নবীন নিউজ, ডেস্ক ০৩ মার্চ ২০২৫ ০২:১২ পি.এম
মহিমান্বিত মাহে রমজান। মুমিনের প্রিয় মাস। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ-অনুকম্পা,ক্ষমা ও নাজাতপ্রাপ্তির মাস। পবিত্র এই মাস কুরআন অবতীর্ণের মাস।
মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন, شَهْرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلْقُرْءَانُ هُدًى لِّلنَّاس وَبَيِّنَٰتٍۢ مِّنَ ٱلْهُدَىٰ وَٱلْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
রমজান মাস- যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং এমন সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী সম্বলিত, যা সঠিক পথ দেখায় এবং (সত্য ও মিথ্যার মধ্যে) চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেয়। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন এ সময় রোজা রাখে। (সুরা: বাকারা, আয়াত:১৮৫)
অন্য আয়াতে রমজানের রোজাকে ফরজ নির্ধারণ করে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, হে ঈমানদারগণ,তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনভাবে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া(আল্লাহ তায়ালার ভয়) অবলম্বন করতে পারো। (সুরা: বাকারা,আয়াত:১৮২)
রোজা রাখলে মহীয়ান আল্লাহ তায়ালা-এর কাছে অশেষ প্রতিদান রয়েছে। বিশেষ করে রমজানের রোজার। তবে রমজানের রোজা না রাখলে তার শাস্তিও রয়েছে ভয়াবহ। আর এ শাস্তি দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয় এবং আখেরাতেও।
রোজা ছেড়ে দেয়া শুধু শরিয়তের দৃষ্টিতে মন্দ নয়; বরং এটি সামাজিকতারও পরিপন্থি। এর জন্য শুনতে হয় নানা ধরনের কটুকথা। রোজা না রাখলে মহান আল্লাহ ও রসুলের অবাধ্যতা প্রকাশ পায়। একজন মুমিনের জন্য এমনটা কখনোই কাম্য নয়। এর জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসুলের অবাধ্য হয়, এবং আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত সীমারেখা অতিক্রম করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। (সুরা: নিসা,আয়াত: ১৪)
রোজার বিধান লঙ্ঘন করলে আধ্যাত্মিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। রোজার মধ্যে রয়েছে আত্মার পরিশুদ্ধি ও পবিত্রীকরণ। কিন্তু রোজা না রাখলে বঞ্চিত হতে হয় এ সুযোগ থেকে। রমজানের প্রতিটি রোজার পরিবর্তে ১ টি করে কাফফরা দিতে হবে।
কাফফারা হলো: ১টি গোলাম মুক্ত করতে হবে। কারও গোলাম কেনার সামর্থ্য বা গোলামের অস্তিত্ব না থাকলে একাধারে ৬০ টি রোজা রাখতে হবে। মধ্যখানে ভেঙে ফেলা যাবে না। ভেঙে ফেললে আবার শুরু থেকে ৬০ টি রোজা রাখতে হবে। যদি এটারও সক্ষমতা কারও না থাকে তাহলে ৬০ জন মিসকিন-ফকিরকে গম, ভুট্টা, চাল, খেজুর, অর্থ বা অন্য কিছু মূল্যবান বস্তু প্রদান করতে হবে; তবে শর্ত হলো–এসব সদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ হতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫৪)
রমজানে রোজার বিধান পালন করা মুমিনের মৌলিক দায়িত্ব। এটি তার পরকালে সফলতার পথ দেখায়। কিন্তু এ বিধান পালিত না হলে আল্লাহ তায়ালার দরবারে পাপীদের খাতায় নাম লিখিত হয়।
ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান রোজা। মুমিনের জন্য এটি উপহার স্বরূপ। তবে এটি আদায় না করলে যেতে হয় জাহান্নামে। ভোগ করতে হয় বিভীষিকাময় শাস্তি। হযরত আবু উমামা বাহিলি রা. বলেন, আমি রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এ সময় দুজন মানুষ এসে দুই বাহু ধরে আমাকে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গেল। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে বলল, পাহাড়ে উঠুন।
আমি বললাম, আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বলল, আমরা আপনার জন্য সহজ করে দিচ্ছি। তাদের আশ্বাস পেয়ে আমি উঠতে লাগলাম এবং পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত গেলাম। সেখানে প্রচণ্ড চিৎকারের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম,এটা কীসের শব্দ? তারা বলল,এটা জাহান্নামিদের চিৎকার। এরপর তারা আমাকে এমন কিছু লোকের কাছে নিয়ে গেল যাদের পায়ে রশি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের গাল ছিন্নভিন্ন এবং তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম,এরা কারা? তারা বলল,এরা হচ্ছে এমন রোজাদার যারা রোজা পূর্ণ করার আগে ইফতার করত। তারা রমজানের রোজা রাখতো না (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৭৪৯১)
বিনা কারণে রোজা ভঙ্গ করা বড় ধরনের একটি অন্যায়। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিনা কারণে রোজা ভঙ্গকারীদের শক্তভাবে ধমক দিয়েছেন। মুসনাদে ‘আবু ইয়ালা-এর’এক হাদিসে পাওয়া যায়, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তিকে ‘কাফের’ বলে সম্বোধন করেছেন। একজন মুসলমান রোজা না রাখার কারণে কাফের বলে সম্বোধিত হওয়া সত্যিই অপ্রীতিকর ও তার জন্য দুখঃজনক।
বিনা কারণে রমজানের রোজা ভেঙ্গে ফেলা কবিরা গুনাহ। ইমাম জাহাবি রহ. তার লিখিত গ্রন্থ ‘আল কাবাইর’-এ লিখেন, শরয়ি ওজর বা বৈধতা ব্যতীত রোজা ভঙ্গ করা কবিরা গুনাহ।’ তিনি আরও লিখেন, এ কথা মুমিনদের নিকট স্বতঃসিদ্ধ,স্বীকৃত ও স্থিরকৃত বিষয় যে, কোনো ধরনের অসুস্থতা ছাড়াই রোজা ভঙ্গকারী জিনাকারী, অন্যায়ভাবে শুল্ক আদায়কারী ও মদ্যপ থেকেও নিকৃষ্ট। বরং ইসলামি বিশেষজ্ঞরা তার মুসলমান হওয়ার ব্যাপারে সংশয় পোষণ করেন। এবং তার প্রতি নাস্তিকতার ধারণা রাখেন ।
শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ আল-ফাউযান লিখেন, যে ব্যক্তি এ ধরনের কবিরা গুনাহে লিপ্ত হলো,তার জন্য উচিত আল্লাহ তায়ালা-এর কাছে তাওবা করা,আল্লাহ তায়ালা-এর শাস্তিকে ভয় করা। কারণ, এ পাপ আত্মা নষ্টের ও শরিয়তকে তুচ্ছ করার শামিল।
রোজা শুধু আল্লাহ তায়ালা-এর বিধান পালন ও আনুগত্যের জন্য নয়; বরং রোজা রাখা নিজেকে সংবরণ রাখার মাধ্যম। আত্মার কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পন্থা এ রোজা। হাদিস থেকেও তা-ই বুঝা যায়। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
- يا مَعْشَرَ الشَّبابِ، مَنِ اسْتَطاعَ مِنْكُمُ الباءَة فَلْيَتَزَوَّجْ، فإنَّه أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَن لَمْ يَسْتَطِعْ فَعليه بالصَّوْمِ، فإنَّه له وِجاءٌ.
অর্থ: হে যুবসম্প্রদায়, তোমাদের মধ্য থেকে যাদের বিবাহের খরচ বহন করার সক্ষমতা আছে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা, বিবাহ দৃষ্টিকে সংবরণকারী,সতিত্বকে হেফাজতকারী। আর যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখবে না,সে রোজা রাখবে;কারণ, রোজা মনের বাসনাকে কর্তন করে। (বুখারি,হাদিস:৫০৬৫; মুসলিম,হাদিস :১৪০০)
শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত একটি রোজাও পরিত্যাগ করে, সে নিকৃষ্ট পাপী। দ্বীনের মৌলিক ফরজ লঙ্ঘনকারী এবং ঈমান ও ইসলামের ভিত্তি বিনষ্টকারীরূপে পরিগণিত। আর এ কারণে তার যে ক্ষতি হবে তা কস্মিনকালেও পূরণ হবে না। এমনকি পরে কাজা করে নিলেও রমজানের রোজার কল্যাণ ও বরকত থেকে সে বঞ্চিত হবে।
হাদিস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো ওজর বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা পরিত্যাগ করবে, সে যদি ওই রোজার পরিবর্তে আজীবন রোজা রাখে, তবুও ওই এক রোজার ক্ষতিপূরণ হবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান, রমজান মাসের রোজা সঠিকভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন আমিন।
নবীন নিউজ/ জেড
মহানবী এর রওজা জিয়ারতের নতুন নিয়ম ও সময়সূচি ঘোষণা
চাকরি হচ্ছে না? এই ২ আমলে দ্রুত মিলবে সমাধান
মসজিদের পাশে কবর দিলে কি কবরের আজাব কম হয়?
বাংলাদেশ থেকে এবার কতজন হজে যেতে পারবেন, জানাল মন্ত্রণালয়
বিশ্বের প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে যে ইতিহাস গড়ল মালদ্বীপ
স্বামীর ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার কোরআনি আমল
অভাব-অনটন থেকে মুক্তি মিলবে যে দোয়ায়
আল-আজহার মসজিদের ১ হাজার ৮৫ বছর উপলক্ষে ইফতারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
একটি পাখির কারণে আফ্রিকার প্রথম মসজিদের স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল!
ধর্ষণকারীকে যে শাস্তি দিতে বলেছে ইসলাম
রোজা রেখে আতর-পারফিউম ব্যবহার করা যাবে?
ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন আজহারী
রোজার মাস মানেই কি ভালো খাবার খাওয়া?
রমজানে রোগীদের জন্য কিছু মাসয়ালা
অজু-গোসলের সময় গলায় পানি গেলে রোজা ভেঙে যাবে?
মসজিদে হারাম ও নববিতে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
ইফতারে ঝটপট সবজি কাটলেট তৈরি করবেন যেভাবে
আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভেঙে যাবে?
ইফতারের পর ধূমপান করলে যেসব বিপদ ঘটে শরীরে
যেসব কারণে রোজার ক্ষতি হয় না
জাকাতের টাকায় ইফতার সামগ্রী দেওয়া যাবে?
ইফতারের আগে করা যায় যেসব আমল
রোজা আদায় না করলে যে শাস্তি
মানুষের সেবা করার সেরা মাস রমজান
‘আমিই জীবন দেই, আমিই মৃত্যু দেই, আর আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে’
রমজানে যে ৭ আমল বেশি করতে হবে
রমজান মাসে ফজিলতপূর্ণ যে ৩ আমল করবেন
ইফতারে আরবদের পাতে শোভা পায় যেসব ঐতিহ্যবাহী খাবার
রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজানে ওমরা করলে আসলেই কি হজের সওয়াব পাওয়া যায়?