নবীন নিউজ, ডেস্ক ১৪ সেপ্টেম্বার ২০২৪ ০১:৩০ পি.এম
যখন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব ভালোভাবে নিশ্চিত হলেন যে, আল্লাহর দীন প্রচারের অন্তর্বর্তীকালীন আবু তালিব তাকে সাহায্য করবেন, তখন এক দিন তিনি সাফা পর্বত শিখরে আরোহণ করে জনসাধারণকে আহ্বান করলেন।
তিনি বললেন, يَا صَبَاحَاه ‘হায় সকাল।’ তৎকালীন সময়ে আরবের নিয়ম ছিল ভয়ংকর কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে কিংবা কেউ দেশবাসীর নিকট কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিচার কিংবা প্রতিকার প্রার্থী হলে পর্বতশীর্ষে আরোহণ করে ‘হায় সকাল’ বলে চিৎকার করতে থাকত। এতে লোকজন সেখানে সমবেত হতো।
তা শুনে কুরাইশ গোত্রের লোকেরা সেখানে যখন সমবেত হলো তখন তিনি সকলকে লক্ষ্য করে আল্লাহর একত্ববাদ, স্বীয় নবুওয়াত এবং পরকালীন জীবনের উপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্য অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় সকলকে আহ্বান জানালেন।
এ ঘটনার এক অংশ সহিহ বুখারিতে ইবনু আব্বাস কর্তৃক এভাবে বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِيْ আয়াত অবতীর্ণ হলো তখন নবী কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পর্বত শিখরে আরোহণ করে কুরাইশ গোত্রের সকলকে লক্ষ্য করে বিশেষ কিছু শব্দ উচ্চারণ করে চিৎকার করতে থাকলেন,
يَا بَنِيْ فِهْرٍ، يَا بِنْيِ عَدِىٍّ، يَا بَنِيْ فُلَانٍ، يَا بَنِيْ فُلَانٍ، يَا بَنِيْ عَبْدِ مَنَافٍ، يَا بَنِيْ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ‘ওহে বনু ফিহর! ওহে বনু আদি! ওহে বনু অমুক, ওহে বনু অমুক, ওহে বনু আবদে মানাফ, ওহে বনু আব্দুল মুত্তালিব।’
এ আহ্বান শুনে সকলেই সেখানে সমবেত হয়ে গেল। এমনকি কোনো ব্যক্তির পক্ষে তার উপস্থিতি সম্ভব না হলে ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য তিনি প্রতিনিধি প্রেরণ করলেন। কুরাইশ গোত্রের সকলেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। আবু লাহাবও উপস্থিত ছিলেন। তারপর নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
أَرَأَيْتُكُمْ لَوْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خَيْلًا بِالْوَادِىِّ بِسَفْح هٰذَا الْجَبَلِ تُرِيْدُ أَنْ تَغَيَّرَ عَلَيْكُمْ أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِىَّ؟ হে কুরাইশ বংশীয়গণ! তোমরা বলো, আজ (এ পর্বত-শিখরে দাঁড়িয়ে) যদি আমি তোমাদিগকে বলি যে, পর্বতের অন্যদিকে এক প্রবল শত্রু-সৈন্যবাহিনী তোমাদের যথাসর্বস্ব লুণ্ঠনের জন্য অপেক্ষা করছে তাহলে তোমরা আমার এ কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে কি?
সকলে সমস্বরে উত্তর করল, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। বিশ্বাস না করার কোনোই কারণ নেই। আমরা কখনো আপনাকে মিথ্যার সংস্পর্শে আসতে দেখিনি। যদি তা-ই হয়, তবে শুনে রাখো। তখন গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বলতে লাগলেন إِنِّىْ نَذِيْرٌ لَّكُمْ بَيْنَ يَدْى عَذَابٍ شَدِيْدٍ، إِنَّمَا مَثَلِىْ وَمَثَلُكُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ رَأَي الْعَدُوَّ فَانْطَلَقَ يَرْبَأ أَهْلَهُ আমি আপনাদেরকে অবশ্যম্ভাবী কঠোর দণ্ড সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করছি। নিশ্চয় আমার ও আপনাদের দৃষ্টান্ত হলো ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে শত্রুদের দেখে তার পরিবার-পরিজনদের রক্ষা করছে।
অতঃপর সাধারণ ও বিশেষভাবে সকলকে সত্যের পথে আহ্বান জানালেন এবং তাদেরকে আল্লাহর কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শন করে বললেন, হে কুরাইশগণ! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো এবং তোমাদের নিজেদেরকে আল্লাহর নিকট সঁপে দিয়ে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করো।
হে বনু আব্দুল মুত্তালিব সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। কারণ, আমি তোমাদের উপকার বা অপকার কিছুরই মালিক নই। আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য কোনো উপকারে আসব না। আমার নিকট থেকে তোমরা ইচ্ছেমতো কোনো সম্পদ চেয়ে নিতে পারো; কিন্তু আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য কোনো উপকারে আসব না।
হে বনু আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য কোনো উপকারে আসব না। হে সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব! (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফু) আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট কোনো উপকারে আসব না।
হে ফাতেমা বিনতে মুহাম্মাদ! তুমি নিজেকে দোজখ থেকে বাঁচাও। কারণ, আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের কিছুরই মালিক নই। আমি তোমার জন্য আল্লাহর নিকট কিছুই করতে পারব না। তবে তোমাদের সাথে (আমার) যে আত্মীয়তা রয়েছে তা আমি অবশ্যই আর্দ্র রাখব। অর্থাৎ যথাযথভাবে আত্মীয়তা বজায় রাখব।
যখন এ ভীতিপ্রদর্শনমূলক বক্তব্য শেষ হলো, সম্মেলন ভেঙে গেল ও লোকজন যার যার মতো চলে গেল, কেউ কোনো প্রতিবাদ করল না। কিন্তু আবু লাহাব মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বলে উঠল, ‘তোর সর্বনাশ হোক! এজন্য কি তুই এখানে আমাদেরকে সমবেত করেছিস?’ এর ফলশ্রুতিতে আয়াতে কারিমা অবতীর্ণ হলো, সহিহ বুখারি, ২য় খণ্ড, পৃ. : ৭০২
تَبَّتْ يَدَا أَبِيْ لَهَبٍ وَتَبَّ ‘আবু লাহাবের হাত ধ্বংস হোক।’ সুরা লাহাব, আয়াত : ০১
এভাবে উচ্চকণ্ঠে আহ্বানের উদ্দেশ্য ছিল দীনের দাওয়াতের বাণী পৌঁছে দেয়া। এর মাধ্যমে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকটস্থ লোকেদের মাঝে এটা পরিষ্কার করলেন যে, তার রিসালতকে সত্যায়ন করার অর্থই হলো, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাদের মধ্যে একটা সৌহার্দপূর্ণ জীবনের সূত্রপাতকরণ।
আর আরবে আত্মীয় সম্বন্ধের যে মজবুত ভিত্তি রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সতর্কবাণীর তুলনায় নিতান্তই নগণ্য। এর প্রতিধ্বনি মক্কার অলিগলিতে পৌঁছেইনি এমন সময় নাজিল হলো فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ ‘কাজেই তোমাকে যে বিষয়ের হুকুম দেয়া হয়েছে তা জোরে-শোরে প্রকাশ্যে প্রচার করো, আর মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।’ সুরা হিজর, আয়াত : ৯৪
এ আয়াত অবতীর্ণের পর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিক সমাজে ও অলিগলি ঘুরে ঘুরে প্রকাশ্যভাবে দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন। তাদের নিকট আল্লাহর কিতাব পড়ে শুনাতে থাকলেন, অন্যান্য রাসুলগণ যা দাওয়াত দিতেন তাই প্রচার করতে থাকলেন, يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ নেই।’ সুরা আরাফ, আয়াত : ৫৯
দৃষ্টির সামনেই আল্লাহর ইবাদত করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি প্রকাশ্য দিবালোকে কুরাইশ নেতাদের সামনে কাবা প্রাঙ্গণে নামাজ আদায় করতেন। তাঁর দীনের দাওয়াত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে লাগলেন এবং একের পর এক লোকজন শান্তির ধর্ম ইসলামে দীক্ষিত হতে থাকলেন।
ফলে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেননি, এ উভয় দলের বাড়তি হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা-বিরোধিতা ক্রমে বেড়েই চলল এবং কুরাইশগণ সর্বদিক থেকে মুমিনদের ঘৃণা করতে থাকল এবং তাদের সাধ্যমতো ইসলামের সাথে মন্দ আচরণ করতে লাগল।
নবীন নিউজ/জেড
মহানবী এর রওজা জিয়ারতের নতুন নিয়ম ও সময়সূচি ঘোষণা
চাকরি হচ্ছে না? এই ২ আমলে দ্রুত মিলবে সমাধান
মসজিদের পাশে কবর দিলে কি কবরের আজাব কম হয়?
বাংলাদেশ থেকে এবার কতজন হজে যেতে পারবেন, জানাল মন্ত্রণালয়
বিশ্বের প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে যে ইতিহাস গড়ল মালদ্বীপ
স্বামীর ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার কোরআনি আমল
অভাব-অনটন থেকে মুক্তি মিলবে যে দোয়ায়
আল-আজহার মসজিদের ১ হাজার ৮৫ বছর উপলক্ষে ইফতারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
একটি পাখির কারণে আফ্রিকার প্রথম মসজিদের স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল!
ধর্ষণকারীকে যে শাস্তি দিতে বলেছে ইসলাম
রোজা রেখে আতর-পারফিউম ব্যবহার করা যাবে?
ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন আজহারী
রোজার মাস মানেই কি ভালো খাবার খাওয়া?
রমজানে রোগীদের জন্য কিছু মাসয়ালা
অজু-গোসলের সময় গলায় পানি গেলে রোজা ভেঙে যাবে?
মসজিদে হারাম ও নববিতে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
ইফতারে ঝটপট সবজি কাটলেট তৈরি করবেন যেভাবে
আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভেঙে যাবে?
ইফতারের পর ধূমপান করলে যেসব বিপদ ঘটে শরীরে
যেসব কারণে রোজার ক্ষতি হয় না
জাকাতের টাকায় ইফতার সামগ্রী দেওয়া যাবে?
ইফতারের আগে করা যায় যেসব আমল
রোজা আদায় না করলে যে শাস্তি
মানুষের সেবা করার সেরা মাস রমজান
‘আমিই জীবন দেই, আমিই মৃত্যু দেই, আর আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে’
রমজানে যে ৭ আমল বেশি করতে হবে
রমজান মাসে ফজিলতপূর্ণ যে ৩ আমল করবেন
ইফতারে আরবদের পাতে শোভা পায় যেসব ঐতিহ্যবাহী খাবার
রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজানে ওমরা করলে আসলেই কি হজের সওয়াব পাওয়া যায়?