নবীন নিউজ, ডেস্ক ০৪ সেপ্টেম্বার ২০২৪ ০৩:৫৬ পি.এম
নামাজ, রোজা ও দরুদ শরিফের মতো ‘ফাতিহায়ে ইয়াজ-দাহম’ ও ‘ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম’ ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। 'ফাতিহা' অর্থ দোয়া করা বা মোনাজাত করা আর ‘ইয়াজ-দাহম’ অর্থ এগারো ও 'দোয়াজ-দাহম' অর্থ বারো। ফাতিহায়ে ইয়াজ-দাহম বলতে এগারো তারিখের দোয়া বা মোনাজাতের দিনকে বোঝায় আর ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম বলতে বারো তারিখের দোয়া বা মোনাজাতকে বোঝায়।
প্রতি বছর ১১ রবিউস সানি ফাতিহায়ে ইয়াজ-দাহম আর ১২ রবিউল আউয়াল ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম পালন করা হয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না ফাতিহায়ে ইয়াজ-দাহম ও ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম কী।
‘রবিউল আউয়াল’ মাসের ১২ তারিখ আখেরি নবী ও সর্বশেষ রাসুল হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত দিবসকে ‘ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম’ তথা ১২ তারিখের ফাতিহা পাঠ অনুষ্ঠান বলা হয়। ‘রবিউস সানি’ মাসের ১১ তারিখ বড় পীরখ্যাত আবদুল কাদের জিলানি রহ.–এর ওফাত দিবসকে ‘ফাতিহায়ে ইয়াজ-দাহম’ অর্থাৎ ১১ তারিখের ফাতিহা পাঠ অনুষ্ঠান বলা হয়।
ফাতিহায়ে দোয়াজ-দাহম
হিজরি সনের তৃতীয় মাস হলো রবিউল আউয়াল। ‘রবি’ অর্থ বসন্তকাল, ‘আউয়াল’ মানে প্রথম; ‘রবিউল আউয়াল’ মানে হলো প্রথম বসন্ত বা বসন্তকালের প্রথম মাস। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১২ রবিউল আউয়াল দুনিয়াতে শুভাগমন করেন। এই মাসের ১২ তারিখেই আখেরি নবীর তিরোধান বা ওফাত হয়েছিল।
রবিউল আউয়াল মাসটি মুসলিম সমাজে নবী করিম সা.–এর জন্মেরও স্মারক হিসেবে পালিত হয়, যা ‘ফাতিহায়ে দোয়াজ–দাহম’ নামে পরিচিত। কালক্রমে দিনটি ‘মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এর অর্থ হলো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর জন্মানুষ্ঠান। ধীরে ধীরে এর সঙ্গে ‘ঈদ’ শব্দ যোগ হয়ে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী সা.’ রূপ লাভ করে। যার অর্থ হলো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর জন্মোৎসব। এ পর্যায়ে আরেকটি পরিভাষাও প্রচলিত হতে থাকে ‘সিরাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর জীবন চরিত বা জীবনী আলোচনা অনুষ্ঠান।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। আবার এই দিনে তিনি ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এ দিনটি তাই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত।
মানুষকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। ইসলামের নবী রাসুলে করিম হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী ও রাসুল। সমগ্র মানবজাতির জন্য তিনি শান্তি ও কল্যাণের বাণী নিয়ে এসেছিলেন। তাদের কল্যাণেই উৎসর্গীকৃত ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণাঢ্য ও কর্মময় জীবন। তিনি ছিলেন ন্যায়নিষ্ঠ, সৎ, সত্যবাদী এক মহাপুরুষ; মানবের মুক্তি ও কল্যাণ সাধনায় যিনি জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন। নবুয়ত লাভের আগেই তিনি সততা ও সত্যবাদিতার জন্য ‘আল আমিন’ উপাধিতে ভূষিত হন এবং বিবদমান সব সম্প্রদায় তাঁকে প্রিয় নেতা হিসেবে মেনে নেয়।
ফাতিহায়ে ইয়াজ-দাহম
হিজরি সনের চতুর্থ মাস হলো ‘রবিউস সানি’। একে ‘রবিউল আখির’ও বলা হয়। এটি ‘রবিউল আউয়াল’ মাসের জোড়া মাস। ‘রবি’ অর্থ বসন্ত, ‘সানি’ অর্থ দ্বিতীয়, ‘আখির’ অর্থ শেষ বা অন্য। ‘রবিউস সানি’ অর্থ হলো বসন্তকালের দ্বিতীয় মাস বা অন্য বসন্ত।
গাউসুল আজম বড়পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানি রহ.-এর ওফাত দিবস ‘ফাতেহায়ে ইয়াজ-দাহম’ নামে পরিচিত। হজরত আবদুল কাদের জিলানি রহ.-এর স্মরণে এ ফাতেহা পাঠ করা হয়। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন।
ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মনেতা হজরত আবদুল কাদের জিলানী রহ. এর নাম প্রত্যেক মুসলমানের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে তার প্রভাব অপরিসীম। তার জীবনী ও কীর্তিগাথা মুসলমানদের হৃদয়ে চিরদিন জীবন্ত হয়ে থাকবে। একজন আদর্শ পুরুষ হিসেবে বিশ্ব জগতে মুসলমানদের কাছে হজরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী রহ. কে পরম ভক্তি, শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে। পৃথিবীতে আল্লাহ পাকের প্রেরিত নবী-পয়গম্বর এসেছেন ১ লাখ বা ২ লাখ ২৪ হাজার।
অন্যদিকে কামেল পীর, অলি, দরবেশ, ফকির যে কত এসেছেন তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সব পীর, ফকির, দরবেশ, অলির সেরা ছিলেন হজরত আবদুল কাদের জিলানী রহ. মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। তখন ইসলাম ধর্ম এক নাজুক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিল। পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সা.-এর আদর্শ ভুলে মানুষ বিপথে পা বাড়িয়েছিল, ঠিক এমনি সময় হজরত বড়পীর ইসলামের পথে মানুষকে ডাক দিয়েছিলেন।
হজরত আবদুল কাদের জিলানী রহ. এর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। হজরত আবদুল কাদের জিলানি রহ. ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাগদাদের মহান পীর হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমির রহ. কাছে মারেফাতের জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেন এবং খেলাফত প্রাপ্ত হন।
এ কথা অনস্বীকার্য হজরত আবদুল কাদির জিলানী রহ. এর অবদান বিশ্বে অনন্য। তিনি মুসলিমদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তবে তার ওফাত উপলক্ষ্যে ঘটা করে দিনটি পালন করাকে উলামায়ে কেরাম জায়েজ মনে করেন না। কেননা ইসলাম এ ধরনের অনুষ্ঠানসর্বস্ব বিষয়কে স্বীকৃতি দেয় না। তবে এ দিনে তার শান্তির জন্য দোয়া মুনাজাত ও তার জীবনী আলোচনা করা যেতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই।
নবীন নিউজ/জেড
মহানবী এর রওজা জিয়ারতের নতুন নিয়ম ও সময়সূচি ঘোষণা
চাকরি হচ্ছে না? এই ২ আমলে দ্রুত মিলবে সমাধান
মসজিদের পাশে কবর দিলে কি কবরের আজাব কম হয়?
বাংলাদেশ থেকে এবার কতজন হজে যেতে পারবেন, জানাল মন্ত্রণালয়
বিশ্বের প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে যে ইতিহাস গড়ল মালদ্বীপ
স্বামীর ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার কোরআনি আমল
অভাব-অনটন থেকে মুক্তি মিলবে যে দোয়ায়
আল-আজহার মসজিদের ১ হাজার ৮৫ বছর উপলক্ষে ইফতারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
একটি পাখির কারণে আফ্রিকার প্রথম মসজিদের স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল!
ধর্ষণকারীকে যে শাস্তি দিতে বলেছে ইসলাম
রোজা রেখে আতর-পারফিউম ব্যবহার করা যাবে?
ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন আজহারী
রোজার মাস মানেই কি ভালো খাবার খাওয়া?
রমজানে রোগীদের জন্য কিছু মাসয়ালা
অজু-গোসলের সময় গলায় পানি গেলে রোজা ভেঙে যাবে?
মসজিদে হারাম ও নববিতে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
ইফতারে ঝটপট সবজি কাটলেট তৈরি করবেন যেভাবে
আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভেঙে যাবে?
ইফতারের পর ধূমপান করলে যেসব বিপদ ঘটে শরীরে
যেসব কারণে রোজার ক্ষতি হয় না
জাকাতের টাকায় ইফতার সামগ্রী দেওয়া যাবে?
ইফতারের আগে করা যায় যেসব আমল
রোজা আদায় না করলে যে শাস্তি
মানুষের সেবা করার সেরা মাস রমজান
‘আমিই জীবন দেই, আমিই মৃত্যু দেই, আর আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে’
রমজানে যে ৭ আমল বেশি করতে হবে
রমজান মাসে ফজিলতপূর্ণ যে ৩ আমল করবেন
ইফতারে আরবদের পাতে শোভা পায় যেসব ঐতিহ্যবাহী খাবার
রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজানে ওমরা করলে আসলেই কি হজের সওয়াব পাওয়া যায়?