নবীন নিউজ, ডেস্ক ১১ জানু ২০২৫ ০৪:৩৬ পি.এম
কবর মানে সমাধি। ইসলামি বিধান মতে, মৃত ব্যক্তির দেহ দাফন বা সমাধিস্থ করা হয়। কবর দেওয়ার জায়গাকে ‘কবরস্থান’ তথা সমাধিস্থল বলা হয়। মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সময়টুকু মানুষ কবর তথা সমাধিস্থলে অবস্থান করবে। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় এই সময়কালকে ‘আলমে বারজাখ’ বা অন্তর্বর্তীকালীন সময় বলা হয়। বারজাখ জীবনকে সাধারণত কবর জীবন বলা হয়। কারণ স্বাভাবিক অবস্থায় মৃতদেহ বা লাশ কবর দেওয়া হয়ে থাকে। যাদের বিশেষ কোনো কারণে কবর বা দাফন হবে না, তাদেরও বারজাখ জীবন একই রকম হবে।
কবরের চাপ : যখন কোনো মৃতদেহকে কবরস্থ করা হয়, তখন থেকেই সে মানুষ পরকালীন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে থাকে। মৃত ব্যক্তি প্রথমেই কবরে মাটির প্রবল চাপের সম্মুখীন হবে। এ থেকে কেউ রেহাই পাবে না। এ প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সবাইকে কবর চাপ দেবে। কেউ যদি কবরের চাপ থেকে বাঁচতে পারত তাহলে আমার প্রিয় সাহাবি সাদ ইবনে মুয়াজ বাঁচতে পারত।’(মুসনাদে আহমাদ) সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.) ছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয়তম সাহাবিদের একজন। খুব নেককার মানুষ ছিলেন তিনি। হাদিসের ভাষ্যমতে, তার মৃত্যুর সময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল। আকাশের দরজাগুলো সাদের সম্মানে খুলে দেওয়া হয়। এমন জলিলে কদর সাহাবিও কবরের চাপ থেকে বাঁচতে পারেননি।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সাদ এমন নেককার মানুষ, তার মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছে। তার সম্মানে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। সে সাদকেও কবর চাপ দিতে ছাড়েনি। তবে আল্লাহতায়ালা তার কবরকে প্রশস্ত করে দিয়েছেন।’(নাসায়ি)
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, ‘সাদকে কবরে রাখার পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকবার সুবহানাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পড়লেন।’ হুজুরের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও তাসবিহ পড়লাম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এই নেককার সাদের কবর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তাসবিহ পড়ার পর আল্লাহ তার কবর প্রশস্ত করে দিয়েছেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)
কবরের চাপের ব্যাপারে সাহাবি ও তাবেয়িরা সব সময় ভীত থাকতেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যত হাদিস শুনেছি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল কবরের চাপ দেওয়ার হাদিস। বিশেষ করে জলিলে কদর সাহাবি সাদও যখন কবরের চাপ থেকে বাঁচতে পারেননি, তখন আমাদের মতো মানুষের কী উপায় হবে, এ চিন্তায় আমরা পেরেশান।’ (মুসান্নিফে আবদুর রাজ্জাক)
কবরের চাপের ভয়ে আয়েশা (রা.) পুরোপুরি বিমর্ষ হয়ে পড়েন। এক দিন তিনি বিষণœ মুখে নবীজিকে বলেন, ‘ওগো দয়াল নবী! যেদিন আপনার মুখে কবরের চাপের হাদিস শুনেছি সেদিন থেকে কলিজায় আমার ভয় ঢুকে গেছে। আমার কিছুই ভালো লাগে না। ভয়ে আমার অন্তর শুকিয়ে গেছে।’ ভয় কাটানোর জন্য নবীজি বললেন, ‘ভয় পেও না আয়েশা। কবর মুমিন-কাফের সবাইকে চাপ দেবে এ কথা সত্য। তবে মুমিনের জন্য সে চাপ একেবারেই হাল্কা করা হবে।’
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয়, তখন কালো বর্ণের এবং নীল চোখবিশিষ্ট দুজন ফেরেশতা তার কাছে আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান। তাদের মধ্যে একজনকে মুনকার এবং অন্যজনকে নাকির বলা হয়।’ (তিরমিজি) হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে জানা যায়, কবরে প্রত্যেক মানুষকে আরবিতে তিনটি প্রশ্ন করা হবে। তা হলো, ‘মান রাব্বুকা? ওয়া মা দ্বীনুকা? ও মান নাবিয়্যুকা?’ অর্থাৎ তোমার রব কে? তোমার দ্বীন বা ধর্ম কী? তোমার নবী কে? প্রশ্নের শেষাংশটি বিভিন্ন বর্ণনায় বিভিন্নভাবে রয়েছে। যেমন ‘ওয়া মান হাজার রাজুল?’ প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হবে, ‘এই ব্যক্তি কে? যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এসব প্রশ্নের উত্তরে মুমিন বান্দা বলবে, ‘আমার রব আল্লাহ, আমার ধর্ম ইসলাম, আমার নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ অথবা ‘তিনি হলেন আমাদের মাঝে প্রেরিত নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।’ তারপর জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কীভাবে জানো? মুমিন বান্দা বলবে, ‘আমি আল্লাহর কিতাবে পড়েছি, এর ওপর ইমান এনেছি এবং তা বিশ্বাস করেছি।’ অতঃপর আসমান থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, ‘বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। এ ছাড়া তার জন্য কবর হতে জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।’ ফলে তার দিকে জান্নাতের কোমল হাওয়া ও সুগন্ধি আসতে থাকবে। এরপর তার কবরকে তার দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয় এবং সেখানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ মুমিন ব্যক্তির জন্য কবরও জান্নাত।
আর যারা পাপী, গুনাহগার ও অবিশ্বাসী তারা প্রশ্নের উত্তরে বলবে, ‘হা! লা আদরি।’ ‘হায় আফসোস! আমি কিছুই জানি না।’ তখন আসমান থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, ‘সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও। আর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।’ তখন তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। এ সময় জাহান্নামের আগুনের তাপ ও উত্তপ্ত বায়ু তার কবরে প্রবেশ করতে থাকবে। এ ছাড়া তার কবরকে এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হয়, যাতে তার একদিকের পাঁজরের হাড় অপর দিকের পাঁজরের হাড়ের মধ্যে ঢুকে যায়। অতঃপর তার জন্য ইমন ফেরশতা নিযুক্ত করা হয়, যার হাতে একটি লোহার হাতুড়ি থাকে। যদি এই হাতুড়ি দ্বারা কোনো পাহাড়কে আঘাত করা হয়, তাহলে পাহাড়ও ধুলোয় পরিণত হয়ে যাবে। আর সেই ফেরেশতা এই হাতুড়ি দিয়ে তাকে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করতে থাকে। আর সে আঘাতের চোটে এত বিকট শব্দে চিৎকার করে, যা মানুষ ও জিন ছাড়া পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সব সৃষ্টিজীবই তা শুনতে পায়। আঘাতের ফলে সে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। তারপর আবার তার দেহে আত্মা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে তার শাস্তি চলতে থাকে। মূলত পাপী ব্যক্তি কবরেই জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।
নবীন নিউজ/এফ
মহানবী এর রওজা জিয়ারতের নতুন নিয়ম ও সময়সূচি ঘোষণা
চাকরি হচ্ছে না? এই ২ আমলে দ্রুত মিলবে সমাধান
মসজিদের পাশে কবর দিলে কি কবরের আজাব কম হয়?
বাংলাদেশ থেকে এবার কতজন হজে যেতে পারবেন, জানাল মন্ত্রণালয়
বিশ্বের প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে যে ইতিহাস গড়ল মালদ্বীপ
স্বামীর ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার কোরআনি আমল
অভাব-অনটন থেকে মুক্তি মিলবে যে দোয়ায়
আল-আজহার মসজিদের ১ হাজার ৮৫ বছর উপলক্ষে ইফতারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
একটি পাখির কারণে আফ্রিকার প্রথম মসজিদের স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল!
ধর্ষণকারীকে যে শাস্তি দিতে বলেছে ইসলাম
রোজা রেখে আতর-পারফিউম ব্যবহার করা যাবে?
ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন আজহারী
রোজার মাস মানেই কি ভালো খাবার খাওয়া?
রমজানে রোগীদের জন্য কিছু মাসয়ালা
অজু-গোসলের সময় গলায় পানি গেলে রোজা ভেঙে যাবে?
মসজিদে হারাম ও নববিতে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
ইফতারে ঝটপট সবজি কাটলেট তৈরি করবেন যেভাবে
আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভেঙে যাবে?
ইফতারের পর ধূমপান করলে যেসব বিপদ ঘটে শরীরে
যেসব কারণে রোজার ক্ষতি হয় না
জাকাতের টাকায় ইফতার সামগ্রী দেওয়া যাবে?
ইফতারের আগে করা যায় যেসব আমল
রোজা আদায় না করলে যে শাস্তি
মানুষের সেবা করার সেরা মাস রমজান
‘আমিই জীবন দেই, আমিই মৃত্যু দেই, আর আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে’
রমজানে যে ৭ আমল বেশি করতে হবে
রমজান মাসে ফজিলতপূর্ণ যে ৩ আমল করবেন
ইফতারে আরবদের পাতে শোভা পায় যেসব ঐতিহ্যবাহী খাবার
রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজানে ওমরা করলে আসলেই কি হজের সওয়াব পাওয়া যায়?