সোমবার ২০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই একের পর এক গুম, সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভারতের দিকে

নবীন নিউজ, ডেস্ক ৩০ ডিসেম্বার ২০২৪ ১০:৫৬ এ.এম

সংগৃহীত ছবি

বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে দেখা যায় রাজপথের রাজনৈতিক আন্দোলন স্তব্ধ করে দিতেই ঘটে থাকে বেশিরভাগ গুমের ঘটনা। সংবিধান রক্ষার অজুহাতে ২০১৪ সালে একপাক্ষিক নির্বাচনে জিতলেও স্বস্তি ছিল না দেড় দশক মসনদে বসে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগে। সেসময় বলা হয়েছিল দ্রুত আরেকটি নির্বাচনের কথা। তবে ওই দাবি ভুলে পরের দফা ক্ষমতা নিশ্চিতে ২০১৬-১৮ সালে ঘটানো হয় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গুমের ঘটনা। এমনকি নির্মাণ করা হয় গোপন বন্দিশালাও। গুম কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের সুত্র ধরে একটি বন্দিশালার খোঁজ পাওয়া যায়। তুলে নিয়ে নিখোঁজ করে দেয়ার ঘটনায় মিলেছে প্রতিবেশি দেশ ভারতের যোগসাজসের অভিযোগ।

এক দশক আগের ঘটনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছিল রাজপথে। ভোটের আগেই দেড়শ’র বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ক্ষমতা নিশ্চিত করে আগেরবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী আওয়ামী লীগ। তীব্র ক্ষোভ থেকে কঠোর আন্দোলনে নামে বিরোধীরা। পরের বছরগুলোতে বেড়ে যায় আটকের পর নিখোঁজের ঘটনা। সেগুলোর সাক্ষ্য হিসেবে রয়েছে আর্কাইভস ভবনে তখনকার পত্রিকাগুলো।

গুম কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট গুমের অভিযোগ এক হাজার ৬৭৬টি। এরমধ্যে কমিশন পর্যালোচনা করে ৭৫৮টি।

বছরভিত্তিক গুমের পরিসংখ্যান:

বছর গুমের সংখ্যা
২০১৬ ১৩০
২০১৭ ৮৪
২০১৮ ৮৯

২০১৬ সালের পরের দুই বছর অর্থাৎ ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এতো গুমের ঘটনা কেন ঘটলো, এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৮ সালের শেষদিকে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নিশ্চিত করতে টার্গেট করা হয় অনেককে। কমিশন মনে করে, রাজনৈতিক কারণেই ঘটেছে বেশির ভাগ গুমের ঘটনা। ক্ষমতা ধরে রাখতে বানানো হয় গোপন বন্দিশালা।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, যখন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশে হলো না, তখন কেউ কেউ লেখালেখি শুরু করে। একইভাবে রাজনৈতিক সভা সমাবেশও ছোট-বড় পরিসরে হতে থাকে। রাজনৈতিক দলের কাছে যে ব্যক্তির কর্মকাণ্ডকে নিজেদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে মনে করা হলো, তাদেরকেই মূলত গুমের প্রাথমিক পরিকল্পনায় নিয়ে আসা হয়। এর বাইরে সিভিল সোসাইটির অনেক ব্যক্তিও এই গুমের শিকার হন তাদের অনলাইন-অফলাইন লেখালেখি ও বক্তব্যের কারণে- বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পরোক্ষ অংশগ্রহণ ছিলো গুমকাণ্ডে। এই কাজের পারফরম্যান্সের স্কেল অনু্যায়ী একটি সুবিধাও পেতেন তারা। সেইসাথে ভারতীয় অনেক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও এই কাজে জড়িত বলে মনে করেন ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক।

শেখ হাসিনার আমলে তৈরি করা গুমের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক বন্দিশালা গুড়িয়ে ফেলা হলেও এখনও কিছু অবশিষ্ট রয়েছে। বিভিন্ন সুত্র বলছে, এরকমই এক বন্দিশালায় যাওয়া-আসা ছিল বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের।

এদিকে, অপরাধ ও আইন বিশ্লেষক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের মতে, এ ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কাজকে অনুমোদন দেয়া একেবারেই অনুচিত। তৎকালীন সময়ের রাজনৈতিক আবহও এর নেপথ্যের অন্যতম কারণ বলে দায়ী করেন তিনি।

কমিশনের তদন্তে গুমের ঘটনায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্যও উঠে আসে। এমনই একটি ঘটনা ঘটে মানিকগঞ্জে। ২০২৩ সালের ২৯ আগষ্ট জেলার বড় নালাই গ্রামের রহমত উল্লাহ নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তিনি নিখোঁজ ছিলেন ১৬ মাস। যখন বন্দিশালা থেকে বের হয়ে বাড়ি আসেন, তখন তিনি দেশেই ছিলেন না। তার অবস্থান ছিলো ভারতের একটি কারাগারে।

রহমত উল্লাহ বলেন, যদি আমাকে তারা (যারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো) ফাঁসি দিয়ে দিত তাহলেও আমার আক্ষেপ থাকতো না। কিন্তু এভাবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর অজানা একটি জায়গায় রাখা সেইসাথে ভারতে পাচার করে দেয়া এটি কতটুকু নৈতিক- এরকম প্রশ্নও রাখেন রহমত।

বোঝা গেলো মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন রহমত। এখনও আছেন ট্রমায়, কখন আবার গুম হয়ে যান তিনি সেই অজানা এক ভয় এখনও তার অবচেতন মনে কাজ করে মাঝেমধ্যেই।

ভুক্তভোগীর বোন রাজিয়া আক্তার অভিযোগের তির তোলেন প্রতিবেশী দেশ ভারতের ওপর। তার ধারণা বাংলাদেশের গুমকাণ্ডে ওতপ্রোতভাবে জড়িত দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

একই ঘটনা ঘটেছে রহমত উল্লাহর মতো একাধিক ব্যক্তির। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে আটক হলেও পরে সন্ধান মিলেছে আন্তর্জাতিক সীমানার বাইরে।

আওয়ামী শাসনামলে সরকারি সংস্থা কর্তৃক বলপূর্বক গুমের শিকার হয়েছে এমন সব পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম জানান, গুমকাণ্ডে ফেরত আসা একাধিক ব্যক্তির অভিযোগে একটি বিষয়ের মিল লক্ষ্য করা যায়। গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের যখন মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় তারা অনেকেই খেয়াল করেছেন যারা নির্যাতন চালাচ্ছে তাদের বলা ভাষা বাংলা নয়, বরং সেটি প্রতিবেশী দেশের।

কমিশনের শঙ্কা, এখনও যাদের খোঁজ মেলেনি, তাদের হয়তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। কিন্তু গুমের শিকার প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানতে উদগ্রীব হয়ে আছেন স্বজনরা। কারণ, সবশেষে তাদের আশায় বুক তো বাধতেই হবে।

নবীন নিউজ/জেড

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ভোট দিতে পারছেন না জিএম কাদের ও আখতারুজ্জামান

news image

আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন: সেনাপ্রধান

news image

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫ জন

news image

ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার

news image

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ

news image

মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেফতার ৩ জন

news image

ওসমান হাদীর মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

news image

গুলিবিদ্ধ হাদির সঙ্গে থাকা রাফি জানালেন পুরো ঘটনার বিবরণ

news image

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় সেই গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার

news image

জামায়াতের ঔষধ হলো আওয়ামী লীগ, বললেন মির্জা আব্বাস

news image

ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা

news image

‘জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে’

news image

শেখ হাসিনার ৫-রেহানার ৭ বছরের জেল, ২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন টিউলিপ

news image

সচিবালয়ে আগুন

news image

খুলনা আদালত চত্বরে গুলিতে ২ জন নিহত

news image

ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ

news image

১ লাখের স্কুটারে জরিমানা ২১ লাখ!

news image

ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কড়াইল বস্তির আগুনের ক্ষতচিহ্ন

news image

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

news image

ফের ভূমিকম্প

news image

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন কি এখানেই শেষ?

news image

শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ

news image

শেখ হাসিনার মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী

news image

রায় শুনে যা বললেন শেখ হাসিনা

news image

হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে বাসে আগুন

news image

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

news image

আ.লীগের মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি

news image

নারীরা ঘরে সময় দিলে, সম্মানিত করবে সরকার: জামায়াত আমির

news image

রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১ জন

news image

ভোরে রাজধানীতে দুই বাসে আগুন