খান শান্ত ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ১১:২৯ এ.এম
ফাইল ছবি।
বছরঘুরে যখন মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ আসে। তখন ঈদের আনন্দ মেতে উঠে সারাদেশ। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারো পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি গিয়েছে লাখো মানুষ। তবে সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতে যেতে পারেনি কিছু পেশাজীবি মানুষ। ঈদের ছুটিতেও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সময় কেটে গেছে তাদের। ঈদের দিনগুলোও তাঁদের জন্য অন্য দিনের মতোই হয় কর্মমুখর। দায়িত্ব পালনের মধ্যেই তাঁদের খুঁজে নিতে হয় ঈদের আনন্দ। আর এসব মানুষদের দেখা মিলে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে।
উৎসব কেমন কাটে চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের? কেমন ছিল তাদের শৈশবের ঈদ, চাকরিতে প্রবেশের পর সেই আনন্দে কতটুকু পরিবর্তন হলো? এবারের ঈদের চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের ঈদ আনন্দের একাল-সেকাল তুলে এনেছে নবীন নিউজ।
তাই সরেজমিনে কেমন কাটছে তাদের ঈদের দিনগুলো তা দেখতে এই প্রতিবেদকের যাত্রা রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ঘড়ির কাটায় তখন দুপুর ১টা। প্রবেশ গেট দিয়ে সোজা অভ্যর্থনায়, অসুস্থতার আর কান্নার গোঙানির শব্দ ভেসে আসছে কানে। ইমারজেন্সি বিভাগে এই প্রতিবেদক। ঈদ পহেলা বৈশাখ কোন কিছুরই আভেস নেই। কথা হয় এখানকার দায়িত্বে থাকা কয়েক জনের সাথে। কেমন কাটছে পহেলা বৈশাখ? ঈদে পরিবার নিয়ে বাড়ি গিয়েছেন? পরিবার ছাড়া পহেলা বৈশাখ কেমন লাগছে?
এ বিষয়ে ইমার্জেন্সিতে থাকা সিনিঃ স্টাফ নার্স মনির হোসেন ভুঁইয়া বললেন, ত্যাগ মানুষের জন্য স্বীকার করছি। ঈদের ছুটি পাইনি। মানুষের ভালোবাসাই আমাদের পহেলা বৈশাখ ঈদ।
একটু ভিন্ন সিনিঃ স্টাফ নার্স মেরি আক্তার ও মোবাশ্বেরের জুটির গল্পটা। তারা দুইজনই কাজ করছেন এই প্রতিষ্ঠানে। মোবাশ্বের বলেন, হাসপাতালটাই যেন এখন একটা পরিবার হয়ে গেছে। এখানে থাকা আসা প্রতিজনকে মনে হয় নিজ পরিবারের একজন।
পাশে থাকা অপর এক সিনিঃ স্টাফ নার্স মনির বলেন, গত ৫ বছর কবে যে ঈদ আার কবে যে বৈশাখ তা ভুলেই গেছি। সারাদিন কাটে অসুস্থতা আর কাটা-ছেঁড়ার সাথে। তাই আনন্দ মনে হয় না। শুধু সবাইকে যেন আল্লাহ ভালো রাখেন এই ফরিয়াদ করি।
অভ্যর্থনা কক্ষ মাড়িয়ে বের হওয়ার পথে কথা হয় নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্য হূমায়ন কবিরের সাথে। তিনি বলেন, আমাদের আর ঈদ, আর পহেলা বৈশাখ। চাকুরি নামে বন্দি হয়ে আছি। গত ৩ ঈদে গ্রামের মানুষের সাথে দেখা নেই। তারপর মানুষকে সাহায্য করলে মনে হয় নিজের পরিবারকে সাহায্য করছি বা তাদের সাথে আছি।
গতকদিন সরেজমিনে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের ঈদ কেমন কাটছে তা দেখতে মুগাদা সোহরাওয়ার্দীসহ রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেছে এই প্রতিবেদক। কথা হয়েছে, চিকিৎসক থেকে হসপিটালের নিরাপত্তার দায়িত্বরত অনেকের সাথে।
এমবিবিএস পাস করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আদিব রহমান জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে যখন পড়েছি তখন শিক্ষকরা প্রায়ই ক্লাসে বলতেন, চিকিৎসক হতে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। অনেক আনন্দ বেদনা নিজের মাঝেই লুকিয়ে রাখতে হয়। এবারের ঈদে পরিবারের অভাব অনুভব করছি। তবুও মানুষের সেবার নিজের আত্মনিয়োগে ভালো লাগা কাজ করছে।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হিসাবে কর্মরত জান্নাতুল ফেরদৌস। ঈদে তিনিও ছুটি না পেয়ে ঈদ করেছেন হাসপাতালে ডিউটিরত অবস্থায়। তিনি বলেন, পরিবার ছাড়া ঈদ আমার কাছে একদম নতুন না। গেল বছরও ঈদের ছুটিতে হাসপাতালে ডিউটি করেছি। পরিবারকে ছাড়া ঈদ করা কষ্ট। কিন্তু মানুষের সেবা করতে পেরে সে আনন্দ ভুলে যাই। ঈদের দিন রোগীদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই। মনেই হয় না পরিবার ছাড়া আছি। কত মানুষ সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যায়। তাদের দেখলেই ভালো লাগে।
ডা. শাহাদাত হোসেন উপধ্যক্ষ অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এসময় তিনি বলেন, ‘আমাদের ঈদ সর্বদায় সাদামাটা কেটেছে। এর অধিকাংশই হাসপাতালে। গত কোভিডকালে ঈদের সময় একজন মহিলা হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আমি লক্ষ্য করলাম ওই মহিলা যদি ভর্তি যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে যায় তাহলে হয়তো তাকে আর ওয়ার্ডেও নেওয়া যাবে না। তখন সেখানে যারা ছিল তাদের বললাম তাকে নিয়ে আগে অক্সিজেন দিতে। দেখলাম তার অক্সিজেন সেঞ্চুরিটি লেভেল শতকরা ৬৪ ভাগে নেমে এসেছে। অক্সিজেন দেওয়ার পর তার লেভেল ৮০ ভাগে উঠে আসলো। কিন্তু কোনোভাবেই তা ৯০ পার না করায় তাকে হাইফ্লোন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হলো। আমাদের তখন কোভিড আইসিইউ ছিল না। পরে তাকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোভিড আক্রান্ত ওই মহিলার ঘটনাটি আমাকে এখনও নাড়া দেয়। কারণ করোনার ওই সময়ে যখন কেউই পিপিই ছাড়া রোগীর সংস্পর্শে যেত না, তখন আমি তার পাশে থেকে যতটুকু পেরেছিলাম সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।’
নবীন নিউজ/পি
ভোট দিতে পারছেন না জিএম কাদের ও আখতারুজ্জামান
আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন: সেনাপ্রধান
বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫ জন
ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার
সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ
মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেফতার ৩ জন
ওসমান হাদীর মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
গুলিবিদ্ধ হাদির সঙ্গে থাকা রাফি জানালেন পুরো ঘটনার বিবরণ
মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় সেই গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার
জামায়াতের ঔষধ হলো আওয়ামী লীগ, বললেন মির্জা আব্বাস
ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা
‘জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে’
শেখ হাসিনার ৫-রেহানার ৭ বছরের জেল, ২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন টিউলিপ
সচিবালয়ে আগুন
খুলনা আদালত চত্বরে গুলিতে ২ জন নিহত
ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ
১ লাখের স্কুটারে জরিমানা ২১ লাখ!
ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কড়াইল বস্তির আগুনের ক্ষতচিহ্ন
দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া
ফের ভূমিকম্প
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন কি এখানেই শেষ?
শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ
শেখ হাসিনার মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী
রায় শুনে যা বললেন শেখ হাসিনা
হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে বাসে আগুন
ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
আ.লীগের মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি
নারীরা ঘরে সময় দিলে, সম্মানিত করবে সরকার: জামায়াত আমির
রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১ জন
ভোরে রাজধানীতে দুই বাসে আগুন