নবীন নিউজ, ডেস্ক ২৬ জুন ২০২৪ ০৬:০০ পি.এম
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ পালন করা হচ্ছে বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবস। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় ২৬ জুনকে মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরের বছর থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে। মাদকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশের ফলে আমাদের যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।
সরকার ইতিমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। ইসলামে নেশা বা মাদক সেবন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং অপবিত্র কাজ। কারণ মাদক কিংবা নেশা মানুষের মস্তিষ্ক বিকল করে দেয়। মাদক সেবনের ফলে কোনো মানুষ স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী যেসব পানীয় নেশা সৃষ্টি করে তা হারাম। মাদকাসক্তি আধুনিক সভ্যতার ভয়ংকরতম ব্যাধিগুলোর অন্যতম। বিশ্বে অগণিত সফল জ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, টেকনিশিয়ান ও অনুরূপ সফল মানুষের জীবন ও পরিবার ধ্বংস হয়েছে মদের কারণে। মাদক একটি মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ও দৈহিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধন করে, ক্ষতি সাধন করে তার দ্বীন ও দুনিয়ার। একইভাবে এ কথা বলারও অপেক্ষা রাখে না যে, মাদক পরিবার-পরিজন ও জ্ঞাতি-বংশকে এমন বিপদ-বিপর্যয়ের মাঝে ফেলে দেয়, যা থেকে উৎরে ওঠা কঠিন।
আরবরা জাহেলিয়াতের যুগে ছিল মদপানের প্রতি গভীরভাবে আসক্ত। তাদের এ আসক্তি ও অনুরক্ততার কথা তাদের সাহিত্যেও প্রকাশ ঘটাত। এমনকি মদের শখানেক নামও দিয়েছিল তারা। এর বিভিন্ন গুণাগুণ তাদের কবিতাগুলোতে উচ্চারিত হতো। বিভিন্ন আসরে বর্ণিত হতো এর রকমারি চমক ও চাণক্য। তারপর ইসলাম আবির্ভূত হয়ে তাদেরকে একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ রাজপথে পরিচালিত করল। ইসলাম তাদের ওপর মদকে হারাম করে দিল একটি ধারাবাহিকতা মেনে, একটি ক্রমধারা মেনে। তাদেরকে প্রথম ধাপে মদে-মত্ত অবস্থায় নামাজ পড়া থেকে নিষেধ করা হলো। এরপর তাদেরকে বলে দেওয়া হলো যে, মদের মধ্যে যেসব উপকারিতা রয়েছে, যেসব ফায়দা রয়েছে, তার তুলনায় এর গুনাহ ও অপরাধের দিকটিই অধিক মারাত্মক। এরপর আল্লাহ তায়ালা সুরা মায়েদার তাৎপর্যবহ ও অকাট্য আয়াতটি নাজিল করলেন-‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয় খামরুন , মাইসিরুন, আনসাব এবং আযলাম শয়তানের অপবিত্র কাজ। বিধায় তোমরা এসব পরিহার করে চলো। আশা করা যায়, তোমরা সফলতা লাভ করতে পারবে। নিশ্চয় শয়তান চায় যে, মদ ও জুয়ার আবর্তে ফেলে সে তোমাদের পরস্পরের মাঝে দুশমনি ও জিঘাংসা সৃষ্টি করে দেবে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে।’
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম যখন সর্বপ্রথম মদ নিষিদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দেন, তখন তিনি এদিকে মোটেও ভ্রুক্ষেপ করেননি যে, কোন কোন জিনিস থেকে মদ তৈরি করা হয়, বরং তাঁর মূল দৃষ্টি ছিল, মদ মানুষের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া ঘটায় সে দিকে; আর তা হচ্ছে, মাতলামি, নেশা ও আত্মনিয়ন্ত্রণহীনতা। কাজেই যে জিনিসের মধ্যেই এই নেশা ও মাতলামির শক্তি বিদ্যমান থাকবে, সেটিই মাদক হিসেবে বিবেচিত হবে; চাই মানুষ সেটার যে নাম বা উপনামই দিক না কেন, চাই তা যে জিনিস থেকেই প্রস্তুত করা হোক না কেন। সুতরাং ‘বিয়ার’ এবং এজাতীয় মাদকগুলোও হারাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-এর কাছে ‘মধু’ থেকে প্রস্তুতকৃত, কিংবা ‘ভুট্টা’ ও ‘যব’ ভিজিয়ে পরে তা ঘন করে যে মদ প্রস্তুত করা হয় সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম যেমন ব্যাপক অর্থবোধক জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক নেশাকর জিনিসই খামরুন । আর প্রত্যেক খামরুনই হারাম’ । মসজিদে নববির মিম্বরে দাঁড়িয়ে হজরত ওমর (রা.) এই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘খামরুন হলো তা, যা মস্তিষ্কে মাদকতা আনয়ন করে’ । আসলে এ ক্ষেত্রেও ইসলাম তার দৃষ্টামূলক অবস্থান প্রকাশ করেছে। মাদক গণ্য হয়, এমন পানীয়ের পরিমাণ কম হোক কী বেশি-ইসলাম সেদিকে দেখতে যায়নি। ব্যস, সে এমন ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে এই পিচ্ছিল পথে মানুষের কদম হোঁচট খেয়ে খেয়ে এমন গভীরে চলে যেতে না পারে, যা থেকে আর ফেরত আসা সম্ভব নয়। এ জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, ‘যে জিনিসের অধিক পরিমাণ মাতালতা/নেশা/মাদকতা সৃষ্টি করে, তার সামান্য পরিমাণও হারাম’।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম শুধু হারাম করে দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং মাদক ব্যবসাকেও তিনি হারাম করেছেন; চাই সেই ব্যবসাটি অমুসলিমদের সঙ্গেই করা হোক না কেন। সুতরাং কোনো মুসলমানের জন্যই এ কাজ জায়েজ নয় যে, সে মাদক আমদানি-রফতানির কাজ করবে, অথবা মাদক বিক্রির দোকান দিয়ে বসবে, কিংবা কোনো মদের দোকানে চাকরি করবে।
এ পর্যায়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দশ শ্রেণির ব্যক্তির ওপর লানত দিয়েছেন। তারা হলো-যে তা উৎপাদন করে, যে তা উৎপাদন করিয়ে নেয়, যে তা সেবন করে, যে তা বহন করে, যার কাছে তা বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, যে তা পরিবেশন করে, যে তা বিক্রি করে, যে তার মূল্য খায়, যে তা ক্রয় করে এবং যার জন্য তা ক্রয় করা হয়।
পরিশেষে বলতে চাই, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের পদ্ধতিতেই মাদকতা ও মাদকাসক্তি নির্মূল করা সম্ভব; যদি আমরা ইসলামি অনুশাসন মেনে চলি। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করুন।
নবীন নিউজ/এফ
মহানবী এর রওজা জিয়ারতের নতুন নিয়ম ও সময়সূচি ঘোষণা
চাকরি হচ্ছে না? এই ২ আমলে দ্রুত মিলবে সমাধান
মসজিদের পাশে কবর দিলে কি কবরের আজাব কম হয়?
বাংলাদেশ থেকে এবার কতজন হজে যেতে পারবেন, জানাল মন্ত্রণালয়
বিশ্বের প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে যে ইতিহাস গড়ল মালদ্বীপ
স্বামীর ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার কোরআনি আমল
অভাব-অনটন থেকে মুক্তি মিলবে যে দোয়ায়
আল-আজহার মসজিদের ১ হাজার ৮৫ বছর উপলক্ষে ইফতারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
একটি পাখির কারণে আফ্রিকার প্রথম মসজিদের স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল!
ধর্ষণকারীকে যে শাস্তি দিতে বলেছে ইসলাম
রোজা রেখে আতর-পারফিউম ব্যবহার করা যাবে?
ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন আজহারী
রোজার মাস মানেই কি ভালো খাবার খাওয়া?
রমজানে রোগীদের জন্য কিছু মাসয়ালা
অজু-গোসলের সময় গলায় পানি গেলে রোজা ভেঙে যাবে?
মসজিদে হারাম ও নববিতে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
ইফতারে ঝটপট সবজি কাটলেট তৈরি করবেন যেভাবে
আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভেঙে যাবে?
ইফতারের পর ধূমপান করলে যেসব বিপদ ঘটে শরীরে
যেসব কারণে রোজার ক্ষতি হয় না
জাকাতের টাকায় ইফতার সামগ্রী দেওয়া যাবে?
ইফতারের আগে করা যায় যেসব আমল
রোজা আদায় না করলে যে শাস্তি
মানুষের সেবা করার সেরা মাস রমজান
‘আমিই জীবন দেই, আমিই মৃত্যু দেই, আর আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে’
রমজানে যে ৭ আমল বেশি করতে হবে
রমজান মাসে ফজিলতপূর্ণ যে ৩ আমল করবেন
ইফতারে আরবদের পাতে শোভা পায় যেসব ঐতিহ্যবাহী খাবার
রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজানে ওমরা করলে আসলেই কি হজের সওয়াব পাওয়া যায়?