নবীন নিউজ, ডেস্ক ১৬ জুন ২০২৪ ১১:৩৬ এ.এম
২০১৫ সালে সেই উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন একটি নির্দিষ্ট স্থানে এলাকার সবার পশু কোরবানি করার। বর্জ্য অপসারণের সুবিধার্থে ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশু কোরবানির জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের অনাগ্রহে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
নির্দিষ্ট এলাকায় কোরবানির জন্য দুই সিটি করপোরেশন মোটাদাগে অর্থ খরচ করে বেশ তোড়জোড় চালায়, কিন্তু মানুষের অনাগ্রহের কারণে ওই উদ্যোগ বিফলে যায়। নগরবাসী মনে করেন, বংশ পরম্পরায় বাসাবাড়ির আঙিনায় গরু জবাই করা হতো। সেই ধারার বাইরে যেতে ইচ্ছে করে না। এছাড়া দূরে গিয়ে পশু কোরবানি করে মাংস টেনে নিয়ে আসাও ঝামেলার। তাই নির্ধারিত জায়গায় কোরবানির জন্য যেতে আগ্রহ নেই বলে উল্লেখ করছেন অনেকে। এ জন্য বরাবরের মতো বাসার সামনে খালি জায়গায়, রাস্তায় কিংবা গলিতে পশু কোরবানি দিচ্ছেন তারা।
নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি না দেওয়ার বিষয়ে পুরান ঢাকার বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জন্মের পর থেকেই আমি দেখে আসছি আমার বাপ-দাদা আমাদের বাসার সামনে কোরবানি দিয়েছেন। আমরা চাচা-ভাতিজা সবাই মিলে সেই কোরবানিতে অংশ নিতাম। একেকজন একেক কাজ করতেন। কেউ গরুর মাংস কাটতেন, কেউ মাংস থেকে হাড় আলাদা করে দিতেন, কেউ গরুর নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার করতেন। এর মাঝে নানা ধরনের গল্প হতো। এই ধারা এখনও চলমান আছে। নিজের বাসার সামনে কোরবানি দেওয়ার যে আনন্দ তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এটা একটা উৎসবের মতো। অন্য জায়গায় কোরবানি দিলে এই আনন্দ পাওয়া যাবে না। মনে হবে দোকান থেকে মাংস কিনে বাসায় এনেছি।
পুরান ঢাকার আরেক বাসিন্দা হাজী নান্টু মিয়া বলেন, সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছিল তা আসলে আমাদের নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিষ্কার রাখার জন্য ছিল। সেই উদ্যোগের বিপক্ষে আমরা ছিলাম না। কিন্তু সেখানে আমরা কোরবানির আসল মজা মিস করছিলাম। নিজ বাড়ির আঙিনায় যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে কোরবানি দিতে পারি সেখানে সেই সুযোগ ছিল না। তাছাড়া গরু নিয়ে আরেক জায়গায় যাওয়া, তারপর কোরবানি শেষ করে সেই গরুর মাংস ক্যারি করে বাসায় আনা, এটা একটা ঝামেলা ছিল। যদি আশপাশে হতো তাহলে হয়তো আমরা সেখানে কোরবানি দিতাম। কিন্তু সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট সেই জায়গাটা ছিল আমার বাসা থেকে অনেক দূরে।
সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগের বিষয়ে বংশালের বাসিন্দা গোলাম সারওয়ার বলেন, সিটি করপোরেশনের উচিত ছিল ওয়ার্ডভিত্তিক বা পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটা মিটিং করে স্থানীয়দের মতামত নেওয়া। কিন্তু সিটি করপোরেশন তা করেনি। কেউ তো চাইবে না তাদের বাসা থেকে দূরে গিয়ে কোরবানি দিতে। তাছাড়া যাতায়াতের একটা বিষয় আছে, সেটা বাড়তি আরেকটা খরচ। এর জন্যই আসলে এই উদ্যোগ মানুষ আমলে নেয়নি।
নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির বিষয়ে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় খরচ অনেক কমে যেত। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, বাড়ির আঙিনায় বা বাসার পাশে কোরবানি দেওয়া মানুষের একটা ঐতিহ্য। সিটি করপোরেশন চাইলেই হুট করে এই সিদ্ধান্ত বদল করতে পারবে না। এই উদ্যোগ নেওয়ার আগে তাদের জনমত নেওয়া উচিত ছিল। হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি। নিশ্চয়ই এই প্রকল্পে সিটি করপোরেশন অনেক টাকা ব্যয় করেছে। এটা যদি আগে জনমত নিয়ে যাচাই-বাছাই করে করতো তাহলে এই টাকা অপচয় হতো না।
নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দেওয়ার প্রকল্পে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ছাড়াও সরকারি উদ্যোগে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে মোট ২ হাজার ৯৩৬টি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। মানুষের অনীহার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির প্রকল্পটি অকার্যকর হওয়ার বিষয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, উন্মুক্ত স্থানে পশু কোরবানি না করার বিষয়ে যেহেতু কোনও আইন নেই যে খোলা স্থানে কোরবানি করলে সাজার নিয়ম আছে, তাই এটা কার্যকর হয়নি। আর ধর্মীয় বিষয়েও এসব জোরজবরদস্তি করতে গেলে মানুষের মাঝে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ বিফলে যাওয়ার কারণ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের বলেন, সিটি করপোরেশন কোরবানির জন্য যে জায়গাগুলো নির্দিষ্ট করেছেন সেখানে মানুষ কোরবানি দিতে আসে না। সাধারণ মানুষ তাদের নিজ বাড়িতে কোরবানি করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, উৎসব অনুভব করেন। তারপর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরত সবাই সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই উদ্যোগটি বাদ দিয়ে দিয়েছেন। কারণ এটা একটা অর্থের অপচয়।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ নেওয়ার আসল উদ্দেশ্য ছিল দ্রæত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যা আমরা এখনও করতে সক্ষম হয়েছি। প্রতি বছর আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করতাম। এবার তা মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। সুতরাং এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হলেও তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। আমাদের আসল যেই উদ্দেশ্য ছিল তা কিন্তু বাস্তবায়িত হচ্ছে।
নবীন নিউজ/এফ
ভোট দিতে পারছেন না জিএম কাদের ও আখতারুজ্জামান
আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন: সেনাপ্রধান
বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫ জন
ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার
সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ
মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেফতার ৩ জন
ওসমান হাদীর মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
গুলিবিদ্ধ হাদির সঙ্গে থাকা রাফি জানালেন পুরো ঘটনার বিবরণ
মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় সেই গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার
জামায়াতের ঔষধ হলো আওয়ামী লীগ, বললেন মির্জা আব্বাস
ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা
‘জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে’
শেখ হাসিনার ৫-রেহানার ৭ বছরের জেল, ২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন টিউলিপ
সচিবালয়ে আগুন
খুলনা আদালত চত্বরে গুলিতে ২ জন নিহত
ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ
১ লাখের স্কুটারে জরিমানা ২১ লাখ!
ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কড়াইল বস্তির আগুনের ক্ষতচিহ্ন
দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া
ফের ভূমিকম্প
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন কি এখানেই শেষ?
শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ
শেখ হাসিনার মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী
রায় শুনে যা বললেন শেখ হাসিনা
হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে বাসে আগুন
ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
আ.লীগের মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি
নারীরা ঘরে সময় দিলে, সম্মানিত করবে সরকার: জামায়াত আমির
রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১ জন
ভোরে রাজধানীতে দুই বাসে আগুন