নবীন নিউজ, ডেস্ক ০১ অক্টোবার ২০২৪ ০১:০৪ পি.এম
নাৎসি গণহত্যার একটি গোপন ডায়েরি থেকে জানা যায় কীভাবে একসঙ্গে ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। লিখেছেন সালাহ উদ্দিন শুভ্র পোল্যান্ডে ১৯৯৯ সালে একটি অসাধারণ বই প্রকাশিত হয়। এর লেখক কাজিমিয়ের্জ সাকোভিচ বই প্রকাশের ৫৫ বছর আগে মারা যান। এর আগে দীর্ঘ সময় তিনি ওই ডায়েরি লেখেন এবং সংরক্ষণ করেন। তিনি তার লেখা প্রকাশ হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। পরে গণহত্যার ভুক্তভোগী এক গবেষক তার ডায়েরিটি খুঁজে বের করেন। যদিও তার আগেই হত্যা করা হয় সাকোভিচকে। তার বইয়ের বিষয় ছিল ১৯৪১ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ লোককে হত্যা করে নাৎসিরা। যাদের অধিকাংশ ছিল ইহুদি এবং নাৎসি বিরোধী। লিথুয়ানিয়া থেকে কয়েক মাইল দূরে পোনার জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। যাদের একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হয় এবং গণকবরে সমাহিত করা হয়। জার্মানরা এটা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল যে, পোনার নামের ওই জঙ্গলে যা ঘটেছিল তা চিরকালের জন্য গোপন রাখা যাবে। তারা তখন জানত না যে ওই গণহত্যার কাছেই অবিশ্বাস্যভাবে অবস্থানরত কেউ সেই ঘটনা লিখে রাখবে।
এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য আটলান্টিক। সেখানে তারা আরও জানাচ্ছে, সাকোভিচ ছিলেন একজন পোলিশ সাংবাদিক। যার কর্মজীবন অবশ্য ১৯৪০ এর দশকের গোড়ার দিকে লাইনচ্যুত হয়। কারণ সোভিয়েতরা তখন লিথুয়ানিয়া দখলে রাখে। তারা স্থানীয় ব্যবসা থেকে শুরু করে সব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এ সময়ে সাকোভিচ এবং তার স্ত্রী মারিয়া শহর ছাড়তে বাধ্য হন। তারা কয়েক মাইল দূরে একটি ছোট বসতির রেললাইনের পাশের বাড়িতে থাকতে শুরু করন। সেখান থেকে সাকোভিচ সাইকেল চালিয়ে শহরে যে কোনো কাজ খুঁজে পেতেন। পোনার নামক ওই জঙ্গলের কাছে সাকোভিচ বাস করছিলেন, যেখানে ১৯৪১ সালের জুনের শেষের দিকে জার্মানরা আসে। তার বাড়ির ঠিক পাশে জঙ্গল এলাকায় একটি অসমাপ্ত সোভিয়েত জ্বালানি ডিপো পুনরুদ্ধার করেছিলেন। একটি ছোট জানালা দিয়ে সাকোভিচ ঘেরা জায়গাটির কিছু অংশ দেখতে পান যেখানে হত্যাকাণ্ড হয়। আর তিনি নিজের চোখে যেসব দেখতে পাননি, সেগুলো প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনে নিয়েছিলেন।
যেভাবে লেখা
সাকোভিচ প্রথমে সিদ্ধান্ত নেন তার চারপাশে যা ঘটছে সে সম্পর্কে লিখে রাখা, সব ঘটনা গোপনে রেকর্ড করা। তিনি কাগজে পোলিশ ভাষায় বিশদ নোট নেন। কখনো কখনো একটি ক্যালেন্ডারের পৃষ্ঠায় যে তারিখ থাকত তার চারপাশের সাদা স্থানগুলোতে লিখতেন। তিনি যা দেখেছেন এবং শুনেছেন সেসব বিবরণ তৈরি করেছেন। আবার একটি ডায়েরিতে নিজে যা সরাসরি দেখেছেন এবং অন্যের কাছ থেকে শুনেছেন, সেগুলো আলাদা করে লিখেছেন। ঠিক কেন সাকোভিচ এভাবে ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন তা অনুমান করলে মনে হতে পারে, মাঝপথে থেমে যাওয়া সাংবাদিক জীবনটা তিনি আবার শুরু করতে চেয়েছেন। তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা ব্যর্থ সাংবাদিক মন হয়তো তখনো জানত না জীবনের সবচেয়ে বড় রিপোর্টিং করছেন তিনি। যা ইতিহাসেরই এক প্রামাণ্য দলিল হয়ে থাকবে। তিনি এমন সব প্রমাণ জড়ো করছিলেন যা একদিন দোষীদের দোষী সাব্যস্ত করতে কাজে আসবে। এত কিছু নিশ্চয় তার মাথায় ছিল না। হয়তো শুধু ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এমনটা করেন। সহজাত কর্তব্যবোধ বা প্রতিবাদ থেকে লিখেছিলেন। তিনি কি ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনা করেননি? কারণ তিনি যা করছিলেন তা জানাজানি হলে তার স্ত্রীর বিপদ হতো। সাকোভিচের কর্মকাণ্ড অবশ্য বলছে এ ঝুঁকি বিষয়ে তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন। তিনি গোপনীয়তার সঙ্গে নোট নিয়েছেন। লেখা শেষে ডায়েরির পাতাগুলো গুটিয়ে লেমনেডের বোতলে আটকে রাখেন। তারপর সেগুলো বাড়ির কাছে পুঁতে রাখেন। শুধু একজন ব্যক্তির বিবরণ হলেও সাকোভিচ যা লিখেছেন, তা একজন গণহত্যার সাক্ষীর বিবরণ।
বিবরণ
বেশ সুন্দর আবহাওয়া, উষ্ণ, সাদা মেঘ, বাতাস, গুলির শব্দ আসছে বনের দিক থেকে। মনে হয় তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, বনের মধ্যে নভোসিওলকি গ্রামের পথে একটি গোলাবারুদের ডিপো আছে। বিকেল ৪টা বাজে; গোলাগুলি এক বা দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। গ্রডজিওংকার রাস্তায় আমি দেখেছি যে, অনেক ইহুদিকে বনে আনা হয়েছে। এবং হঠাৎ তাদের গুলি করা হয়। এটি ছিল হত্যার প্রথম দিন। এটি পরিষ্কার অত্যাচার। রাত ৮টার পর গোলাগুলি শান্ত হয়; পরে আরও কিছু গুলির শব্দ শোনা যায়। এর মধ্য দিয়ে যাওয়া ইহুদির সংখ্যা ছিল ২০০। গ্রডজিওংকায় একটি লিথুয়ানিয়ান পুলিশ পোস্ট রয়েছে। যারা পাশ দিয়ে যাচ্ছে তাদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন ১২ জুলাই, শনিবার, আমরা ইতিমধ্যেই জানতাম কী ঘটছে, কারণ প্রায় ৩টায় ইহুদিদের একটি বড় দলকে বনে নিয়ে যাওয়া হয়, প্রায় ৩০০ জন। তারা দেখতে প্রধানত সুটকেসসহ সুন্দর পোশাক পরা, তাদের ভালো অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য পরিচিত। এক ঘণ্টা পর গুলি শুরু হয়। একসঙ্গে দশজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা (জার্মানরা) তাদের ওভারকোট, ক্যাপ এবং জুতা খুলে ফেলল। কিন্তু তাদের ট্রাউজার নয়! পরবর্তী দিনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় জুলাইয়ের ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ এবং ১৯ তারিখে। পরের আরেকটি বিবরণ এমন ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ রাস্তায় মানুষের একটি দীর্ঘ মিছিল, আক্ষরিক অর্থে রেলরোড ক্রসিং থেকে ছোট্ট চার্চ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সারি! ক্রসিং পার হতে তাদের ১৫ মিনিট লেগেছিল... শুধু মহিলা এবং শিশু। যখন তারা গ্রোডনো হাইওয়ে থেকে বনে প্রবেশ করেছিল, তখন তারা বুঝতে পেরেছিল যে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে এবং চিৎকার করে বলেছিল, ‘আমাদের বাঁচাও!’
খুঁজে পাওয়া সাকোভিচের ডায়েরি প্রকাশ হয়েছিল প্রায় সম্পূর্ণভাবে একজন ব্যক্তির প্রচেষ্টায়। তার নাম রাচেল মার্গোলিস। যুদ্ধের সময় মার্গোলিস লিথুয়ানিয়ায় ছিলেন। জার্মানদের দখলদারিত্বের শেষ সপ্তাহে পোনারে গুলিবিদ্ধদের মধ্যে তিনি তার বাবা-মা এবং ভাইকে হারিয়েছিলেন। ১৯৮০ এর দশকের লিথুয়ানিয়া স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হয়। মার্গোলিস তখন ভিলনিয়াসের ইহুদি জাদুঘরের সঙ্গে জড়িত হন। একদিন লিথুয়ানিয়ান সেন্ট্রাল স্টেট আর্কাইভসে নথি অনুসন্ধান করার সময়, তিনি একটি ফোল্ডারে ১৬ হলুদ রঙের কাগজ দেখতে পান। যার তারিখগুলো ছিল ১১ জুলাই ১৯৪১ থেকে আগস্ট ১৯৪২ পর্যন্ত চলমান। মার্গোলিস মনে করতে পারেন, তিনি যুদ্ধের পরে লেখা লিথুয়ানিয়ান প্রকাশনাগুলোতে কিছু উদ্ধৃতি দেখেছিলেন, যা এই কাগজের লেখার সঙ্গে মিলে যায়। জাদুঘরের একজন কর্মচারী
তাকে এ নথিগুলোর কথা বলেছিলেন। মার্গোলিসের কাছে সাকোভিচের কথার গুরুত্ব সুস্পষ্ট ছিল। ঘটনার বিবরণের প্রতি সাকোভিচের ‘শীতল বৈরাগ্য’ একজন সাক্ষী হিসেবে তার বিশ্বাসযোগ্যতাকে শক্তিশালী করেছিল। মার্গোলিস বলেন, আমি মনে করি না যে তিনি একজন ইহুদি-বিরোধী ছিলেন।
কিন্তু আমি ইহুদিদের প্রতি সহানুভূতির কোনো লক্ষণ দেখতে পাই না। তিনি উদাসীন। কিন্তু তিনি তাদের মৃত্যুর বর্ণনা দেন এবং এটি করার মাধ্যমে, তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা কীভাবে এত ইহুদির মৃত্যু হয়েছিল সেই স্থানটিকে চিহ্নিত করে। মার্গোলিস যখন প্রথম পোলিশ সংস্করণের মুখবন্ধে লিখেছিলেন, তখন তিনি ধরে নিয়েছিলেন যে সাকোভিচ ১৯৪৩ সালের নভেম্বরে ডায়েরি লেখা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। মার্গোলিস উল্লেখ করেন যে, ডায়েরির শেষের দিকের সাকোভিচ তার দুর্দশার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, আমি এটি (হত্যার কোনো ঘটনা হতে পারে) বেশিক্ষণ দেখতে পারিনি, কারণ আমি ভয়ে ছিলাম; ওরা আমাকে সন্দেহের চোখে দেখে। মার্গোলিস এ থেকে অনুমান করেন যে, এরপর সাকোভিচকে খুঁজে পেয়েছিল জার্মান মারাত্মক পরিণতিসহ। বইটি প্রকাশিত হওয়ার সময় এর পোলিশ সম্পাদক জ্যান
মালিনোস্কি একটি পাল্টা বর্ণনা যোগ করেন। তিনি জানান, সাকোভিচের চাচাতো ভাইকে খুঁজে পেয়েছিলেন। যাকে যুদ্ধের পর সাকোভিচের স্ত্রী মারিয়া কিছু কথা বলেছিলেন। মারিয়ার মতে সাকোভিচ ১৯৪৪ সালের জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত ডায়েরিটি লিখে রেখেছিলেন। যেহেতু সোভিয়েতরা কাছাকাছি চলে এসেছিল, তাই সব সময় এটি লুকিয়ে রাখতে হয়েছিল। তারপর ৫ জুলাই সাইকেল চালিয়ে ভিলনিয়াসে যাওয়ার সময় সাকোভিচ গুলিবিদ্ধ হন। মারিয়া স্পষ্টতই অনুমান করেছিলেন যে স্থানীয় লিথুয়ানিয়ানরা তার স্বামীকে সন্দেহ করত।
আরও স্মৃতি
পোনারের অন্ধকার ইতিহাসের আরেকটি প্রাণবন্ত প্রত্যক্ষ বিবরণ রয়েছে। যা একেবারে ভিন্ন ধরনের। এটিও সুযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শীর দ্বারা লিখিত। যার নাম জোসেফ ম্যাকিভিচ। যিনি একজন বিখ্যাত পোলিশ অভিবাসী ঔপন্যাসিক। যুদ্ধের আগে তিনিও সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছিলেন। জার্মান দখলের অধীনে তিনি মাঝে মাঝে নিবন্ধ প্রকাশ করতেন। তবে তাকেও জীবিকার জন্য অন্য উপায় খুঁজতে হতো। তিনি লিখেছেন, পোনার থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে থাকার দুর্ভাগ্য আমার ছিল। প্রথম দিকে আমাদের মতো যুদ্ধে পরিপূর্ণ একটি দেশে, গুলির শব্দের দিকে খুব একটা মনোযোগ দেওয়া হয়নি, কারণ গুলির শব্দ যেদিক থেকে আসুক না কেন, তারা প্রায় বৃষ্টির পরিচিত ছন্দের মতো পাইনগুলোর স্বাভাবিক কোলাহলের সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু একদিন, একজন মুচি আমার উঠোনে আসে, আমার মেরামত করা বুট ফিরিয়ে দিতে এবং সে বলে, ‘আজ তারা পোনারিতে আমাদের ইহুদিদের প্রচুর মেরেছে।’ তিনি লিখছেন, এরপর থেকে গ্রীষ্মে বারান্দায় আমরা খেতে পারতাম না, কারণ গলায় খাবার আটকে যেত। আশপাশকে মনে হলো রক্তের মতো আঠাল হয়ে আছে।
নবীন নিউজ/জেড
শীতে সুস্থ থাকার সহজ ৭ উপায়
কম খরচে ঘুরে আসতে পারেন যেসব দেশে
যে শহরে ২ ঘণ্টার বেশি ফোন ব্যবহার মানা
সফল মানুষেরা রাতে যে কাজগুলো করেন
তরমুজের বিচি খেলে কী হয় জানেন?
রোজায় ইফতার-সেহরিতে কী খাবেন, কী খাবেন না
ছিনতাইকারীর হাত থেকে বাঁচবেন যেভাবে
যে উপায়ে বাজার করলে টাকা বাঁচবে
গরমে দীর্ঘ সময় ভাত ভালো রাখার সহজ উপায়
সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা
পরকীয়া সম্পর্ক নারীরাই বেশি উপভোগ করেন!
চাকরিজীবী নারীরা ব্যাগে যা যা রাখতে পারেন
প্রেম-বিয়ের প্রস্তাবে হ্যাঁ বলার আগে নিজেকে এই ৩ প্রশ্ন করুন
খালি পেটে লেবু খেলে গ্যাস্ট্রিক বাড়ে?
সকালে কাঠবাদাম খাওয়ার ৭ উপকারিতা
তেলাপোকার দুধ নাকি সুপারফুড!
কালোজিরা ৭ রোগের মহৌষধ
তামাক ও ধূমপানের প্রভাব
গবেষণা বলছে কাজের ফাঁকে ঘুমানো অনেক উপকারী
অত্যন্ত বুদ্ধিমানরা যে ১১ ধরনের ব্যক্তিত্বের মানুষের সাথে মেলামেশা করতে চায় না
ফোন পানিতে পড়ে গেলে যা করবেন
জেনে নিন পুষ্টিতে ভরপুর পেঁয়াজকলি গুণাগুণ
ভালোবাসা দিবসে প্রেমিককে যেসব উপহার দিতে পারেন
আলু খেলে ওজন বাড়ে?
লাউ খাওয়ার ৫ উপকারিতা
যে কারণে শীতে ফ্রিজে রাখা দই স্বাস্থ্যকর নয়
ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কিভাবে?
কম সুদর্শন পুরুষই স্ত্রীকে বেশি সুখী রাখে
যে ৫ খাবারে কমবে খারাপ কোলেস্টেরল
পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি পরকীয়ায় জড়ান, কারণ জানলে অবাক হবেন