিহীন একটির শিরোনাম।
অ্যারনের ঘটনায়, প্রভাবশালী মার্কিন রাজনৈতিক গণমাধ্যমগুলো দৃশ্যত তাঁকে শুধু অপ্রাসঙ্গিকভাবেই তুলে ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে, তা নয়; বরং তাঁর প্রতি দেখিয়েছে মরণোত্তর অসম্মানও। যেমন টাইম সাময়িকী এমন সতর্কবার্তা লিখেছে, মার্কিন ‘প্রতিরক্ষা দপ্তরের নীতিতে বলা হয়েছে, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেবাকর্মীদের ‘‘পক্ষপাতমূলক রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত হওয়া উচিত নয়’’’। পত্রিকাটির কথা এমন যেন, সক্রিয়ভাবে গণহত্যাকে প্ররোচিত করা রাজনৈতিকভাবে ‘পক্ষপাতমূলক’ ছিল না।
পত্রিকাটি আরও লিখেছে, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিধিমালায় আছে, ‘‘অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা ও সাক্ষাৎকার’’ এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ইউনিফর্ম (নির্ধারিত পোশাক) পরা যাবে না।’
টাইমের নিবন্ধের নিচে পাঠকদের জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ‘যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগেন বা আত্মহত্যার কথা ভাবেন, তবে ৯৮৮ নম্বরে কল করুন বা বার্তা পাঠান।’ এটি সাধারণভাবে এমন কথা নির্দেশ করে যে অ্যারন ‘মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা’র শিকার।
দিন শেষে কেউ যদি গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনে চলা গণহত্যায় গুরুতর ‘মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা’ অনুভব না করেন, তবে টাইমের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ওই শ্রেণি অনুযায়ী তাঁকে নিরাপদ মানুষ হিসেবে ভাবা যেতে পারে।
নিঃসন্দেহে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ‘নেটিভ আমেরিকানদের’ (যুক্তরাষ্ট্রের আদি বাসিন্দা) বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। রক্তাক্ত এ ঘটনাকে গুরুতর সামষ্টিক মানসিক সমস্যা বা এ রকম কিছু হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। কিন্তু আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্র বা এর ইসরায়েলি অংশীদারকে নিয়ে তাদের গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের কথা ভাবেন, তবে আপনি পাগলদের একজন হবেন।
টেক্সাসের স্যান আন্তোনিও শহরে গৃহহীন মানুষকে সহায়তায় অ্যারনের সাথে কাজ করা তাঁর সাবেক এক সহকর্মী বলেন, ‘আমার দেখা এযাবৎকালের সবচেয়ে নীতি-নৈতিকতাসম্পন্ন কর্মীদের একজন ছিলেন তিনি।’ আর ক্ষমতাসীনদের সামনে সত্য বলতে গেলে এটি বলাই যথেষ্ট যে অ্যারন পশ্চিমা করপোরেট গণমাধ্যমকে লজ্জায় ফেলেছেন।
আফগানিস্তানে বর্ণ ও দাসপ্রথাকে আইনি স্বীকৃতি, আলেমরা অপরাধ করলে দায়মুক্তি
না ফেরার দেশে সৌদির সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি, রেখে গেলেন ১৩৪ বংশধর
জাতিসংঘের ও আন্তর্জাতিক ৬৬ সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাবার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
২য় বিয়ে করলে ৭ বছর কারাদণ্ড
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে ‘হাসিনা ইস্যু’
পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলি, নিহত ২৩ জন
২৬ জন বাংলাদেশীকে নিয়ে লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, ৪ জনের মৃত্যু
বিবিসির কাছে থেকে ৫০০ কোটি ডলার চাইতে পারেন ট্রাম্প
শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল
থাই-মালয়েশিয়া সীমান্তে নৌকাডুবিতে ৭ রোহিঙ্গার মৃত্যু, ২ বাংলাদেশি উদ্ধার
দূষণে প্রতিদিন ১৬০ জনেরও বেশি মৃত্যু
মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নৌকাডুবি, বাংলাদেশিসহ ৬ জন উদ্ধার
বাংলাদেশ সীমান্তে সেনাসমাবেশ বাড়াচ্ছে ভারত, ৩০ কিমির মধ্যে ৩ ঘাঁটি
নেতানিয়াহুসহ ৩৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
পাকিস্তানে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণের খনি আবিষ্কার!
ফিলিপাইনে টাইফুন কালমেগি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৪
মারা গেলেন ইরাক ধ্বংসের অন্যতম হোতা ডিক চেনি
যুক্তরাজ্যে ট্রেনে ছুরিকাঘাতে আহত ১০
যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় হামলা আইডিএফ'র, নিহত ২
গাজায় ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করল ইসরাইল
ইরানে ‘মোসাদ গুপ্তচরের’ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ঘর আর নেই, তবু ঘরে ফিরছে গাজাবাসী
‘শিশুদের নোবেল’ পুরস্কারে জন্য মনোনীত রাজশাহীর মুনাজিয়া
৭৫ বছরে বিয়ে করে বাসর ঘরে বৃদ্ধের মৃত্যু
গাজামুখী নৌবহর আটকে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান
চিকিৎসকদের হাতের লেখা ঠিক করতে বললেন আদালত
এবার নেতানিয়াহুকে নিষেধাজ্ঞা দিল স্লোভেনিয়া
সুদানে মসজিদে ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ৭৮ জন
শ্যালিকাকে নিয়ে পালালেন দুলাভাই, দুলাভাইয়ের বোনকে নিয়ে চম্পট শ্যালক!
ইসরায়েলি হামলার ভয়ে চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা মোতায়েন করল আরেক মুসলিম দেশ