বুধবার ০৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

টানাপড়েনে সময় কাটছে পুলিশের, চেষ্টা জনগণের বন্ধু হওয়ার

নবীন নিউজ ডেস্ক ১২ জানু ২০২৫ ১১:০৮ এ.এম

সংগৃহীত ছবি সংগৃহীত ছবি

পুরো পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মাঝে হতাশা কাজ করছে। এখনো আতঙ্ক কাটেনি বাহিনীটির। এরই মধ্যে হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। থানার মধ্যেই ঘটেছে পুলিশ সদস্যদের আত্মহত্যার মতো ঘটনা।

আবার গ্রেপ্তার পুলিশ কর্মকর্তার খোদ থানা থেকেই পালানোর ঘটনা নানা আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েও। এত প্রতিকূল অবস্থায়ও ট্রমা কাটিয়ে জনগণের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি। 
পুলিশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ সদস্যরা এখনো বিভিন্ন জায়গায় নিগৃহীত হচ্ছেন।

সামাজিকভাবে পুলিশ এখন অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামাজিকভাবে ইমেজ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র শৃঙ্খলাও নাজুক। কে ছাত্রলীগ, কে কার দালাল, কে কার ক্যাশিয়ার— এভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে অনেককে।

সেই সঙ্গে আগের মতো ঘুষ বাণিজ্য না থাকায় জীবনযাপনও করতে পারছেন না আগের স্টাইলে। অবৈধভাবে যারা সম্পদের মালিক হয়েছেন, অনেকের সেসব সম্পদও চলে যাচ্ছে ভোগদখলের বাইরে। ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাগত নানা টানাপড়েনের মধ্যে সময় কাটছে পুলিশের। তবে এত প্রতিকূল অবস্থায়ও ট্রমা কাটিয়ে জনগণের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক, সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তারা নৈতিক সংকটে পড়েছে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো পূর্ণ সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছে না। এ ছাড়া নতুন করে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ার ভয়েও অনেক পুলিশ সদস্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এসব কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে, যা জনজীবনে উদ্বেগ তৈরি করছে।'

তিনি বলেন, 'বিগত সরকারের সময় পুলিশের ভেতরে রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে ক্যাডার তৈরি হয়েছিল। তারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করত না। যখন যা খুশি তা-ই করত। ঘুষ বাণিজ্য থেকে শুরু করে অপহরণ, গুম ও দখল বাণিজ্যে লিপ্ত ছিল। বেপরোয়া জীবনযাপন করত। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের কারণে হঠাৎ ছন্দপতন হয় পুলিশের। কোনোভাবেই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরতে পারছে না। মূলত পুলিশকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে অপরাধ, সেখানেই তাদের উপস্থিতি জানান দিতে হবে। এতে মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি হবে, পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।’

জানা গেছে, পুলিশ বাহিনী থেকে লুট হয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলোর সব এখনো উদ্ধার হয়নি। বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের ধারণা, দুর্বৃত্তদের কাছেই রয়েছে এসব খোয়া যাওয়া অস্ত্র। এসব অস্ত্র দিয়ে দুর্বৃত্তরা অংশ নিচ্ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। আবার অপরাধ দমনসংশ্লিষ্ট নানা অভিযানে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হতে পারছেন না পুলিশ সদস্যরা। এখনো ভুগছেন অজানা আতঙ্কে। 

গত সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামে পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের সামনে কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন মারধরের শিকার হয়েছেন। কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিএনপির অসংখ্য সভা-সমাবেশ ভণ্ডুল করার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের হয়রানি, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

৯ জানুয়ারি শরীয়তপুরের জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমিন তার নিজ কক্ষে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর এবার জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান। তৎকালীন পতিত সরকার পুলিশকে তাদের নিজেদের নানা অপকর্মে ব্যবহার করেছে। বড় একটা পরিবর্তন আসায় পুলিশের মাঝে ভয়-আতঙ্ক কাজ করছে। তবে বর্তমান সরকার নানা চেষ্টা করে যাচ্ছে পুলিশের ভেঙে পড়া ইমেজ ফিরিয়ে আনার। বেশ ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছেও। তবে এ জন্য দরকার একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উচিত হবে ঘন ঘন বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শনে যাওয়া। স্থানীয় সম্মানিত এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে বৈঠক করে পুলিশ সদস্যদের আশ্বস্ত করা। এতে তৃণমূলে এবং বিভিন্ন ইউনিটে কাজ করা পুলিশ সদস্যরা নানা বিষয়ে অ্যাসিউর এবং রিঅ্যাসিউর হবেন।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত সরকার আমলে পুলিশের বেপরোয়া হামলা-মামলার শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ। ঘুষবাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের ফলে তাদের জীবনযাপনও ছিল বেপরোয়া। জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশে আগের মতো ঘুষ বাণিজ্য না থাকায় তারা আগের মতো জীবনযাপন করতে পারছে না। অনেকেই তাদের অবৈধ সম্পদ ভোগদখল করতেও পারছেন না। 

অনেকের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনা করছে। কঠোর নজরদারির কারণে তাদের কাছে খরচও পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না কেউ কেউ। অনেক পুলিশ সদস্য তারই সহকর্মীর দ্বারা ট্রলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। তবে পুলিশের ভয়ংকর প্রভাবশালী এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে; কিন্তু তাঁদের অধীনে কর্মরত জুনিয়র সদস্যদের মাঝে নানা হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই এখনো কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না। বিশেষ করে আগের সেই বেপরোয়া পুলিশ থেকে ভালো পুলিশের ইমেজ ফিরিয়ে আনার নানা উদ্যোগও যেন খুব একটা কাজে আসছে না। এখনো অজানা আতঙ্ক এবং হতাশা কাজ করছে পুলিশ সদস্যদের মাঝে।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে ও পরে হতাহতসহ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে পুলিশ। ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহতসহ অসংখ্য সদস্য আহত হন। থানা ও পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হয় অস্ত্র-গুলি। ভয়ে গাঢাকা দেন অনেক পুলিশ সদস্য। দেশ ছাড়েন কেউ কেউ। 

এখনো ১৮৭ পুলিশ সদস্য কাজেই যোগ দেননি। অনেকে যোগ দিয়েও নিয়মিত অফিস করছেন না। অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। অনেকে আবার গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন। পুলিশের প্রতি মানুষের অবহেলা প্রতিনিয়ত ফুটে উঠছে। পুলিশের কথা কেউ শুনতে চাচ্ছে না। সামাজিকভাবেও পুলিশের ইমেজ নষ্ট হয়ে গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (অপারেশনস) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের মাঝে মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য মোটিভেশনাল উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্পৃক্ত করা হচ্ছে সুশীল সমাজকে। সদর দপ্তরসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং দেশের সব থানায় আগের মতো স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে।'

পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা অনেক বিষয়ের ওপর সুপারিশ করছি। এগুলো এখনো লেখার কাজ চলছে। তবে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য জনগণ পুলিশকে বিশ্বাস করবে। জনগণকে রক্ষা করার জন্য পুলিশ সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। ঔপনিবেশিক আমলের ধারণাটা পরিবর্তন করে পুলিশকে কল্যাণমূলক বাহিনী হিসেবে তৈরির সুপারিশ করা হবে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

নবীন নিউজ/পি

এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ভোট দিতে পারছেন না জিএম কাদের ও আখতারুজ্জামান

news image

আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন: সেনাপ্রধান

news image

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫ জন

news image

ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার

news image

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ

news image

মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেফতার ৩ জন

news image

ওসমান হাদীর মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

news image

গুলিবিদ্ধ হাদির সঙ্গে থাকা রাফি জানালেন পুরো ঘটনার বিবরণ

news image

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় সেই গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার

news image

জামায়াতের ঔষধ হলো আওয়ামী লীগ, বললেন মির্জা আব্বাস

news image

ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা

news image

‘জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে’

news image

শেখ হাসিনার ৫-রেহানার ৭ বছরের জেল, ২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন টিউলিপ

news image

সচিবালয়ে আগুন

news image

খুলনা আদালত চত্বরে গুলিতে ২ জন নিহত

news image

ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ

news image

১ লাখের স্কুটারে জরিমানা ২১ লাখ!

news image

ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কড়াইল বস্তির আগুনের ক্ষতচিহ্ন

news image

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

news image

ফের ভূমিকম্প

news image

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন কি এখানেই শেষ?

news image

শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ

news image

শেখ হাসিনার মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী

news image

রায় শুনে যা বললেন শেখ হাসিনা

news image

হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে বাসে আগুন

news image

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

news image

আ.লীগের মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি

news image

নারীরা ঘরে সময় দিলে, সম্মানিত করবে সরকার: জামায়াত আমির

news image

রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১ জন

news image

ভোরে রাজধানীতে দুই বাসে আগুন