শনিবার ০৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
শিক্ষা

আগ্রাসী ছাত্রলীগ রক্তাক্ত শিক্ষার্থী

নবীন নিউজ, ডেস্ক ১৬ জুলাই ২০২৪ ০৮:৪৫ এ.এম

সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) হামলা হয়েছে। শুরুটা হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া থেকে, তারপর ঘটে হামলার ঘটনা। একপক্ষে ছিলেন কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারীরা, অন্যপক্ষে ছাত্রলীগ। এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ঢুকে আহতদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা।

গতকাল সোমবার বিকেলে শুরু হয়ে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত চলা এসব হামলায় ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের পাশাপাশি মহানগর দক্ষিণ শাখা, বিভিন্ন হল, ঢাকা কলেজ শাখা এবং ছাত্রলীগের সমর্থক বহিরাগতরা অংশ নেয় বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে ২৯৭ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২২০ জনের বেশি। গুরুতর আহত হয়ে অন্তত ১২ জন হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

এদিকে হামলার শিকার হওয়ার পর গতকাল রাতে নতুন কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। হামলার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গতকাল দুপুর ১২টা থেকে কোটা সংস্কার এবং কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন ঢাবি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ইডেন কলেজ ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান নিতে শুরু করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এর আগে কয়েকটি বাসে করে বহিরাগত ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেখা যায়। ফলে সকাল থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় ঢাবি ক্যাম্পাস জুড়ে।

বেলা ৩টা থেকে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলা। হামলার পর ছত্রভঙ্গ হয়ে যান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর দীর্ঘসময় ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়া দেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা, যা চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।

আহত শিক্ষার্থীদের ঢামেক হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে সেখানেও তাদের ওপর হামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢামেক হাসপাতাল এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলেছে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৯টার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকালের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে আজ বেলা ৩টায় সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াকুব (২১), কাজী তাসনিম ফেরদৌসী (২৪), অমি (২৬), আমিনুর (২২), শুভ (২০), গিয়াস উদ্দিন (২০), নাসির (২৩), অপি (২২), মেহেদি (২২), সিয়াম (২২) ও হাসিব (২২)।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ছাত্রলীগ আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের তারা বেধড়ক পিটিয়েছে। হামলায় অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের অনেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।’

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে : দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি দল মিছিল নিয়ে ঢাবির হলগুলোতে যায়। ৩টার দিকে খবর আসে, বিজয় একাত্তর হলে মিছিলে শিক্ষার্থীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। খবর পেয়ে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে সেøাগান দিতে দিতে বিজয় একাত্তর হলের দিকে যান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। হলটির কাছাকাছি পৌঁছলে লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক নিয়ে হলগেটে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে এগিয়ে এসে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হলগেটে ভাঙচুর চালান।

একপর্যায়ে পাশের কবি জসীমউদ্দীন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাটিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এসে শিক্ষার্থীরের ওপর হামলা চালান। তাদের সঙ্গে বের হন বিজয় একাত্তর হলের নেতাকর্মীরাও। সবার হাতে ছিল লাঠিসোঁটা, স্টাম্প, স্টিলের পাইপ, রড। অনেকে হেলমেট পরিহিত ছিলেন।

চারদিক থেকে একসঙ্গে হামলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পিছু হটতে থাকেন। এ সময় তিন শিক্ষার্থীকে মাটিতে ফেলে মারতে থাকেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। দুপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে কিছুক্ষণ। এরপরই নিয়ন্ত্রণ চলে আসে ছাত্রলীগের হাতে।

এ হামলায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি রবিউল হাসান রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন রশীদ এবং বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। পরে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত এসে মহড়া এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ মলচত্বরে সবাইকে নিয়ে এগোতে দেখা যায়।

হলপাড়ায় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মূল মিছিল মলচত্বরের দিকে পিছিয়ে আসে। আগে থেকেই মধুর ক্যান্টিনে লাঠিসোঁটা, স্টিলের পাইপ, হকিস্টিক, মোটা কাঠ নিয়ে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পির নেতৃত্বে অবস্থান করছিলেন ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক বহিরাগত। তাদের অনেকেই হেলমেট পরিহিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা মলচত্বরে এলে শ্যাডোর দিক থেকে তাদের ওপর একযোগে হামলা হয়। এ ছাড়া সূর্য সেন হল, প্রশাসনিক ভবন, ভিসি চত্বর থেকে বিপুলসংখ্যক বহিরাগত লাঠিসোঁটা, স্টিলের পাইপ নিয়ে হামলে পড়লে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দিগি¦দিক ছোটাছুটি শুরু করেন। ভিসি চত্বর হয়ে ফুলার রোডের দিকে পালাতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশি বিপাকে পড়েন নারী শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত পালাতে পারছিলেন না। এ সময় তাদের হকিস্টিক-লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখা যায়।

মলচত্বর থেকে দৌড়ে শিক্ষার্থীরা ভিসি চত্বরের দিকে যান। সেখানেও তাদের পেছন পেছন দৌড়াতে দৌড়াতে মারধর করতে থাকেন হামলাকারীরা। ভিসি চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসির একটি ডাবল ডেকার বাস দাঁড়িয়েছিল। সেই বাসে আত্মরক্ষার্থে উঠে পড়েন ৫০-৬০ নারী শিক্ষার্থী। তাদের বাস থেকে নামিয়ে এনে পেটানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক নারী শিক্ষার্থী জুতা, ব্যাগ, ছাতা ফেলে কোনোমতে দৌড়ে পালাতে থাকেন। কেউ ফুলার রোড হয়ে শহীদ মিনারের দিকে, কেউ পলাশীর দিকে, কেউবা আবার নীলক্ষেতের দিকে চলে যান। এ সময় চার নারী ও দুই ছেলে শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায়। আরও অনেকে গুরুতর জখম হন।

ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৬ ব্যাচের ছাত্রী তানজিলা তাসনীম বলেন, ‘ভিসি চত্বরে মৈত্রী হলের এক মেয়ের হাতে ইটপাটকেল লাগার কারণে নড়তে পারছিল না। ফলে আমি ওকে ছেড়ে আসতে পারিনি। এ সময় হেলমেট পরা কয়েকজন এসে আমাদের সরে যেতে বলে। আমি বুঝতে পারছিলাম না কী করব। আমি বলেছিলাম, আমি জাস্ট যৌক্তিক আন্দোলনে ছিলাম। তারপর আমার ডান হাত মুচড়ে দেয়। এরপর আমরা ওই মেয়েকে নিয়ে মেডিকেলে এসেছি।’ ভিসি চত্বরে সংঘর্ষ চলাকালে দেখা যায়, এক নারী শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে গেছে। তাকে রিকশায় তোলা হলে তিনি চেতনা হারিয়ে পড়ে যান। তখন সংবাদকর্মী কয়েকজন তাকে রিকশায় তুলে দেন।

ঢাবির শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের শিক্ষার্থী সুলতানা আক্তার বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি ছাত্রলীগ এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করবে। আমরা নারী শিক্ষার্থীরা অনেকে দৌড়ে পালাতে পারিনি।’

শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পির নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও বহিরাগতদের মহড়া দিতে দেখা যায় ক্যাম্পাস জুড়ে। এ সময় সবার হাতে মোটা কাঠ, স্টিলের পাইপ, হকিস্টিক ছিল। এরপর তারা রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করেন। একই সময়ে ঢাবির এক শিক্ষার্থীকে পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে পেয়ে পিটুনি দেয় মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া শিক্ষার্থী পেলেই মারধর করতে দেখা যায়।

ঢামেকের জরুরি বিভাগে ঢুকে হামলা : আহত শিক্ষার্থীদের ঢামেক হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে সেখানেও দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। রাত পৌনে ৮টার দিকে জসীমউদ্দীন হলের সৈকতের অনুসারী পদপ্রত্যাশী নেতা রাশেদুজ্জামান রনির নেতৃত্বে ৭০-৮০ জন ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়। এর আগে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও তাদের সঙ্গে থাকা বহিরাগতরা জরুরি বিভাগের সামনে আহত যাকেই পেয়েছে তাকেই মারধর করেছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কারও মাথা ফেটে গেছে। কারও কান থেকে রক্ত ঝরছে। কারও চোখে গুরুতর জখম হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই নারী। ঢাবি মেডিকেল সেন্টারে অন্তত ছয়জনকে আহত অবস্থায় ভর্তি ছিলেন। সূর্য সেন হল ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সেখানে জড়ো হলে তৃতীয় তলার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৬টায় কোটা সংস্কারপন্থিরা তিনজন ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করেন। মারধরের শিকার এই তিনজন আহত অন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে এসেছিলেন জরুরি বিভাগে। পরে দায়িত্বরত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা পিটুনির শিকার তিনজনকে উদ্ধার করেন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে আসা সংস্কারপন্থিরা ছাত্রলীগ সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়েছে। আমরা তাদের উদ্ধার করেছি।’

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জরুরি বিভাগের জরুরি এক্স-রে রুমে বসে থাকা একজনকে ছাত্রলীগের সদস্য বলে মারতে মারতে রুম থেকে বের করে নিতে দেখা যায়। পরে তাকে জরুরি বিভাগের ইমার্জেন্সি গাইনি কনসালট্যান্ট রুমের সামনে ফেলে কিল-ঘুসি ও লাথি মারতে দেখা যায়।

ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাড়ে ৭টার দিকে অন্তত আড়াইশ নেতাকর্মী হেলমেট পরে ও লাঠিসোঁটা আর রড হাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে। এ সময় দায়িত্বরত আনসার ও পুলিশ সদস্যদের নীরব ভূমিকায় দেখা যায়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে আহত কোটা সংস্কারপন্থি সন্দেহে কয়েকজনকে ও তাদের সহযোগিতা করতে আসা কয়েকজনকে মারধর করে। এ সময় তারা ‘কোটাওয়ালারা কই, রাজাকারের বাচ্চারা কই’ বলে বলে চিৎকার করছিল। এর ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করতে গেলে অন্তত দুজন গণমাধ্যমকর্মীকে মারধর এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে কেউ জরুরি বিভাগে ঢোকে, কেউ বাইরে থাকা কোটা সংস্কারপন্থিদের খুঁজতে থাকে। ছাত্রলীগের হাত থেকে বাঁচতে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেওয়া হয়। তারা সেই গেট টেনে খুলে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় বাইরে থাকা ছাত্রলীগ কর্মীদের লাঠিসোঁটা ও রড উঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘রাজাকারের বাচ্চারা বাইর অইয়া আয়।’

কার্জন হল এলাকা উত্তপ্ত

 বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খবর আসে শহীদুল্লাহ হল এবং ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগের একাধিক নেতার কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে কার্জন হল এলাকা চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলেন মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় রাজিবুল ইসলাম বাপ্পিকে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে হামলা চালাতে দেখা যায়।

জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগের হলগুলোতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই কোটা সংস্কারের পক্ষে। বিজ্ঞানের অমর একুশে হল এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা শহীদুল্লাহ হলে আশ্রয় নেন। তিন হলের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে প্রতিরোধ করেন। শিক্ষার্থীরা হল থেকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ কার্জন হল এলাকায় আসে। তবে পুলিশের সামনেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা, স্টাম্প, রড নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে থাকেন। পরে প্রক্টর এসে পুলিশের মাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেন। রাত ৮টা থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা প্রক্টর এবং উপাচার্যের কাছে জবাবদিহিতা চান।

নির্বিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন 

দুপুরের পর থেকে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হলেও কেউ হাসপাতালে দেখতে যাননি। সন্ধ্যায় প্রক্টর এলেও বাসভবন থেকে বের হননি উপাচার্য। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বহিরাগতরা হামলা করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দেয়নি।

বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের নিন্দা

 শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাবির বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং হামলাকারী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে উদ্ভূত সংকটের দ্রুত সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

নবীন নিউজ/জেড

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক

news image

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক

news image

সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

news image

এইচএসসিতে সিরাজগঞ্জের ৭ কলেজে পাস করেনি কেউ

news image

এবার জাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

news image

বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যের শিকার ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী

news image

৩ দফা দাবিতে মধ্যরাতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

news image

ভিকারুননিসায় হিজাব পরায় ২২ শিক্ষার্থীকে বের করে দিলেন শিক্ষিকা

news image

‘কলিজা খুলে ফেলব’ -শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও ডিসিকে বিএনপির সাবেক এমপির হুমকি

news image

৪ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস

news image

তদন্তে মায়ের অসুস্থতার প্রমাণ মেলেনি, পরীক্ষা নেওয়া হবে না আলোচিত আনিসার

news image

১৬ বছর পর মাদ্রাসায় ফিরছে বৃত্তি পরীক্ষা

news image

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রস্তাব পেলেন বাংলাদেশের মীম

news image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গাঁজা সেবনকালে হলের ১৩ শিক্ষার্থী আটক

news image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর পোশাক নিয়ে উত্ত্যক্ত করা কর্মচারী আটক

news image

বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষার দিনে বন্ধ থাকবে ক্যাম্পাসের ইন্টারনেট

news image

ঢাবি ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা

news image

হামলার ঘটনায় ছাত্রদল জড়িত, অভিযোগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের

news image

শিক্ষকদের জন্য সুখবর, বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের ভাতা

news image

রাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ, রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশে রেল যোগাযোগ বন্ধ

news image

আরও ২৯ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শেখ পরিবারের নাম বাদ

news image

স্কুল ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটার আদেশ বাতিল

news image

প্রাথমিকে তৃতীয় ধাপে নির্বাচিত ৬৫৩১ শিক্ষকের যোগদানের তারিখ ঘোষণা

news image

স্কুল ভর্তিতে কোটা পাবেন জুলাই অভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের সন্তানরা

news image

আজ থেকে ৪০ দিনের ছুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

news image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে‘জয় বাংলা’ লেখার সময় আটক ছাত্রলীগ কর্মী 

news image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেত্রীকে পুলিশে দিলেন স্থানীয় লোকজন

news image

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি স্থগিত

news image

হল থেকে ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আজীবন বহিষ্কার ৪ জন, স্থায়ী বহিষ্কার ৪২

news image

১৯ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গুচ্ছ‌ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি