শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

থানায় ফিরছে পুলিশ, রাস্তায় ফিরবে কবে?

নবীন নিউজ, ডেস্ক ১১ আগষ্ট ২০২৪ ১১:১৯ এ.এম

সংগৃহীত ছবি

কখনো তীব্র রোদ, কখনোবা অঝোরে বৃষ্টি। এমন বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই রাজধানীসহ সারা দেশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার টানা পঞ্চম দিনের মতো সড়কে ট্রাফিক পুলিশের পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করলেও কিছু কিছু জায়গায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানার কার্যক্রম কিছুটা শুরু হলেও, ট্রাফিক পুলিশ কবে রাস্তায় নামবে, তার সঠিক কোনো তথ্য নেই।

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলছেন, সাধারণ মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। রাস্তায় নামলেই বুলিংয়ের শিকার হতে পারেন। এ ছাড়া নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে তাদের মধ্যে। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশের কিছু দাবি রয়েছে, সেগুলো মানা হলে তারপরই রাস্তায় নামবেন তারা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর থানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাটসহ একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটতে থাকে। দিশেহারা হয়ে থানা ছেড়ে চলে যান পুলিশ সদস্যরা।

ভেঙে পড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এমন অবস্থায় শুধু যান চলাচল নয়, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি আতঙ্কে রাত জেগে এলাকায় এলাকায় পাহারা, সড়ক বিভাজকে (আইল্যান্ড) বৃক্ষরোপণসহ সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পাহারাও দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। থানায় থানায় আগুন দিয়েছে, পুলিশকে মারধর করেছে ও অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে ফিরতে সময় লাগছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে দায়িত্ব, তা পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুব দ্রুত পুলিশকে কাজে ফিরতে হবে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আনন্দ নিয়ে সাত দিন দায়িত্ব পালন করা যায়, ৭০ দিন না। সরকার গঠন হয়েছে, আমরা স্বাধীন হয়েছি। কিন্তু পুলিশ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জানমালের নিরাপত্তায় সরকার গঠন হওয়ার পরপরই পুলিশের বিষয়ে আলোচনা করা উচিত ছিল।

পুলিশকে সবাই ব্যবহার করেছে, আবার পুলিশের ওপরেই হামলা চালানো হয়েছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারছে। এখনো মানুষের ক্ষোভ রয়েছে, পুলিশ দেখলেই আক্রমণ করছে। এমন অবস্থায় পুলিশ কীভাবে মাঠে কাজ করবে। মন্ত্রণালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে প্রকাশ্যে এসে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের কথা শুনতে হবে, তাদের দাবি মানতে হবে, তারপরেই পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করতে নামবেন।’

একাধিক পুলিশ সদস্য অভিযোগ করে বলেন, তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লেজুড়ভিত্তিক কাজে লাগানো হয়েছে। তাদের নির্দেশে পুলিশের সদস্যরা কাজ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। রাস্তায় নামলেই বুলিংয়ের শিকার হবেন পুলিশ সদস্যরা। তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বললে তবেই পুলিশ রাস্তায় নেমে কাজ করবে।

তারা আরও বলেন, চারজনের স্থানে ৪০ জন শিক্ষার্থী দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ৩০ শতাংশ যানবাহন রাস্তায় নেমেছে। ৭০ শতাংশ এখনো বাকি আছে। ১০ মিনিটের জন্য ভিআইপি গেলে রাস্তায় ৩০ মিনিটের যানজট সৃষ্টি হয়। এখন ভিআইপি নেই, রাস্তায় পর্যাপ্ত গাড়ি নেই। সরকার যদি মনে করে শিক্ষার্থীরা ট্রাফিকের দায়িত্ব নিয়ে ভালো করছেন, তাহলে ট্রাফিক পুলিশ বাদ দিয়ে তাদের দিয়েই কাজ করিয়ে নিক।

এনজিওগ্রামএনজিওগ্রাম

ট্রাফিক পুলিশ বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে গেলে রাস্তায় বুলিংয়ের শিকার হতে পারে বলে মনে করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার  মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

পুলিশ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পুলিশ রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছে। পুলিশকে সবাই ব্যবহার করেছে, আবার তারাই হামলার শিকার হয়েছেন। এখন আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক যে, পুলিশের ওপর কোনো হামলা হবে না। পুলিশের নিরাপত্তা থাকবে। হামলার যেকোনো দায়ভার কর্মকর্তাদের নিতে হবে। এ ছাড়া পুলিশকে সংস্কার করতে হবে, পুলিশের যেসব দাবি আছে, সেগুলো মেনে নিতে হবে। তাহলেই পুলিশ মাঠে নামবে।’

ট্রাফিকের দায়িত্বে শিক্ষার্থীরা 

রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করেই গতকাল সড়কে ট্রাফিক সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন শিক্ষার্থীরা। বাঁশি, লাঠি আর হাতের ইশারায় চলছে নগরের সব যানবাহন। বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও রিকশার জন্য লেন ভাগ করে দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে চলছে কাজ। আর তাতে সড়কে শৃঙ্খলা মানতে বাধ্য হচ্ছেন চলাচলকারীরা। রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদগেট, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ধানম-িসহ বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিকব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, যত দিন ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় না নামবে, তত দিন শিক্ষার্থীরা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কিছু কিছু স্থানে বিশৃঙ্খলারও সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মোটরসাইকেল আরোহীকে রাস্তা থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাদের রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হচ্ছে। গাড়ি তল্লাশি করছে। কোনো অনুরোধ না শুনে শাস্তি দিচ্ছে।

৫৩৮ থানার কার্যক্রম শুরু 

 দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশের ৬৩৯টি থানার মধ্যে ৫৩৮টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে জেলার ৫২৯টি থানার মধ্যে ৪৫৪টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের ১১০টি থানার মধ্যে ৮৪টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

থানার কার্যক্রম পুনরুদ্ধার কমিটি গঠনের নির্দেশ

থানার কার্যক্রম পুনরুদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি থানা এলাকায় নাগরিক নিরাপত্তা কমিটি গঠনের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর নির্দেশনা দিয়েছে। বিবৃতিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, কমিটির প্রধান লক্ষ্য হবে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো। এই লক্ষ্যে কমিটি একটি অ্যাকশনপ্ল্যান প্রস্তুত করে মনিটরিং ও মূল্যায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

কমিটির আওতাধীন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ টহল প্রদানের মাধ্যমে হানাহানি, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এলাকায় বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ থামাতে নিবিড় ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে। স্থানীয় জনসাধারণের জীবন, সম্পদ, স্থাপনা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়সহ এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা নিয়মিত তদারকি করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিবৃতিতে পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, কমিটি পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলা; কেউ যেন কোনো ধরনের উসকানি দিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করতে না পারে, সেজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পুলিশ সদস্যদের আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

নবীন নিউজ/জেড

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ভোট দিতে পারছেন না জিএম কাদের ও আখতারুজ্জামান

news image

আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন: সেনাপ্রধান

news image

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫ জন

news image

ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার

news image

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ

news image

মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেফতার ৩ জন

news image

ওসমান হাদীর মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

news image

গুলিবিদ্ধ হাদির সঙ্গে থাকা রাফি জানালেন পুরো ঘটনার বিবরণ

news image

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় সেই গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার

news image

জামায়াতের ঔষধ হলো আওয়ামী লীগ, বললেন মির্জা আব্বাস

news image

ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা

news image

‘জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে’

news image

শেখ হাসিনার ৫-রেহানার ৭ বছরের জেল, ২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন টিউলিপ

news image

সচিবালয়ে আগুন

news image

খুলনা আদালত চত্বরে গুলিতে ২ জন নিহত

news image

ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ

news image

১ লাখের স্কুটারে জরিমানা ২১ লাখ!

news image

ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কড়াইল বস্তির আগুনের ক্ষতচিহ্ন

news image

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

news image

ফের ভূমিকম্প

news image

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন কি এখানেই শেষ?

news image

শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ

news image

শেখ হাসিনার মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী

news image

রায় শুনে যা বললেন শেখ হাসিনা

news image

হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে বাসে আগুন

news image

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

news image

আ.লীগের মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি

news image

নারীরা ঘরে সময় দিলে, সম্মানিত করবে সরকার: জামায়াত আমির

news image

রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১ জন

news image

ভোরে রাজধানীতে দুই বাসে আগুন