শনিবার ০৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

আইনের ফাঁদে আটকা ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা

নবীন নিউজ, ডেস্ক ০৫ সেপ্টেম্বার ২০২৪ ১০:২৯ এ.এম

সংগৃহীত ছবি

ব্যাংকঋণের টাকা খেলাপি হওয়া দিন দিন বাড়ছে। কারণ, নথিপত্র ছাড়া নামে-বেনামে ঋণ নেওয়া অব্যাহত আছে। এসব ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতে দ্বারস্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো। এই আদালতে বিচারাধীন মামলায় আটকে থাকা টাকার পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন বিভাগের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত মার্চ শেষে দেশের ৬০টি ব্যাংকের অর্থঋণ আদালতে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৫৯৩টি। এসব মামলায় আটকে আছে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। তিন মাস আগে গত বছরের ডিসেম্বরে মামলার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬ হাজার ৫৮৪টি, এর বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। ফলে চলতি বছরের তিন মাসে মামলার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৯টি। আর জড়িত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১০ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।

গতকাল ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। সভায় খেলাপি ঋণের মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তির মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

মূলত আগের মামলা নিস্পত্তিতে গতি কমে যাওয়া ও নতুন মামলা দায়ের বাড়ায় মামলার স্তুপ কমছে না। সংশ্লিস্টরা জানান, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বের করা ঋণ স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। বারবার সুবিধা ও ছাড় দেওয়ার পরও এসব ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না খেলাপিরা। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এসব ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা হলেও নিস্পত্তি হচ্ছে খুবই কম। ব্যাংকাররা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা কম হওয়া ও বিচারকের অভাব এবং আইনি মতামতের জন্য ব্যাংকের আইনজীবিকে পর্যাপ্ত সময় ও সহায়ক জামানতের পর্যাপ্ত দলিলাদি সরবরাহ করতে না পারায় অর্থঋণ আদালতে মামলা নিস্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাসহ বিভিন্ন কারণে অর্থঋণ আদালতে মামলা নিস্পত্তিতে ধীরগতি দেখা যায়। অনেক সময় বিচারক ছুটিতে থাকেন বা ট্রান্সফার হয়ে যান। এছাড়া অভিজ্ঞ আইনজীবিরও অভাব রয়েছে। আরেকটা সমস্যা হলো-মামলা হলেই তার বিপরীতে রিট করে স্থগিতাদেশ নেন ঋণখেলাপিরা।

প্রতি ত্রৈমাসিকে খেলাপিঋণের মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করে নিয়মিত ব্যাংকার্স সভায় উপস্থাপন করে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন বিভাগ। এ বিষয়ে গতকাল উপস্থাপিত প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অর্থঋণ আদালতে মাধ্যমে মামলা নিস্পত্তি হয়েছে ৭ হাজার ৭০৩টি। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় হয়েছে ১ হাজার ১৬৮াটি টাকা। সেখানে ২০২৩ সালের শেষ তিন মাসে মামলা নিস্পত্তি হয়েছিল ৮ হাজার ৩৬৯টি। এর বিপরীতে আদায় হয়েছিল ১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের তিন মাসের তুলনায় চলতি বছরের তিন মাসে মামলা নিস্পত্তি ও আদায়ের পরিমাণ কমে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে মামলার সংখ্যা বাড়লেও বছরের ব্যবধানে কমেছে। গত বছরের মার্চে অর্থঋণ আদালতে মামলার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৮২১টি। এর বিপরীতে আটকে ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত এক বছরের ব্যবধানে মামলার সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭ হাজার ২২৮টি। তবে মামলার সংখ্যা কমলেও জড়িত অর্থের পরিমাণ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ২৯ হাজার ১২৮ কোটি টাকা।

সম্প্রতি খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর লিগ্যাল টিম শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় লিগ্যাল টিমে কর্মকর্তা ও প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ এবং তাদের বার্ষিক মূল্যায়ন কীভাবে করতে হবে, সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে গত মাসে জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় আদায় কার্যক্রম সুসংহত করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের আইন বিভাগ বা লিগ্যাল টিমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং সেক্টরে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থ ঋণ আদালতে মামলাধীন। অনেক খেলাপি ঋণের বিপরীতে ঋণগ্রহীতা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বা আপিল বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ব্যাংকের লিগ্যাল টিমকে আরও শক্তিশালী করা হলে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে। ফলে, একদিকে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের হবে অন্যদিকে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া আদালতের বাইরেও বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির আওতায় খেলাপিঋণ আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে এডিআর পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করার আগে পাওনা আদায়ের নোটিশেই মধ্যস্থতার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্তকরণ, দ্রুত পাওনা আদায়ের সম্ভাবনা থাকলে কেইস টু কেইস ভিত্তিতে কিছুটা ছাড় দেওয়াসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নবীন নিউজ/জেড

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ভোট দিতে পারছেন না জিএম কাদের ও আখতারুজ্জামান

news image

আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন: সেনাপ্রধান

news image

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫ জন

news image

ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার

news image

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ

news image

মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেফতার ৩ জন

news image

ওসমান হাদীর মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

news image

গুলিবিদ্ধ হাদির সঙ্গে থাকা রাফি জানালেন পুরো ঘটনার বিবরণ

news image

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় সেই গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার

news image

জামায়াতের ঔষধ হলো আওয়ামী লীগ, বললেন মির্জা আব্বাস

news image

ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা

news image

‘জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে’

news image

শেখ হাসিনার ৫-রেহানার ৭ বছরের জেল, ২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন টিউলিপ

news image

সচিবালয়ে আগুন

news image

খুলনা আদালত চত্বরে গুলিতে ২ জন নিহত

news image

ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ

news image

১ লাখের স্কুটারে জরিমানা ২১ লাখ!

news image

ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কড়াইল বস্তির আগুনের ক্ষতচিহ্ন

news image

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

news image

ফের ভূমিকম্প

news image

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন কি এখানেই শেষ?

news image

শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ

news image

শেখ হাসিনার মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী

news image

রায় শুনে যা বললেন শেখ হাসিনা

news image

হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে বাসে আগুন

news image

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

news image

আ.লীগের মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি

news image

নারীরা ঘরে সময় দিলে, সম্মানিত করবে সরকার: জামায়াত আমির

news image

রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১ জন

news image

ভোরে রাজধানীতে দুই বাসে আগুন