মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

হতাশায় দিন কাটছে সেন্টমার্টিনবাসীর

নবীন নিউজ ডেস্ক ১০ ডিসেম্বার ২০২৪ ০৮:২৬ পি.এম

ছবি- সংগৃহীত। ছবি- সংগৃহীত।

চলছে ভরা পর্যটন মৌসুম। বিগত বছরগুলোতে এ সময়ে পর্যটকে সরগরম থাকতো প্রবাল সমৃদ্ধ দেশের একমাত্র দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। হেমন্ত ও শীতের কুয়াশা মাখা প্রকৃতিতে সাগরের শান্ত রূপ বিদ্যমান সময় পর্যন্ত চলমান থাকে দ্বীপে পর্যটক আনাগোনা। এ চার মাসের আয়ে চলে বাকি আট মাসের খরচ। গত দু'দশক ধরে পর্যটনে নির্ভর দ্বীপবাসী পূর্ব পুরুষদের পেশা মাছ ধরা ধীরে ছেড়ে দিয়েছে। ছেড়ে দিয়েছে পুরো দমে চাষাবাদও। গত মৌসুম হতে দুই দশকের আয়ের উৎস পর্যটন সেবায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ আমলে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন শুরুর আগে অকস্মাৎ দ্বীপে গণহারে পর্যটক আসার উপর বিধিনিষেধ আরোপের তোড়জোড় শুরু হয়। দ্বীপের জীব বৈচিত্র্য, প্রাণ-প্রকৃতি ও প্রতিবেশ রক্ষার নামে নিবন্ধনের মাধ্যমে স্বল্প সংখ্যক পর্যটক যাওয়া-আসার উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

দ্বীপবাসীর দাবি, বছরে মাত্র চারটি মাস যেহেতু দ্বীপে পর্যটক সমাগম হয় সেহেতু এ চার মাস চাহিদা মতো পর্যটক আসুক এবং বাকি আটমাস দ্বীপের প্রাণ-প্রকৃতির সমতা রক্ষায় কাজ চলুক। 

সেন্ট মার্টিনবাসীর আন্দোলনে পর্যটক সীমিত করণের কাগজে কলমে উদ্যোগ তখন আর নেওয়া হয়নি। কিন্তু বিধিবাম, দ্বীপে পর্যটনের দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় মিয়ানমারের রাখাইনে শুরু হওয়া সরকার ও আরাকান আর্মির যুদ্ধ। তাদের গোলায় নাফ নদী হয়ে চলা ট্রলারে স্থানীয় ও পর্যটক এবং এদেশের সরকারি কর্মজীবীরা আক্রান্ত হওয়ার পর আর অনুমোদন পায়নি টেকনাফ দমদমিয়া ঘাট ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। অঘোষিত বন্ধ হয়ে যায় কাঠের বোট সার্ভিসও। এতে এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায় পর্যটক আসা-যাওয়া।

এরই মাঝে চলতি বছরের শুরুতে চলে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করেও অল্প দিনে ক্ষমতা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। দেশের হাল ধরেন ড. ইউনূছের তত্ত্বাবধানে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আওয়ামী লীগ আমলের নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়। নানা দেন-দরবার ও প্রতিবাদের পরও নিবন্ধনের মাধ্যমে দৈনিক দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে আসার অনুমতি পায়। মৌসুমের প্রায় দুই মাস পর পহেলা ডিসেম্বর হতে শুরু হয়েছে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে সেই যাত্রা। তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ কক্সবাজার শহর হতে যাত্রী তুলে দ্বীপে এলেও স্বস্তিতে নেই দ্বীপের মানুষ।

দ্বীপের ব্যবসায়ী নেতা নুর মোহাম্মদ বলেন, পর্যটনের ক্ষুদ্র ব্যবসায় স্থানীয়রা যুক্ত। অনেকে নিজের ভিটার খালি অংশে ইকো-ট্যুরিজম সিস্টেমে আবাসিক ও ঘরোয়া খাবারের ঘর তৈরি করে পর্যটক সেবা দিয়ে এসেছেন। চালিয়ে আসছেন ভ্যান। প্রতিদিন বাড়তি পর্যটক এলে দামি হোটেল-মোটেলের মতো এদের কটেজে নিত্য পর্যটক মিলতো। আয় ছিল চলমান। আর ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা বাইরের বিত্তশালী ব্যবসায়ী কিংবা আমলাদের স্বজনরা দ্বীপে এসে গড়েছেন বহুতল ভবনে আবাসন। খুলেছে আধুনিক রেস্তোরাঁ। এসব হোটেলের সঙ্গে রয়েছে জেলা শহর কিংবা দেশের বিভিন্ন এলাকার দামি হোটেলগুলো কর্পোরেট চুক্তি। 

তিনি আরও বলেন, চলতি সময়ে দৈনিক হাতেগোনা যেসব পর্যটক আসছেন তাদের পাশ পেতে বুকিং করা হোটেলের নাম দরকার পড়ায় আগাম বুকিং পাচ্ছে দ্বীপের বহুতল হোটেলগুলো। এতে করে জনশূন্যই যাচ্ছে স্থানীয়দের কটেজ। ফলে আয়হীন থাকছে স্থানীয়দের জীবন। ফলে সংকটের আবরণ কেবল বাড়ছে।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, দ্বীপবাসীরা কেমন আছেন, তাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা কেমন তার খোঁজ কেউ নিচ্ছেন না। চলমান তরুণ প্রজন্ম পর্যটনেই আয়ের পথ মাথায় নিয়ে বড় হয়েছে। ফলে তারা অন্য পেশায় হঠাৎ নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারছেন না। তাই দ্বীপের ১০ হাজার মানুষের মাঝে স্বল্প সংখ্যক লোক পুরোনো পেশা মাছ ধরছে। বাকিদের জীবন ধারণ কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। তাই সরকার বা প্রশাসনের কাছে আমাদের সবার আবেদন -এমনই অভিযোগ এই দ্বীপবাসীর। প্রকৃতি রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিকতা পালন নিশ্চিতের মাধ্যমে মৌসুমের চার মাস পর্যটক সমাগম সহজতর করুন। এতে সংকট উত্তরণ সম্ভব।

নবীন নিউজ/পি

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ভোট দিতে পারছেন না জিএম কাদের ও আখতারুজ্জামান

news image

আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন: সেনাপ্রধান

news image

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫ জন

news image

ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার

news image

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ

news image

মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেফতার ৩ জন

news image

ওসমান হাদীর মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

news image

গুলিবিদ্ধ হাদির সঙ্গে থাকা রাফি জানালেন পুরো ঘটনার বিবরণ

news image

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় সেই গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার

news image

জামায়াতের ঔষধ হলো আওয়ামী লীগ, বললেন মির্জা আব্বাস

news image

ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা

news image

‘জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে’

news image

শেখ হাসিনার ৫-রেহানার ৭ বছরের জেল, ২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন টিউলিপ

news image

সচিবালয়ে আগুন

news image

খুলনা আদালত চত্বরে গুলিতে ২ জন নিহত

news image

ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ

news image

১ লাখের স্কুটারে জরিমানা ২১ লাখ!

news image

ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কড়াইল বস্তির আগুনের ক্ষতচিহ্ন

news image

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

news image

ফের ভূমিকম্প

news image

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন কি এখানেই শেষ?

news image

শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ

news image

শেখ হাসিনার মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী

news image

রায় শুনে যা বললেন শেখ হাসিনা

news image

হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে বাসে আগুন

news image

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

news image

আ.লীগের মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি

news image

নারীরা ঘরে সময় দিলে, সম্মানিত করবে সরকার: জামায়াত আমির

news image

রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১ জন

news image

ভোরে রাজধানীতে দুই বাসে আগুন