নবীন নিউজ ডেস্ক ০৯ সেপ্টেম্বার ২০২৪ ১০:৫১ এ.এম
সংগৃহীত ছবি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম বলেছেন, আন্দোলন করলাম আমরা আর ফল ভোগ করবেন আপনারা? তা হবে না। এতো বছর ধরে আলেমদের মাথায় বড়ই রেখে খেয়েছেন। কিন্তু আর না, সেই দিন ভুলে যান, আমাদেরকে আর বোকা বানাতে পারবেন না। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে তারা কিছু করতে পারেনি কিন্তু এখন ফেস্টুন-ব্যানারে রাস্তা ভরিয়ে ফেলেছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বর এলাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখার আয়োজনে গণসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে মুফতী সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম বলেন, চোরকে সরিয়ে চোর, ডাকাতকে সরিয়ে ডাকাত আর ধর্ষককে সরিয়ে আরেক ধর্ষককে বসালে ধর্ষণ বন্ধ হবে না। আমরা নেতার নয়, নীতির পরিবর্তন চাই। তাই সুবিধাবাদীদের আমরা ক্ষমতায় বসতে দেব না। এদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।
এ সময় আওয়ামী লীগ সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর শেখ হাসিনার সরকার আমাদের নির্যাতন করেছে, তারা স্বৈরশাসন কায়েম করেছে। গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাদের পতন হয়েছে। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রদের সঙ্গে এই স্বৈরশাসকদের পতন ঘটিয়েছে। আর সরকার পতন পরবর্তী ১৫ দিনে একটি রাজনৈতিক দল চাঁদাবাজি, সম্পত্তি ও অফিস দখলবাজি, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর করেছে। আওয়ামী লীগের মত আমরা এদেরকেও চাই না।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আওয়ামী সরকার খুনি ও ধর্ষণকারীদের দল। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর খুনী, ধর্ষক ও চাঁদাবাজদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা চায় সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষ ক্ষমতায় আসুক। এজন্যই আওয়ামী লীগের গোটা সংসদীয় সদস্য সবাই পালিয়েছে। যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সরকার পতনের পর কোন দেশে এমনটা ঘটেনি। তাদের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণেই তারা আজকে পালিয়েছে। আওয়ামী লীগের দোসররা আমার জন্মভূমি বাংলাদেশে আমাদেরকে ইসলামিক চর্চা করতে দেয়নি, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অন্যান্য ধর্মের ভাই বোনেরা ধর্মচর্চা করতে পারলেও কোন মুসলমান ভাই বোন ইসলাম ধর্মচর্চা করতে পারেনি। গত রমজানে এমনকি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতে পর্যন্ত দেয়া হয়নি।
মুফতী সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম আরও বলেন, তোমরা কি জানো জাতিকে পরিবর্তন করার জন্য আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা কি ছিল? তারা চেয়েছিল বাংলাদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করে দিতে। কারণ একটি জাতিকে পরিবর্তন করতে হলে এই দুইটি জিনিসকে পরিবর্তন করতে হয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে পরিবর্তনের। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা চেয়েছিল কিভাবে খ্রিস্টান জাতিকে মুসলমান বানানো যায় আর মুসলমান জাতিকে খ্রিস্টান বানানো যায় ও হিন্দু জাতিকে কিভাবে মুসলমান বানানো যায় আর মুসলমান জাতি কিভাবে হিন্দু বানানো যায়। তাই আমরা এমন কোন পরিবর্তন চাই না, যার কারণে আমাদের সন্তানেরা বিপথে যায়। কারণ আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতিতে থাকবে আমাদের সন্তানেরা কিভাবে চলবে, কোন পোশাক পরবে, কিভাবে সবার সঙ্গে আচার-আচরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, সামনে আমাদের হিন্দু ভাইদের দুর্গাপূজা উৎসব। আমরা মুসলমান ভাইয়েরা ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীরা সেই হিন্দু ভাইদের মন্দির পাহারা দেব, যাতে তারা নির্বিঘ্নে পূজা উৎসব করতে পারে। কারণ আমরা চাই সম্প্রীতির বাংলাদেশ। আমরা সব ধর্মের মানুষেরা মিলেমিশে থাকবো। কিন্তু একটি কথা আমার মেনে নিতে আপত্তি আছে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার, এই কথাটি আমি এবং আমরা মেনে নেব না। আমরা বলতে চাই, ধর্ম যার যার উৎসব তার তার। কারণ মুসলমান ধর্ম হোক আর হিন্দু ধর্ম হোক আমরা চাইলেই কেউ কারো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারি না। কারণ আমরা গরুর মাংস খাই ও কুরবানি দেই। এটা হিন্দু ভাইদের জন্য নিষিদ্ধ। আবার হিন্দু ভাইদের প্রতিমার জন্য পূজার প্রসাদ মুসলমান ভাইদের জন্য নিষিদ্ধ। তাই চাইলেও আমরা কেউ কারো উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারি না। তবে আমাদের একে অপরের উৎসবের প্রতি সহযোগিতা থাকবে। আমরা বলেছি ধর্ম যার যার উৎসব সবার। হিন্দু ভাইদের বলতে চাই শান্তিতে তোমরা তোমাদের ধর্ম পালন করো, উৎসব (দুর্গাপূজা) পালন করো, আর আমরা তোমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই উৎসব আমরা পাহারা দেব।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা শাখার অন্যতম সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম জিতু বলেন, আমরা একটি স্বৈরশাসকের পতন ঘটিয়েছি। দীর্ঘ ১৫ বছর আমাদের কোন বাক স্বাধীনতা ছিল না। গত ১৫ বছরে একটি দল আমাদের দেশের যত ক্ষতি না করেছে গত ১৫ দিনে অন্য একটি দল তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে আমাদের দেশের। আমাদের আন্দোলন এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। সেই ব্রিটিশ আন্দোলন থেকে আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। আমরা দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা চাই, গণমাধ্যম কর্মীদের বাকস্বাধীনতা ও সর্বস্তরে বাক স্বাধীনতার নিশ্চিত করতে চাই। যেকোনো যুদ্ধের জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।
উল্লেখ্য, শরীয়তপুর জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি তোফায়েল আহমাদ কাশেমীর সভাপতিত্বে এবং হাফেজ মুফতি সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় গণসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আল আমিন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন, ইসলামী আন্দোলন শরীয়তপুর জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা শওকত আলী, অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া সরদার প্রমুখ।
নবীন নিউজ/পি
চরমোনাই পীরের সম্মানে আসন ছাড়লো জামায়াত
ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে শোকজ
‘আমি রুমিন না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার’
অবশেষে এনসিপি ছাড়ার কারণ জানালেন তাসনিম জারা
“কারাগারে ভুল চিকিৎসার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যু”
তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল
খালেদা জিয়া কবর থেকেও জাতিকে নেতৃত্ব দেবেন: প্রিন্স
“জুলাই যোদ্ধারা আমাদের উপর দায়িত্ব দিয়ে গেছে”
নির্বাচনের আগেই নিজেকে ‘এমপি নিশ্চিত’ করলেন জামায়াত প্রার্থী
৭১ সালেই তাদেরকে দেশের মানুষ দেখেছে : তারেক রহমান
১৭ বছর কে কোথায় ছিল আমরা দেখেছি
একই দিনে দুই ভোটের ঘোষণায় জনগণের অভিপ্রায় উপেক্ষিত হয়েছে: জামায়াত
ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ
শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের
মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ জামায়াতেও!
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদের পরিস্থিতি স্থিতিশীল
বিএনপি প্রার্থী এরশাদ গুলিবিদ্ধের সময় যা হয়েছিল
২৩৭ আসনে এমপি প্রার্থীদের তালিকা দিলো বিএনপি
নির্বাচনের আগে গণভোট না হলে এর কোনো মূল্য নেই: জামায়াত আমির
চলতি বছরে আ. লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার
দুর্বল শাসন ব্যবস্থাই বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের কারণ: অজিত দোভাল
এনসিপির শাপলা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল ইসি
ফ্যাসিবাদবিরোধী সব দল নিয়ে জোট করবে বিএনপি
বিএনপি নেতাকে ১০ লাখ টাকার চেক দেওয়া কর্মীর অ্যাকাউন্টে ৩৪১২ টাকা
এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
নির্বাচনে বিএনপি জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?
৭ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল বিএনপি
করোনার মতো পিআর নামক ভাইরাস থেকে মুক্তি চাই
নির্বাচনে এনসিপি ১৫০ আসন পাবে, বিএনপি ৫০–১০০-এর বেশি পাবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
‘বিএনপি কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দিয়ে রাজনীতি করে না’