মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
সারাদেশ

ভৈরবের জোয়ার-ভাটায় যেন জীবন বাঁধা তাদের!

নবীন নিউজ ডেস্ক ২৬ জুলাই ২০২৪ ১০:১৮ এ.এম

সংগৃহীত ছবি সংগৃহীত ছবি

বছরের পর বছর ধরে বর্ষা এলেই পানিবন্দি হয়ে পড়েন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ভৈরব নদের জোয়ার-ভাটায় যেনো বাঁধা পড়েছে তাদের জীবন। প্রতিদিন দুই দফায় নদীর জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা পানিবন্দি থাকেন তারা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, ষাটের দশকে নির্মিত স্লুইস গেটগুলোর অধিকাংশই অকার্যকর হয়ে গেছে। এছাড়া রয়েছে অব্যবস্থাপনা। ফলে ভৈরব নদে জোয়ার এলেই পানি ঢোকে লোকালয়ে। তার ওপর অপরিকল্পিত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করা, উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারের ধীরগতি ছাড়াও কেসিসি কার্যকর কোনও পদক্ষেপ না নেয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ এখন চরমে।

খুলনার টুটপাড়া দিলখোলা রোডের বাসিন্দা দিনমজুর শ্রমিক মো. দুলালের বাড়িতে বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে হাঁটুসমান পানি। নেই টয়লেট এবং রান্নার ব্যবস্থা। ঘরের প্রতিটি আসবাবপত্র পানিতে তলিয়ে গেছে। দেখে মনে হবে এটা বন্যায় প্লাবিত কোনও এলাকার চিত্র। 

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের তিন মাস এমন দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। প্রতিদিন দুপুর আড়াইটা থেকে বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করে; সন্ধ্যা ৬টা-৭টা পর্যন্ত থাকে। আবার রাত আড়াইটা থেকে পানি উঠতে শুরু করে। দুই দফায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা পানিবন্দি থাকেন তারা। ফলে অমানবিক জীবনযাপনের পাশাপাশি দিনের অধিকাংশ সময় পার হয় পানির হাত থেকে আসবাবপত্র বাঁচাতে।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলালের স্ত্রী কোহিনুর বেগম জানান, নোংরা এসব পানির কারণে রোগব্যাধির আশঙ্কা তো আছেই। তার ওপর সাপ, পোকামাকড়  ড্রেনের ময়লা ঘরে ঢোকে। রান্নাঘরে হাঁটুসমান পানি। আবার রাইস কুকারে রান্না করতে গেলে বিদ্যুৎ শকের ভয় রয়েছে। অধিকাংশ দিনই শুকনো খাবার খেতে হচ্ছে।

জোয়ারের পানিতে নাকাল নগরীর খানজাহান আলী রোডের বাসাবাড়ি, দোকান, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল ও মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়াটার্সসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়। বিশেষ করে টুটপাড়া মেইনরোড, বড় খালপাড়, মোল্লাপাড়া, জিন্নাহপাড়া ও টিবি ক্রসরোডসহ ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয় প্রতি বর্ষা মৌসুমে। প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় এসব এলাকার কয়েক হাজার পরিবার। পানিবন্দি এসব মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আরিফ হোসেন মিঠু বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের ইসলামপাড়া, আমতলা, মোল্লাপাড়া, মুজাহিদপাড়া ও মতিয়াখালী -- এ পাঁচটি এলাকা প্রতিনিয়ত জোয়ায়ের পানিতে প্লাবিত হয়। বছরে ৩-৪ মাস এমন হচ্ছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এর একটা ব্যবস্থা করার আশ্বাস সবাই দিয়েছে। কিন্তু সমাধান পাচ্ছি না। আর মূল সমস্যা হলো, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স দুটি স্লুইস গেট ভেঙে আবার নির্মাণ করছে। কিন্তু এদের কাজে এত ধীরগতি যে, আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। মেসার্স সেলিম নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানও বাঁধ নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া স্লুইস গেটটি একেবারে খারাপ। আমার নিজের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে পানি উঠতেছে। আমি নিজেই অসুবিধায় আছি, আমার জনগণও অসুবিধায় আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। আমি কাউন্সিলর, আমাদের একটা প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে যেতে হয়। আমার কিছু প্রজেক্ট দেয়া আছে; কিন্তু সেগুলো পাস হয়ে আসেনি। তারপরও আমরা মেয়র মহাদয়ের কাছে যাই এবং বলি। তিনি আশ্বাস দেন; কিন্তু আসলে কবে নাগাদ হবে -- এটা মেয়র মহোদয় ও উপর মহল জানেন।’

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধারাবাহিক দুর্যোগের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। এখানে মূল যে সমস্যা হলো, আমাদের নগরপিতা এবং সংশ্লিষ্ট যে দফতরসমূহ রয়েছে সেই দফতরের কর্মকর্তারা উদাসীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং কোন প্রকার জবাবদিহিতা বা স্বচ্ছতার মধ্যে নেই। যে কারণে স্লুইসগেটগুলো একেবারেই অচল এবং জোয়ারের পানি ঘরে উঠে যায়। একেবারে ঘর, বাথরুম, টয়লেট সব মিলে একাকার হয়ে যায়।’
 
‘মানুষের জীবন শুধু অসহনীয় নয়, এর চরম পর্যায়ও ছাড়িয়ে গেছে। সুতরাং এ অঞ্চলের মানুষ কেমন করে বসবাস করে চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। নির্বাচন এলে দেখি প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নগরপিতাসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু নির্বাচনের পরে তারা আদৌ দায়িত্ব পালনের কাছাকাছি যান না’, যোগ করেন তিনি।

আর কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, চলমান উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হলেই মিলবে সমাধান। খুলনা শহরের পানি অপসারণের জন্য ৭টি পয়েন্টে ১৯টি স্লুইস গেট ও ৩৮টি আউটলেট রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি স্লুইস গেটে কাজ চলছে। নগরীর পানি অপসারণের জন্য রূপসায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বুস্টার পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আশা করি, আগামী ৬ মাসের মধ্যে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার সমস্যা কাটবে।’

নবীন নিউজ/পি

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়েকে হত্যার পর ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস

news image

এবার যারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তারা মরার প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন : জেলা প্রশাসক

news image

টঙ্গীতে হঠাৎ খিঁচুনি উঠে অসুস্থ অর্ধশতাধিক শ্রমিক

news image

আপাতত কমছে না শীতের প্রকোপ

news image

ঋণের মামলা থেকে বাঁচতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন সবুর

news image

হাদির ছবি আঁকা হেলমেট পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন আশিক চৌধরী

news image

ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা ভারতে প্রবেশ করেছে: জুলকারনাইন সায়ের

news image

মিরপুর চিড়িয়াখানার খাঁচা থেকে বেরিয়ে গেছে সিংহ

news image

চকবাজারের আবাসিক ভবনে আগুন

news image

মধ্যরাতে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

news image

বিছানায় ২ সন্তানের গলাকাটা মরদেহ, পাশেই রশিতে মায়ের ঝুলন্ত লাশ

news image

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার আন্দোলন করতে গিয়ে নিজেরাই বিভক্ত!

news image

মেট্রোরেলে গাঁজা পরিবহন, বাবা-মেয়ে আটক

news image

কুমিল্লায় জামায়াত নেতার গাড়িতে অগ্নিসংযোগ

news image

অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

news image

যুবলীগের নেতা নিখোঁজ, ছেলের মরদেহ নদীর থেকে উদ্ধার

news image

ফ্ল্যাটে স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ, পাশে গুরুতর আহত স্বামী

news image

বিএনপি কর্মীর মাথা ফাটালেন জামায়াত নেতারা

news image

ফতুল্লায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার ৩ সংবাদকর্মী

news image

বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে সোহেল তাজকে

news image

কর্মীর হাতে পিটুনি খেয়ে বিএনপি নেতার আত্মহত্যা

news image

ইবনে সিনা হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর

news image

আসন পুনর্বহালের দাবিতে নির্বাচন ভবন ঘেরাও

news image

বদলি হলেই নতুন বিয়ে! সরকারি কর্মকর্তার ১৭ স্ত্রীর অভিযোগে তোলপাড়

news image

দাওয়াত না দেওয়ায় মাদ্রাসার সব খাবার খেয়ে ও নষ্ট করে গেলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা

news image

দালাল ও দুর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্য দৌলতপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

news image

মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে স্কুলছাত্রীকে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতক

news image

বিএনপির কাউন্সিলে ভোট গণনার সময় ব্যালট বাক্স ছিনতাই

news image

বিদেশে বসে আদালতে ‘সশরীরে’ হাজিরা দেন আসামি

news image

শ্বাসরোধে হত্যার পর উর্মীর মরদেহ খালে ফেলে দেন মা-বাবা