নবীন নিউজ, ডেস্ক ১৪ সেপ্টেম্বার ২০২৪ ০২:১৩ পি.এম
শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মই রহমত। উম্মতে মুহাম্মদির জন্য গর্ব ও গৌরবের ধন নবীজি। নবীজি দুনিয়াতে আসার আগেই তাঁর বাবা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইন্তিকাল করেন। তাঁর মায়ের নাম আমিনা বিনতে ওহাব। তিনিও নবীজিকে একা করে চলে গেছেন মাত্র ছয় বছর বয়সে।
নবীজির মা আমিনা বিনতে ওহাব স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বেদনা ব্যথিত কণ্ঠে আবৃত্তি করেন, মরুময় জমিন হাশেমের বংশধর থেকে খালি হয়ে গেছে। মৃত্যু তাকে এক ডাক দিয়েছে, তিনি ‘আমি হাজির’ বলে চলে গেছেন। তিনি রাঙ্গ ও খুরুশের মধ্যবর্তী এক জায়গায় শায়িত রয়েছেন।
মৃত্যু এখন ইবনে হাশেমের মতো কোন লোক রেখে যায়নি। সেই বিকেলের কথা মনে পড়ে যখন তাকে লোকেরা খাটিয়ায় তুলে নিয়ে গিয়েছিল। মৃত্যু যদিও তার অস্তিত্ব মুছে দিয়েছে কিন্তু তার কীর্তি মুছে দিতে পারবে না। তিনি ছিলেন বড় দাতা ও দয়ালু। তাবাকাতে ইবনে সাদ ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬২
নবীজির বাবা আবদুল্লাহর মৃত্যুর দুই মাস পরে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন। সিনা চাকের ঘটনার পর বিবি হালিমা ভীত হয়ে পড়লেন। তিনি শিশুকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে এলেন। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত তিনি মায়ের স্নেহ ছায়ায় কাটালেন। তালকিহুল ফুহুম, পৃষ্ঠা-৭ ইবনে হিশাম ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৮
হজরত আমেনার ইচ্ছে হলো যে, তিনি স্বামীর কবর জিয়ারত করবেন। পুত্র মুহাম্মদ, দাসী উম্মে আয়মন ও শশুর আবদুল মুত্তালিবকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রায় পাঁচ শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মদিনায় পৌঁছলেন। একমাস সেখানে অবস্থানের পর মক্কার পথে রওয়ানা হলেন।
মক্কা ও মদিনার মাঝামাঝি আবওয়া নামক জায়গায় এসে বিবি আমেনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ক্রমে এই অসুখ বেড়ে চললো। অবশেষে তিনি আবওয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। সিরাতে ইবনে হিশাম, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৮, তালকিছুল তুহুম, পৃষ্ঠা ৭, ফেকহুছ সিরাত, গাজালি রহ. পৃষ্ঠা ৫০
আল-আবওয়া সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে রাবিঘ এলাকার অন্তর্গত মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী একটি হেজাজি গ্রাম। এ জায়গার একটি পাহারের পাদদেশেই তাকে দাফন করা হয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বয়স তখন মাত্র ছয় বছর। জন্মের আগেই বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এখন এত ছোট অবস্থায় হারালেন মাকে। তাও এক অচিন জায়গা মরুর বুকে পাহাড়ের পাদদেশে।
‘আবওয়া’ নামের সেই স্থানটি তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কষ্টে কেঁদে ওঠেছিলো। আকাশ-বাতাস হয়তো ভারী হয়ে গিয়েছিল। নবীজির আর্তনাদে মরুর বালিকণাও চিৎকার করে কেঁদেছিলো। উম্মে আয়মান নবীজির হাত ধরে মক্কার দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন, নবীজি বারবার পেছনে ফিরে মায়ের কবরের দিকে অপলক তাকাচ্ছিলেন, বারবার ছুটে যেতে চাইছিলেন মায়ের কবরের কাছে।
মৃত্যুর আগ মুহূর্তে মা আমিনা উম্মে আয়মানকে কাছে টেনে নিলেন। উম্মে আয়মান (রা.)-এর মূল নাম ছিল বারাকাহ। মা আমিনা বাকরুদ্ধ কণ্ঠে তাঁকে বললেন, ‘বারাকাহ! আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই এ দুনিয়া ছেড়ে যাব। আমি আমার শিশুটিকে তোমার হাতে দিয়ে যাচ্ছি। গর্ভে থাকাকালে সে তাঁর পিতাকে হারিয়েছে। এখন তাঁর চোখের সামনে মাকেও হারাচ্ছে। এখন থেকে তুমি তাঁর মা। কখনো তাকে ছেড়ে যেয়ো না।
মা আমিনা শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমানত হিসেবে তুলে দিলেন বাকারাহর হাতে। বারাকাহ বলেন, ‘আমিনার কথা শুনে আমার হৃদয় ভেঙে গেল। আমি কান্না শুরু করলাম। তখন শিশুটি হতবিহ্বল হয়ে কান্না শুরু করে দিল। ভয়ে মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমিনাও শিশুটির সঙ্গেই ডুকরে কেঁদে উঠলেন। তারপর চিরকালের জন্য নীরব হয়ে গেলেন।’
শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা আমিনার প্রাণহীন দেহ নিয়ে বসে আছেন। নিকটে তখন অন্য কোনো মানুষ ছিল না। আমিনার দেহ নীরব, নিস্তব্ধ। বারাকাহ (রা.) ও শিশুটির কণ্ঠেও কান্না। নিজ হাতে বারাকাহ (রা.) মরুর বালি সরিয়ে কবরের মতো করে ফেললেন। আর আমিনার মৃতদেহ রেখে সেখানে ধুলি দিয়ে ভরিয়ে দিলেন। তারপর বারাকাহ শিশুটিকে নিয়ে মক্কায় ফিরে আসেন। সিরাত ইবনে হিশাম: ১ম খণ্ড ১৬৭
হিজরতের কয়েক বছর পর সেই পথ দিয়ে আবারও তাঁর সাহাবিদের নিয়ে যাচ্ছিলেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নবীজি কিছুক্ষণের জন্য বিমূঢ় হয়ে গেলেন। সাহাবিদের সেখানে অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে তিনি মায়ের কবর পানে গিয়ে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। দীর্ঘক্ষণ মোনাজাত করে কাঁদলেন। উপস্থিত সাহাবিরাও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ অবস্থা দেখে কান্না সংবরণ করতে পারলেন না। যাঁরা জানতেন যে এখানে প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানিত আম্মাজানের কবর তাঁরা তো বুঝলেনই, আর যাঁরা জানতেন না তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জিয়ারত শেষে জিজ্ঞেস করলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এটি আমার আম্মাজানের কবর। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস: ৩২৯২
হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আম্মাজানের কবর জিয়ারত করার জন্য আবওয়া নামক জায়গায় গেলেন। এ সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদলেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও কাঁদল। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি আমার রবের কাছে, আমার মায়ের কবর জিয়ারত করতে চাইলে তিনি এর অনুমতি দিয়েছেন। কাজেই তোমরা কবর জিয়ারত করবে। কেননা তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।’ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২৩৪
নবীন নিউজ/জেড
মহানবী এর রওজা জিয়ারতের নতুন নিয়ম ও সময়সূচি ঘোষণা
চাকরি হচ্ছে না? এই ২ আমলে দ্রুত মিলবে সমাধান
মসজিদের পাশে কবর দিলে কি কবরের আজাব কম হয়?
বাংলাদেশ থেকে এবার কতজন হজে যেতে পারবেন, জানাল মন্ত্রণালয়
বিশ্বের প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে যে ইতিহাস গড়ল মালদ্বীপ
স্বামীর ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার কোরআনি আমল
অভাব-অনটন থেকে মুক্তি মিলবে যে দোয়ায়
আল-আজহার মসজিদের ১ হাজার ৮৫ বছর উপলক্ষে ইফতারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
একটি পাখির কারণে আফ্রিকার প্রথম মসজিদের স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল!
ধর্ষণকারীকে যে শাস্তি দিতে বলেছে ইসলাম
রোজা রেখে আতর-পারফিউম ব্যবহার করা যাবে?
ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন আজহারী
রোজার মাস মানেই কি ভালো খাবার খাওয়া?
রমজানে রোগীদের জন্য কিছু মাসয়ালা
অজু-গোসলের সময় গলায় পানি গেলে রোজা ভেঙে যাবে?
মসজিদে হারাম ও নববিতে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
ইফতারে ঝটপট সবজি কাটলেট তৈরি করবেন যেভাবে
আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভেঙে যাবে?
ইফতারের পর ধূমপান করলে যেসব বিপদ ঘটে শরীরে
যেসব কারণে রোজার ক্ষতি হয় না
জাকাতের টাকায় ইফতার সামগ্রী দেওয়া যাবে?
ইফতারের আগে করা যায় যেসব আমল
রোজা আদায় না করলে যে শাস্তি
মানুষের সেবা করার সেরা মাস রমজান
‘আমিই জীবন দেই, আমিই মৃত্যু দেই, আর আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে’
রমজানে যে ৭ আমল বেশি করতে হবে
রমজান মাসে ফজিলতপূর্ণ যে ৩ আমল করবেন
ইফতারে আরবদের পাতে শোভা পায় যেসব ঐতিহ্যবাহী খাবার
রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজানে ওমরা করলে আসলেই কি হজের সওয়াব পাওয়া যায়?