বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
আইন

অভিযুক্ত হয়েও দুই বছরে রায়ে ১৭৬২৬ আসামি খালাস

নবীন নিউজ ডেস্ক ২৭ অক্টোবার ২০২৪ ০৯:২৫ এ.এম

সংগৃহীত ছবি সংগৃহীত ছবি

জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এক দশক ধরে তৈরি করা কাগজপত্র দিয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুই ব্যক্তি। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি আনোয়ার হোসেন ও মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় পাসপোর্ট আইনে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পুলিশ ওই দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আর ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর তাঁদের দুজনের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জব্দ তালিকার একজন সাধারণ সাক্ষীকে উপস্থাপন করা হয়। তবে কোনো কারণ ছাড়াই এই মামলার এজাহারকারী এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য সাক্ষীদের উপস্থাপন করা হয়নি। কেন করা হয়নি সে বিষয়েও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পরে মামলাটি পুরনো হওয়ার কারণ দেখিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ ঘোষণা করা হয়।

একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় থেকে খালাস দেওয়া হয় তাঁদের। একইভাবে গত দুই বছরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট {সিএমএম}আদালতের দেওয়া রায়ে ৭৮ শতাংশ আসামি খালাস পেয়েছেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘সাক্ষী হিসেবে তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন আদালতে এলেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এটি খতিয়ে দেখতে হবে। এভাবে মামলা নিষ্পত্তি হলে তো বাদী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।

এর জন্য পুলিশ ও প্রসিকিউশন বিভাগের গাফিলতির বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা আইনজীবীদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।’

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত দুই বছরে ঢাকার সিএমএম আদালতে ২২ হাজার ৪০৫টি মামলা রায়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলায় ২২ হাজার ৬০০ জন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে রায়ে ১৭ হাজার ৬২৬ জন আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
 
এই হিসাবে ৭৮ শতাংশ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে চার হাজার ৯৭৪ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেওয়া হয়েছে, যা মোট আসামির হিসাবে ২২ শতাংশ।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে পাঁচ হাজার ২১৮টি মামলা রায়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলায় মোট পাঁচ হাজার ২৯৪ জন আসামির মধ্যে এক হাজার ৩১৫ জনের সাজা হয়েছে। আর খালাস পেয়েছেন তিন হাজার ৯৭৯ জন আসামি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৪৬৮, ফেব্রুয়ারিতে ৬১৩, মার্চে ৫৬২, এপ্রিলে ৪০২, মে মাসে ৫৯০, জুনে ৪৬৫, জুলাইয়ে ৫০৪ ও আগস্টে ৩৭৫ জন আসামি খালাস পেয়েছেন।

তার আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চার মাসে পাঁচ হাজার ৭১৭টি মামলা রায়ে নিষ্পত্তি হয়। এতে এক হাজার ৩০ জন আসামির সাজা হয়। আর চার হাজার ৬৯১ জন আসামি খালাস পান। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে এক হাজার ৩২৮, অক্টোবরে এক হাজার ১৮৩, নভেম্বরে এক হাজার ২৮৪ ও ডিসেম্বরে ৮৯৬ জন আসামি খালাস পেয়েছেন।

২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১ হাজার ৪৭০টি মামলা রায়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৬২৯ জন আসামির সাজা হয়। এসব মামলায় আট হাজার ৯৫৬ জন আসামি বেকসুর খালাস পান। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮২৩, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ২৪৫, মার্চে ৭৮০, এপ্রিলে ৪৫৭, মে মাসে ৫১৭, জুনে ৭৩২, জুলাইয়ে ৮১৯, আগস্টে ৯২৪, সেপ্টেম্বরে ৭০০, অক্টোবরে ৭৪৫, নভেম্বরে ৭১৬ ও ডিসেম্বরে ৪৯৮ জন খালাস পেয়েছেন।

আইনজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তদন্তে দুর্বলতা রেখে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। মামলার বাদী ও আসামিপক্ষ আপস-মীমাংসা করে। এতে বাদী আদালতে এসে সাক্ষ্য দিতে চান না। অনেক সময় অজামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েও সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয় না। ঠিকানা বদল করায় পাবলিক সাক্ষীকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার সাক্ষ্য দিতে এলেও ঘটনার বিষয়ে কিছু বলতে পারেন না। রাষ্ট্রপক্ষও গাছাড়া ভাব নিয়ে আদালতে কাজ করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন না। একপর্যায়ে সাক্ষীর অভাবে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। পরে আসামিরা অনায়াসে খালাস পেয়ে যান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের {ডিএমপি} মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার {ডিসি} মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্যরা আদালতে নিজেরা সাক্ষ্য দেন। পাশাপাশি অন্য সাক্ষীদের আদালতে হাজিরে সহযোগিতা করেন। কেউ যদি নির্দেশনা পেয়েও সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত না হন, সে ক্ষেত্রে আদালত ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে আমরা সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে চেষ্টা করি।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর {পিপি} ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিগত দিনে রাজনৈতিক মামলা ছাড়া অন্য কোনো মামলার বিচারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যারা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, তাঁরাও এসব মামলা তদারকি করেননি। রাজনৈতিক মামলায় সাজা দিতেই তাঁরা মনোযোগী ছিলেন। বর্তমানে সব মামলায় সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা হবে। সাক্ষী হাজিরে দরকার হলে একটা সেল গঠন করতে হবে। তাহলে বিচার প্রক্রিয়ায় মানুষের আস্থা ফিরবে।

নবীন নিউজ/পি

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ধর্ষকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিয়ে বন্ধের রিট খারিজ

news image

খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নেপথ্যে ছিলেন খায়রুল

news image

কারাগারে কয়েদিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর হাতাহাতি

news image

কারাগারে মশার কামড়ে ঘুম হচ্ছে না, খুব কষ্টে আছি: ছাত্রলীগ নেতা

news image

কারাগারে সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা ‘জামাই আদরে’, যা বলছেন ডিআইজি প্রিজন্স

news image

পুলিশের জন্য কী না করেছি, আক্ষেপ সাবেক আইজিপি শহীদুল হকের

news image

আ.লীগ আমলের ৩ নির্বাচন রাষ্ট্রীয়ভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে নোটিশ

news image

নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবক গ্রেফতার

news image

ধর্ষণের পর হত্যা: প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

news image

গাজীপুরে আদালত থেকে আসামি ছিনতাই

news image

চটপটির দোকান দেখিয়ে ২৩৪ কোটি টাকা ঋণ: ব্যবসায়ীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

news image

১২ দিনের রিমান্ডে পলক

news image

সালমান ও পরিবারের সদস্যদের ৩৭২ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

news image

সবার ৭দিন হলেও কারাগারে থাকা উচিত: পলক

news image

কারাগারে বসে কি স্ট্যাটাস দেওয়া যায়, প্রশ্ন ফারুক খানের

news image

আদালতে ইনু বললেন 'যেই লাউ সেই কদু'

news image

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার কৌশল: অ্যাটর্নি জেনারেল

news image

দীপু মনির ১৬টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ

news image

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকায় ৫৭৬টি মামলা

news image

ব্যাপক নিরাপত্তা, সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে সঙ্গে রাখতে হবে পরিচয়পত্র

news image

সুপ্রিম কোর্টে সেনা মোতায়েন, রয়েছে র‌্যাব-পুলিশও

news image

প্রাথমিকের ৬ হাজার ৫৩১ সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল

news image

সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

news image

চুপ থাকার সময় শেষ: পলক

news image

কারাগারে নেওয়ার সময় সাবেক মন্ত্রী ফরহাদকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ

news image

স্ত্রী-সন্তানসহ সাদেক খানের অর্ধশত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

news image

চলন্ত ট্রাকে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণে চালকের আমৃত্যু কারাদণ্ড

news image

ছুটিতে পাঠানো হাইকোর্টের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের পদত্যাগ

news image

অস্ত্র মামলায় খালাস পেলেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন

news image

১৭ বছর পর আজ কারামুক্ত হচ্ছেন লুৎফুজ্জামান বাবর