নবীন নিউজ, ডেস্ক ১০ সেপ্টেম্বার ২০২৪ ১২:২৬ পি.এম
ঢাকার শেরে বাংলা নগরে বিশাল জায়গা জুড়ে যে স্থাপনাটি 'গণভবন' নামে পরিচিত সেটি নিয়ে বিতর্ক বেশ পুরনো। দেশের যত সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন তাদের মধ্যে শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই গণভবনে বসবাস করেছেন। এছাড়া অন্য কোনো সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধান সেখানে বসবাস করেননি। যদিও নানাবিধ রাষ্ট্রীয় কাজে গণভবন ব্যবহৃত হয়েছে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সময় গণভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে বসবাস করতেন না। তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে, যেটি পরবর্তীতে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর’ করা হয়েছিল।
২০০১ সালে শেখ হাসিনা তখন বলেছিলেন, শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট থাকাকালে গণভবন অফিসের কাজে ব্যবহার করতেন। মূলত বিকেল-সন্ধ্যাকালীন অফিস হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো। শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর এই গণভবন অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল বলে জানা যায়।
জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় ১৯৮৫ সালে গণভবন সংস্কার করে সেটিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন 'করতোয়া' নামকরণ করা হয়। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের জন্য এই অতিথি ভবন ব্যবহার করা হতো। এই ভবনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ঢাকা সফরের সময় অবস্থান করেছিলেন বলে জানা যায়। এরপর অতিথি ভবন 'করতোয়া' রাষ্ট্রীয় কাজে কিছু ব্যবহার হয়েছিল।
কিন্তু ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা গণভবনে বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতা থাকার সময় ২০০১ সালের ২০শে জুন জাতীয় সংসদে ‘জাতির পিতার পরিবার সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন ২০০১’ সংসদে পাশ হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে তার ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা ছিল। এই আইনে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে আজীবন এসএসএফ দ্বারা নিরাপত্তা দেয়া, পৃথক আবাসন বরাদ্দ ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়।
২০০১ সালের দোসরা জুলাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনাকে গণভবন বরাদ্দ দেয়া হয়। এই আইনের ক্ষমতাবলে শেখ হাসিনাকে গণভবন এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে ধানমন্ডির ছয় নম্বর সড়কে এক বিঘার একটি সরকারি বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়। তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে পূর্ত মন্ত্রণালয় বাড়ি বরাদ্দের প্রস্তাব উত্থাপন করে।
সেখানে বলা হয় গণভবন তার ব্যক্তি মালিকানাধীন হবেনা, সরকারি মালিকানাধীনই থাকবে। শেখ হাসিনাকে গণভবন বরাদ্দ দেবার কারণ হিসেবে তার নিরাপত্তার বিষয়টিকে উল্লেখ করা হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, শেখ হাসিনা গণভবনে থাকবেন এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা ১৯৮১ সালে ১২ জুন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী খালেদা জিয়া যেসব সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন সেগুলো পাবেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, শেখ রেহানা তার নামে বরাদ্দ করা সরকারি বাড়িতে বসবাসের উপযোগী লোকবল ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। লোকবলের মধ্যে একজন গাড়ি চালক, ব্যক্তিগত সহকারী, বাবুর্চি, মালি, ঝাড়ুদার ও দুইজন বেয়ারার থাকবে। এছাড়া জ্বালানিসহ একটি গাড়ি, সরকারি খরচে টেলিফোন, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল দেয়া হবে।
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না থাকলেও গণভবনে বসবাসের জন্য যে বরাদ্দ নিয়েছিলেন, সেটি নিয়ে তখন বেশ বিতর্ক তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি শোরগোল তৈরি হয় বিএনপির তরফ থেকে। এই বরাদ্দ দেবার কিছু দিন পরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে শেখ হাসিনার গণভবনে থাকা নিয়ে আপত্তি তোলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনা যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে তিনি গণভবনে থাকতে পারেন। তাতে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু শেখ হাসিনা যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান তাহলে গণভবন ছাড়তে হবে।
তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণভবন বরাদ্দ দেবার বিষয়টিকে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নেয় বিএনপি। তখন তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নিলে মামলা দায়ের করা হবে।
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্ব তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেবার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নিরাপত্তা আইন ও গণভবন বরাদ্দের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করে বিএনপি। দলটির তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া এ রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন। এই রিট আবেদন দায়ের করার কয়েকদিনের মধ্যে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করে।
বিএনপি তাদের রিট পিটিশনে উল্লেখ করেছিল, ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগনের নিরাপত্তা আইন’ বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক। এই আইনটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়। বিএনপি যুক্তি দিয়েছিল যে আইনটি দেশের সকল নাগরিকের বিপরীতে কেবল দুইজনের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
রিট পিটিশনে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এই আইন বলবৎ থাকলে আওয়ামী লীগ প্রাধান্য পাবে। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ কলুষিত হবে। যদিও এই রিট নিয়ে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।
এরই মধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও হয়ে যায়। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এরপর ডিসেম্বর মাসে ‘জাতির পিতার পরিবার সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন ২০০১' বাতিল করা হয়।
ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের পটভূমিতে শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে দেন।এরপর ২০০১ সালে ১৬ অগাস্ট তিনি গণভবন ছেড়ে যান।
শেখ হাসিনা যখন গণভবন ছেড়ে যাচ্ছিলেন তখন তিনি বিএনপি নেতা খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি ছেড়ে দেবার আহবান জানান। গণভবন ছাড়ার সময় শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের আরো বলেছিলেন, “বাড়ি নিয়ে এতো কথা শুনতে ভালো লাগে না। নেই নাই, নিলাম না।”
২০০১ সালে শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে যাবার পর কয়েক বছর সেটি আর ব্যবহৃত হতে দেখা যায়নি। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা প্রথমে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠেছিলেন। গণভবণ সংস্কার শেষে ১৪ মাস পরে ২০১০ সালের মার্চ মাসে শেখ হাসিনা সেখানে বসবাস করা শুরু করেন।
শেখ হাসিনার শাসনামলের বেশির কাজ গণভবন থেকে পরিচালিত হতো। বিশেষ করে ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর তেঁজগাও এলাকায় অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি খুব একটা অফিস করেননি। গণভবনে বসেই তিনি সরকারি কাজ এবং দলীয় বিভিন্ন সভা করেছেন।
গত ৫ আগস্ট যখন ছাত্র-জনতা গণভবনের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করে, তখন তিনি এই গণভবন থেকে রওনা দিয়ে কুর্মিটোলা বিমানবন্দর দিয়ে ভারতে চলে যান।
নবীন নিউজ/জেড
ভোট দিতে পারছেন না জিএম কাদের ও আখতারুজ্জামান
আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন: সেনাপ্রধান
বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৫ জন
ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার
সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ
মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ গ্রেফতার ৩ জন
ওসমান হাদীর মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
গুলিবিদ্ধ হাদির সঙ্গে থাকা রাফি জানালেন পুরো ঘটনার বিবরণ
মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় সেই গৃহকর্মী ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার
জামায়াতের ঔষধ হলো আওয়ামী লীগ, বললেন মির্জা আব্বাস
ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা
‘জাতীয় নির্বাচন-গণভোট ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে’
শেখ হাসিনার ৫-রেহানার ৭ বছরের জেল, ২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন টিউলিপ
সচিবালয়ে আগুন
খুলনা আদালত চত্বরে গুলিতে ২ জন নিহত
ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ
১ লাখের স্কুটারে জরিমানা ২১ লাখ!
ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কড়াইল বস্তির আগুনের ক্ষতচিহ্ন
দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া
ফের ভূমিকম্প
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন কি এখানেই শেষ?
শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ
শেখ হাসিনার মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী
রায় শুনে যা বললেন শেখ হাসিনা
হাজারীবাগ বেড়িবাঁধে বাসে আগুন
ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
আ.লীগের মামলা তুলে নেয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি
নারীরা ঘরে সময় দিলে, সম্মানিত করবে সরকার: জামায়াত আমির
রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১ জন
ভোরে রাজধানীতে দুই বাসে আগুন