রোজাকে আরবি ভাষায় সাওম বলা হয়। সাওমের আভিধানিক অর্থ কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা। ইসলামি পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সঙ্গে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নাম সাওম বা রোজা। রমজান শব্দটি আরবি রমজ থেকে এসেছে। যার অর্থ পুড়িয়ে ফেলা। পুরো মাসব্যাপী এই রোজা মানুষের মধ্যকার সমস্ত পাপ ও অকল্যাণকে পুড়িয়ে ফেলে তাকে আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়, সেজন্য এর নাম সিয়াম বা সংযম। এ মাসে অপ্রাপ্ত বয়স্ক, অসুস্থ, মুসাফির, পাগল, রজঃস্রাবসম্পন্ন নারী ও শরিয়তের পরিভাষায় অক্ষম ছাড়া প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর রোজা পালন করা ফরজ।
তাকওয়া আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো পরহেজগারী বা আল্লাহভীতি। তাকওয়ার আভিধানিক অর্থ ভয় করা, বিরত থাকা, বর্জন করা, আত্মশুদ্ধি, পরহেজ করা ও নিজেকে কোনো অনিষ্ট থেকে সম্ভাব্য সব উপায়ে বাঁচিয়ে রাখা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সব ধরনের অন্যায় ও অনাচার বর্জন করে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশমতো জীবনযাপনের মাধ্যমে আল্লাহকে প্রতিনিয়ত ভয় করে চলাকে তাকওয়া বলে।
প্রকৃতপক্ষে পবিত্র রমজানের রোজা পালনের দ্বারা সব ধরনের অপবিত্রতা থেকে দেহ ও মনকে রক্ষা করা হয়। সিয়াম সাধনা মানুষের মনের কলুষতাকে পুড়িয়ে নষ্ট করে মনকে নির্মল ও পবিত্র করে তোলে। পাপরাশিকে সম্পূর্ণরূপে দগ্ধ করে মানুষকে করে তোলে পুণ্যবান। সাধারণ মানুষকে আল্লাহতায়ালার করুণা ও ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য করে তোলে। আর এটাই হচ্ছে রোজার মূলতত্ত্ব। হাদিসে উল্লেখ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা ইমান ও ইখলাসের সঙ্গে পালন করে তার অতীতের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ -সহিহ বুখারি
আর যে ব্যক্তি রমজানে রাত্রি জাগরণ করে ইবাদতে লিপ্ত থাকে তারও পূর্ববর্তী সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি শবেকদরে ইমানের সঙ্গে ইবাদত করে তারও সব গুনাহ আল্লাহতায়ালা ক্ষমা করে দেন। -(সহিহ বুখারি) রোজা পালনের দ্বারা মানুষের ইন্দ্রিয়লব্ধ পাপরাশি জ্বলে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং দেহ কাঠামো পাপমুক্ত ও পবিত্র হয়।
বস্তুত রোজা হলো কুপ্রবৃত্তিকে আয়ত্তে আনার হাতিয়ার। রোজা মনকে পরিচ্ছন্ন ও উজ্জ্বল করে। রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ। শত্রুর আক্রমণ থেকে ঢাল যেরূপ পরিত্রাণ দেয়, রোজা সেরূপ রোজাদারকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা, অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে আত্মরক্ষা এবং দোজখের শাস্তি থেকে মুক্তিলাভের জন্য ঢালস্বরূপ। অথচ এ ঢালকে অক্ষুণ রাখার জন্য মিথ্যা ও পরনিন্দা থেকে পরহেজ থাকতে হবে। কিয়ামতের দিন রোজাদারের জন্য রোজা সুপারিশ করবে।
রোজাদারের জান্নাতে প্রবেশের জন্য ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা আছে, সে দরজা দিয়ে রোজাদাররা প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করবে এবং তারা কখনো তৃষ্ণার কষ্ট পাবে না। অন্যরাও এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে। কিন্তু রোজাদার ছাড়া অন্য কাউকে এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
নবীন নিউজ/জেড
মহানবী এর রওজা জিয়ারতের নতুন নিয়ম ও সময়সূচি ঘোষণা
চাকরি হচ্ছে না? এই ২ আমলে দ্রুত মিলবে সমাধান
মসজিদের পাশে কবর দিলে কি কবরের আজাব কম হয়?
বাংলাদেশ থেকে এবার কতজন হজে যেতে পারবেন, জানাল মন্ত্রণালয়
বিশ্বের প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে যে ইতিহাস গড়ল মালদ্বীপ
স্বামীর ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার কোরআনি আমল
অভাব-অনটন থেকে মুক্তি মিলবে যে দোয়ায়
আল-আজহার মসজিদের ১ হাজার ৮৫ বছর উপলক্ষে ইফতারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
একটি পাখির কারণে আফ্রিকার প্রথম মসজিদের স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল!
ধর্ষণকারীকে যে শাস্তি দিতে বলেছে ইসলাম
রোজা রেখে আতর-পারফিউম ব্যবহার করা যাবে?
ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন আজহারী
রোজার মাস মানেই কি ভালো খাবার খাওয়া?
রমজানে রোগীদের জন্য কিছু মাসয়ালা
অজু-গোসলের সময় গলায় পানি গেলে রোজা ভেঙে যাবে?
মসজিদে হারাম ও নববিতে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
ইফতারে ঝটপট সবজি কাটলেট তৈরি করবেন যেভাবে
আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভেঙে যাবে?
ইফতারের পর ধূমপান করলে যেসব বিপদ ঘটে শরীরে
যেসব কারণে রোজার ক্ষতি হয় না
জাকাতের টাকায় ইফতার সামগ্রী দেওয়া যাবে?
ইফতারের আগে করা যায় যেসব আমল
রোজা আদায় না করলে যে শাস্তি
মানুষের সেবা করার সেরা মাস রমজান
‘আমিই জীবন দেই, আমিই মৃত্যু দেই, আর আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে’
রমজানে যে ৭ আমল বেশি করতে হবে
রমজান মাসে ফজিলতপূর্ণ যে ৩ আমল করবেন
ইফতারে আরবদের পাতে শোভা পায় যেসব ঐতিহ্যবাহী খাবার
রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজানে ওমরা করলে আসলেই কি হজের সওয়াব পাওয়া যায়?