সোমবার ১৮ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর ভিন্নমত: নির্বিঘ্ন নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা

নবীন নিউজ, ডেস্ক ০৩ সেপ্টেম্বার ২০২৫ ১০:২০ এ.এম

সংগৃহীত ছবি

আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বিঘ্নে জাতীয় নির্বাচন করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সংকট আরও জটিল হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে পরস্পরকে ছাড় দিয়ে পুরোপুরি ঐকমত্যে আসতে হবে। এরপর গণভোটে পাশ হলে যথাযথ আইনি ভিত্তি পাবে জুলাই সনদ।

গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পর বেশ জোরেসোরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিকে সময় ধরে, রোডম্যাপ ঘোষণা হলেও নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্য কাটেনি। নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে যখন অনৈক্যের সুর, তখন এর প্রভাব পড়ছে রাজনীতির মাঠে। জুলাই সনদের নোট অব ডিসেন্ট এবং এর বাস্তবায়নের অস্পষ্টতাই রাজনৈতিক সংকটকে তীব্র করেছে।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ হয়েছে। জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য গণভোট হবে নাকি তা পরবর্তী জাতীয় সংসদে যাবে এ নিয়ে বিভক্ত বিএনপি-জামায়াত। জাতীয় নাগরিক পার্টি চায়, নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, ‘এখন যেটা সম্ভব সেটা হবে। যেটা সাংবিধানিকভাবে করতে হবে সেটা সরকার নির্বাচনের পর করা হবে। কোনো কিছুই তো পার্মানেন্ট না। একটা নির্বাচিত সরকার আসলে আমরা মনে করি এসব সমস্যা কমে আসবে।’

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘পরবর্তী যে সরকার আসবে সে এটা মানতে বাধ্য হবে কিসের ভিত্তিতে? যদি বলে অনেকেই নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, আমরা তো আগেই নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছি। এটা মানবে যে তার গ্যারান্টি কোথায়? অতীতে তো কোনো রেফারেন্স নেই যে মানছে। এখন জুলাই সনদ দিবেন, সেখানে যেসব বিষয়ে আমরা সবাই ঐকমত্য পোষণ করবো সবাই মিলে সেগুলো এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে।’

এ মুহূর্তে গণপরিষদ নির্বাচনের বাস্তবতা নেই বলে মনে করে বিএনপি। অন্যদিকে অনেক রাজনৈতিক দলের দাবি, একইসঙ্গে সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন হতে পারে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য মঈন আলম ফিরোজী বলেন, ‘যদি এক বছর আগে সব রাজনৈতিক দল গণপরিষদ নিয়ে এক মত হতো তাহলে সহজ হতো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণপরিষদ বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন হবে। কেননা নির্বাচনের জন্য যে ফ্রেমওয়ার্কটা তৈরি করতে হবে এতে বর্তমান সংবিধান টেকনিক্যালি সাসপেন্ড করে ফেলতে হবে। নতুন কিছু করতে গেলে পুরনো কিছু রাখতে পারবেন না। পুরনো ব্যবস্থা না রাখলে এখন যে রাষ্ট্রের কাঠামো তা পুরো ধুলিস্যাত হয়ে যাবে।’

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট এরইমধ্যে সরকারকে ম্যান্ডেট দিয়েছে যেন তারা এ নির্বাহী কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যায়। যেহেতু এখন দেশে প্রধানমন্ত্রী নেই, সরকার নেই, সংসদ নেই। যেহেতু সরকার নাই, সংসদ নাই তাহলে বাকি চার বছর এ সরকার চালাবে। তাহলে এ সরকারের তো মেয়াদ আছে ২০২৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তাহলে আমি আগামী ফেব্রুয়ারিতে কীভাবে নির্বাচন চাই? আমার তো নির্বাচন চাওয়ার এখতিয়ার নাই। গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেটকে মেনে নিলে আমরা নির্বাচন চাইতে পারি। আমরা বলি এটা সবচেয়ে বড় ম্যান্ডেট। ৭২ এর সংবিধান ভেঙেচুরে খান খান হয়ে গেছে।’

জুলাই সনদের খসড়া অনুযায়ী ক্ষমতা কাঠামোর সঙ্গে জড়িত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এখনো ঐকমত্য হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে পরস্পরকে ছাড় দিয়ে পুরোপুরি ঐকমত্যে আসতে হবে। এরপর গণভোটে পাশ হলে যথাযথ আইনি ভিত্তি পাবে জুলাই সনদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসিফ এম শাহান বলেন, ‘আপনি কোন জুলাই চার্টারকে গণভোটে দিবেন? উইথ ডিসেন্ট অর উইদাউট ডিসেন্ট? এটার সঙ্গে যদি অন্যান্য দলগুলো যুক্ত হয়, গণভোটটা যদি রিজেক্ট হয়ে যায় তাহলে আমরা কোন জায়গায় যাচ্ছি? আপনাকে আবার জুলাই চার্টারে ফেরত যেতে হবে। সেখানে ফেরত যেয়ে যে ৯টা জায়গায় বড় ধরনের পার্থক্য আছে সেগুলোর ব্যাপারে আপনাকে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে আসতে হবে। ওখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে আবার নেগোসিয়েশনে বসতে হবে। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলকে কিছু না কিছু ছাড় দিতে হবে।’

গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর পারস্পরিক আস্থার সংকট রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সুযোগে গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে।

ড. আসিফ এম শাহান বলেন, ‘এ যখন অনিশ্চয়তা থাকবে তখন কিন্তু আপনার পক্ষে অতি দ্রুত যেকোনো কিছু ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব। কারণ কেউই আসলে প্রস্তুত না। এ অনিশ্চয়তা কি করবে অনৈক্য বাড়াবে। আমার কাছে মনে হয় সংকটের সমাধানের সূত্র লুকিয়ে আছে জুলাই সনদে।

জুলাই সনদের খসড়া প্রকাশের পর ২ সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এখনো বৈঠক শুরু হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই সনদ নিয়ে দ্রুত সমাধানে আসতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক অনৈক্য বাড়তে থাকলে অস্থিতিশীলতা আরও তীব্র হতে পারে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ভোট দিতে পারছেন না জিএম কাদের ও আখতারুজ্জামান

news image

আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন: সেনাপ্রধান

news image

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫ জন

news image

ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার

news image

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ

news image

মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেফতার ৩ জন

news image

ওসমান হাদীর মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

news image

গুলিবিদ্ধ হাদির সঙ্গে থাকা রাফি জানালেন পুরো ঘটনার বিবরণ

news image

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় সেই গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার

news image

জামায়াতের ঔষধ হলো আওয়ামী লীগ, বললেন মির্জা আব্বাস

news image

ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা

news image

‘জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে’

news image

শেখ হাসিনার ৫-রেহানার ৭ বছরের জেল, ২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন টিউলিপ

news image

সচিবালয়ে আগুন

news image

খুলনা আদালত চত্বরে গুলিতে ২ জন নিহত

news image

ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ

news image

১ লাখের স্কুটারে জরিমানা ২১ লাখ!

news image

ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কড়াইল বস্তির আগুনের ক্ষতচিহ্ন

news image

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

news image

ফের ভূমিকম্প

news image

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন কি এখানেই শেষ?

news image

শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ

news image

শেখ হাসিনার মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী

news image

রায় শুনে যা বললেন শেখ হাসিনা

news image

হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে বাসে আগুন

news image

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

news image

আ.লীগের মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি

news image

নারীরা ঘরে সময় দিলে, সম্মানিত করবে সরকার: জামায়াত আমির

news image

রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১ জন

news image

ভোরে রাজধানীতে দুই বাসে আগুন